ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

সমকামিতা বাংলাদেশে আছে। অপ্রিয় হলেও সত্য বাংলাদেশে অনেক প্রাচীনকাল থেকেই এই সমকামিতা চালু আছে। কিন্তু ধর্ম, সামাজিক অনুশাসন আর চক্ষুলজ্জার জন্যে প্রকাশিত ব্যাপার নয়। বাংলাদেশে শুধুমাত্র যে পুরুষ সমকামিতা আছে তাই নয় নারীদের মধ্যেও এই সমকামিতার প্রচলন আছে বলেই প্রমানিত হয়েছে। আমাদের দেশে এবং সমাজে যে ধর্মের অনুসারীই হোক না কেনো এই সমকামিতা কখনোই গ্রহনযোগ্যতা পায় নাই এবং পাবেও না। তারপরেও বিশ্বের কিছু দেশে যখন সমকামি বিয়ের ব্যাপারে স্বীকৃতির খবর প্রকাশ হয় তখন বংলাদেশেও এর প্রভাব কিছুটা পরে। অনেক সামাজিক মাধ্যমের বন্ধুরা তাদের প্রোফাইল পিকচারের রঙ পরিবর্তন করে রামধুনু রঙ্গে রাঙ্গিয়েছেন। কেনো এই রঙ তিনি ব্যবহার করেছেন তা উনারাই জানেন। তবে এই রামধনু রঙের অর্থ হলো নিজেকে সমকামি হিসেবে প্রকাশ করার একটি সিম্বল। অবশ্য এখানে মনে হয় যারা এই রঙ্গে নিজেকে রাঙ্গিয়েছেন তারা নিজেরা সমকামি না হলেও সমকামি বিয়েকে স্বাগত জানাতেই নিজেদের তাদের রঙ্গে রাঙ্গিয়েছেন।

সেদিন আলাউদ্দীন ভাই সুন্দর ভাবে তার লেখায় এই সমকামিতা নিয়ে আমাদের এই উপমাহাদেশের প্রেক্ষিত বর্ণনা করেছেন। সেই আদি সনাতন ধর্ম থেকে শুরু করে মুসলমান দের আচার আচরন এবং বিধি নিষেধ সব কিছুই তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়েছেন। আমার তাঁর এই লেখাটি পরে অনেক ভালো তো লেগেছেই এবং অনেক জ্ঞানের ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করতে পেরেছি।

আসলে সৃষ্টির আদিকাল থেকে যৌনাচারের ক্ষেত্রে বিকৃতি রীতিনীতি চালু হয়ে এসেছে। শুধুমাত্র সমকামিতাই নয় পশ্বাচারও আমাদের দেশে নতুন কিছু নয়। প্রায় সংবাদ মাধ্যম গুলোতে পশুর সাথে যৌনাচার করার খবর বের হয় বা আগে যখন সংবাদ মাধ্যম গুলোর এতো প্রসারতা ছিলো না তখনো ইউনিয়ন কাউন্সিলের বিচারসভায় এইসব বিষয়ে বিচার আচার হতো।

আমাদের দেশে ইদানীং বেশ কিছু শহরে ছেলে শিশু রাস্তায় দেহব্যবসার জন্যে ঘুরে বেড়ায়। ঢাকা শহরের বেশ কিছু অঞ্চলে এদের পদচারনা আছে। এই জিনিষ তাও আজ থেকে পনেরো বিশ বছর আগে কল্পনাই করা যেতো না। বেশ কিছু দিন আগে বাংলাদেশের একটি বহুল প্রচারিত সংবাদ পত্রে এদের সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে। বেশ কিছু এন,জি,ও ইদানীং এইসব পথশিশুদের নিয়ে কাজ করছে। বিশ্বের বিভিন্ন ঘটনা দুর্ঘটনা গুলো আমাদের সব দেশেই কিছু না কিছু প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়। সমকামি বিয়েও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হয় নাই। তবে এই বিষয় নিয়ে এতো মাতামাতি বা ভয় পাওয়ারও কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখি না।

আগেই বলেছি আমাদের দেশে সমকামি বিয়ের স্বীকৃতি আসার পর থেকে বেশ কিছু ভাই এই ব্যাপার নিয়ে মাতামাতি শুরু করে দিয়েছেন। আমার কাছে মনে হয় এটা নিয়ে মাতামাতি করার কোন নতুনত্ব নেই। আমরা স্বীকার করি আর না করি আমাদের দেশে এই সমকামিতা শুধু আছেই না বরঞ্চ অন্যান্য দেশের চাইতে বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে এই সমকামিতা অত্যন্ত ব্যাপকভাবে চালু আছে। বিভিন্ন আবাসিক স্কুল, মাদ্রাসা এবং টোল গুলোতে এই সমকামিতার হার অনেক বেশি। তবে এক্ষেত্রে সমকামিতা না বলে এটাকে যৌন নির্যাতন বলাই ভালো। স্কুল, মাদ্রাসা বা টোলের শিক্ষক, সিনিয়র ছাত্র দ্বারা ছেলে শিশুদের যৌন নির্যাতনের ঘটনা কারো কাছেই অজানা নয়।

আমাদের দেশের সমস্যা সমকামিতা নয়। আমাদের দেশের সমস্যা হলো যৌন নির্যাতন। যৌন নির্যাতন হচ্ছে মেয়েদের উপড়, যৌন নির্যাতন হচ্ছে ছেলে শিশুদের উপড়। অভাবের তাড়নায় যৌনদাশ বা দাশীতে পরিনত করা হচ্ছে অসংখ্য ছেলে মেয়ে কে। রাস্তায় যে শিশু একদিন বা দুদিন অভাবের তাড়োনায় ঘুরছে তারাই কিছুদিনের মধ্যে যৌনকর্মী তে পরিনত হচ্ছে। ঢাকা শহরে একদিন ঘরলেই এর ব্যপকতা চোখে পরে। আমাদের সকলের সামর্থ্য অনুযায়ী এইসব অনাচারের বিরুদ্ধে দাড়াতে হবে। উন্নত বিশ্বে নিজেদের মতামতের সন্মানকে অক্ষুন্ন রেখে পরস্পর পরস্পরের প্রতি সমকামে আকৃষ্ট হয় আর আমাদের দেশে এই সমকামীতা পরস্পরের সম্মতির অপেক্ষা রাখে না। এখানে প্রভাব প্রতিপত্তি আর টাকার বিনিময়ে বাধ্য করা হয় সমকামে।