ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

রমজান এলেই আমাদের দেশে কয়েকটি ব্যাপারে আগে থেকেই সবাই ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পরে। এক, দ্রব্যমূল্যের উদ্ধগতি, দ্বিতীয়ত যানজট এবং তৃতীয়ত রাজনৈতিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংঘটন গুলোর ইফতার পার্টি। প্রথমটায় এদেশের মানুষ প্রতিবছরের মতো একটু সাবধানী হয়ে আগে থেকেই কিছু কিছু কেনাকাটা করে বাঁচবার চেস্টা চালিয়ে যায়। ইদানীং অবশ্য যেভাবে দ্রব্যমুল্যের আকাশ্চুম্বী দাম হওয়ার কথা সেরকম হচ্ছে না। কিছুটা উদ্ধগতি থাকলেও দুই এক রোজার মধ্যেই তা সহনীয় পর্যায়ে চলে আসে। এ বিষয়ে অবশ্যই বর্তমান সরকারের কিছুটা হলেও সাফল্য আছে।

দ্বিতীয় হচ্ছে যানজট। ঢাকা শহর এমনিতেই এখন সারা বছরের জন্যে যানজটের শহরে পরিনত হয়েছে। ঢাকা শহর এবং যানজট এখন সমার্থক হয়ে দাড়িয়েছে। কিছুদিন আগে ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ধোনী এবং তার সফর সঙ্গীরা বলেছে বাংলাদেশের অনেক কিছু তাদের কাছে ভালো লেগেছে। ঢাকা শহরকেও তারা সুন্দর বলতে দ্বিধা করেন নাই কিন্তু সমস্যা একটাই, সেটা হলো বড্ডো জ্যাম। ট্রাফিক জ্যাম। ঢাকা শহরের ট্রাফিক জ্যাম মানেই বসে থাকা ঘন্টার পর ঘন্টা। প্রতিদিন যত ঘন্টা জনশ্রম ঘন্টা অপচয় হচ্ছে এই ট্রাফিক জ্যামের কারনে তাতে করে সেই জন শ্রমঘন্টার পয়সায় দুইটা পদ্মা সেতু করা যায় অনায়াসে। সেই ট্রাফিক জ্যামের শহরে যখন রমজান আসে তখন যেন মনে হয় ট্রাফিক জ্যামের আকার আরো বড়ো হয়ে যায়। সকাল আটটা থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত এই ট্রাফিক জ্যাম। এই দ্বিতীয় সমস্যার সাথে যোগ হয়েছে তৃতীয় সমস্যা। রমজান আসলেই ঢাকা শহরের জ্যামে বোনাস যোগ হয়। প্রত্যেক মানুষের তাড়া থাকে কাজে পউছানোর এবং কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে যাওয়ার। সেই সাথে যোগ হয় ঈদের কেনাকাটার জন্যে বের হওয়া মানুষজনদের ভিড়।

তৃতীয়ত হলো রাজনৈতিক ও সামাজিক সংঘটন সহ বিভিন্ন ক্লাব প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত ইফতার পার্টি। আমাদের দেশে এখন এই ইফতার পার্টির চল খুব জোড়েশোরে চালু হয়েছে। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সংদদের বিরোধীদল, সংসদের বাহিরের বিরোধীদল প্রায় সব রাজনৈতিক দলেরই এখন বাৎসরিক কর্মসূচীর মধ্যে এই ইফতার ঢুকে পরেছে। এই ইফতার পার্টিগুলোতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেনীপেশার নেতৃস্থানীয় লোকেদের সমাদার বেশী। বুদ্ধিজীবিরা আছেনই। এনারা নিজেদের মতাদর্শের প্লাটফর্মের ইফতার পার্টিগুলোতে যোগ দিয়ে নিজেদের আনুগত্য প্রকাশ করেন। এব্যাপারে সাধারন মানুষের কোন আপত্তি নেই বা থাকার কথার না।

সাধারনের আপত্তি হলো সেই জায়গায় যখন এইসব ইফতার পার্টিগুলোর জন্যে সাধারন মানুষকে রাস্তায় ইফতারি করতে হয়। গত কয়েকদিন ধরে প্রধানমন্ত্রীর আবাসস্থল গনভবনে প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত ইফতার পার্টির জন্যে ঢাকা শহরের একাংশকে প্রায় অচল থাকতে হয়েছে। নিউমার্কেট থেকে শুরু করে গোটা ধানমন্ডী মোহাম্মদপুর শ্যামলী আগারগাও এবং ফার্মগেট সহ বিস্তীর্ণ এলাকা যানজটের কবলে পরে স্থবির হয়ে যায়।অফিস ফেরত মানুষকে ঘন্টার পর ঘন্টা বাসের মধ্যে গরমে সিদ্ধ হয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে। এই অপেক্ষার ক্ষনটি এতোই দীর্ঘ ছিলো যে যারা ভাগ্যবান তারা কোনরকমে বাসায় পৌছতে পেরেছে।আর বাকী হাজার হাজার মানুষকে জ্যামের মধে গরমে সিদ্ধ হতে হতে বাসের মধ্যেই মুখে পানি দিয়ে ইফতারী সারতে হয়েছে। এই অবস্থা শুধু একদিনের জন্যে নয় যেদিন থেকে গনভবনে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার পার্টি শুরু হয়েছে সেদিন থেকেই এই অঞ্চলের ট্রাফিক জ্যামের এই চালচিত্র।

শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর ইফতারি পার্টি নয়, যে যে অঞ্চলে বিএনপি বা বেগম খালেদা জিয়ার ইফতার পার্টি থাকে সেই অঞ্চলেও কমবেশি এই ধরনের ট্রাফিক জ্যামের মুখোমুখি হতে হয়। ইফতার পার্টি গুলোতে আমন্ত্রিত অথিতির সংখ্যা সরবোচ্চ পাঁচ হাজার কিন্তু ভোগান্তিতে পরতে হয় লক্ষাধিক মানুষ কে। এই পাঁচ হাজার মানুষ যেমন রাজনৈতিক দলগলোর কাছে মুল্যবান ঠিক তার চাইতে অনেক বেশী মুল্যবান রাস্তায় আটকে যাওয়া লক্ষাধিক মানূষ। ইফতারের সময় বাসায় যেয়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে ইফতার না করার কষ্ট এর কথা মানূষ সহজে ভুলতে চায় না। এই গরমে সারাদিনের খাটূনীর পরে মানুষ চায় সন্ধ্যায় বাসায় যেয়ে স্বজনদের সাথে ইফতার করতে। কিন্তু সেই আশায় যখন গুড়েবালী পরে তখন যত উন্নয়নের গল্পই বলেন মানুষ সেই গল্পে মজতে চায় না। ইফতারের পার্টি অবশ্যই হবে কিন্তু সেই পার্টির জন্যে যেনো সাধারনের কষ্ট না হয় সেই ব্যবস্থা আগে নিতে হবে। রাস্তা বন্ধ রেখে, বা বিকল্প রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। বরঞ্চ ইফতার পার্টির স্থান বদলের সিদ্ধান্ত অনেকবেশি কার্যকর।