ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

গত কয়েক বছর আগেও আমাদের মনে ভয় ছিলো আষাঢ়ের ঝরঝর বৃষ্টির দিন মনে হয় আর ফিরে পাবো না। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম আমাদের কবি সাহিত্যিক দের লেখা বর্ষার গান কবিতাগুলো নিয়ে হয়তো আমাদের সাথে তামাশা করবে। গত দুই বছরে অবশ্য সেই অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আষাঢ় মাসের বৃষ্টি এখন আবার আষাঢ় মাসেই হচ্ছে।

বৃষ্টি হয়েছে প্রতি বছরেই। কিন্তু সেই আষাঢ় মাসের বৃষ্টি আমরা অনেকদিন দেখি নাই। বৃষ্টি হয়েছে আষাঢ় শ্রাবনে নয়, হয়েছে ভাদ্র অগ্রাহায়নে বা আরো পরে। গত দুই বছরে আমরা অল্প করেও হলেও দেখছি এবং সেই ঝরঝর বৃষ্টির নষ্টালজিক স্মৃতিতে আক্রান্ত হচ্ছি। এবার পুরো রমজান মাসটাই আষাঢ় মাসে পড়ায় রোজাদারদের জন্য যেমন রহমত হয়ে এসেছে। ঠিক তেমনি যারা ঈদের সময় বানিজ্যের আশায় সারা বছর অপেক্ষা করে থাকে তাদের এই বৃষ্টি সুখকর সময় বয়ে আনে নাই।

আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষ নিম্নবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর। এই শ্রেণির লোকেদের ঈদের বাজার হলো ফুটপাতের রঙ্গীন পসরা। এই ফুটপাতের জামা-কাপড় দিয়েই আমাদের দেশের সীমিত আয়ের মানুষের ঈদ কেনাকাটা চলে। অপরদিকে এই ফুটপাতের বিক্রেতাদেরও সারা বছরের বিক্রয় বানিজ্যের একটি বিশেষ অংশ এই ঈদকে কেন্দ্র করেই তৈরী হয়। এবার আষাঢ় মাসের বৃষ্টি ফুতপাতের ক্রেতা বিক্রেতাদের মাঝে এক অনিশ্চিয়তা এনে দিয়েছে। গত দুই তিন দিনের সারাদিনের বৃষ্টি মানুষের ঈদের বাজারের ঢল কে কিছুটা হলেও বিঘ্নিত করেছে। শুধুমাত্র গত দুইদিনের বৃষ্টিই নয় গত কয়েকদিন আগেও এমন অবিরাম বৃষ্টির কবলে পড়েছিলো ঈদের বাজার।

গাউসিয়া, নিউ মার্কেট, গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী, ফার্মগেট এবং মিরপুরসহ সারা ঢাকা শহরের ফুটপাতের কেনাবেচার অবস্থা একেবারেই করুণ। এই আষাঢ়ে দিনে কখন বৃষ্টি আবার কখন রোদ সেই অনিশ্চয়তায় ফুটপাতের দোকান খোলা আর বন্ধ করতেই অধিকাংশ সময় চলে যাচ্ছে। হয়তো দোকানী তার পসরা সাজিয়ে বসেছেন ঠিক সেইসময় বৃষ্টির হানা, আবার সেই বৃষ্টি কে উপেক্ষা করে যখন ক্রেতা দোকানীর সামনে এলেন তখন সেই দোকানদার তার পসরা দেখাতে পারেন না। পলিথিনের আবরনে ঢাকা তার সঞ্চিত পসরা দেখাতে গেলেই বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। শুধুমাত্র ঢাকা শহর নয় এই বৃষ্টি সারা দেশব্যাপী। ঢাকা শহরের মতো মফস্বল শহরগুলোতেও এখন বাজারের প্রধানতম জায়গা হলো ফুটপাত। বর্তমানে এই ফুটপাতকে কেন্দ্র করেই বাংলাদেশের ব্যবসা বানিজ্য অনেকটাই আবর্তিত হচ্ছে। বৃষ্টির হানায় সেখানেও ঈদের মার্কেট নাস্তনাবুদ।

তবে কি এবারের ঈদকে আষাঢ়ে ঈদ বলবো। তাতো হবে না। প্রথমত ঈদ হলো মুসলমানদের অন্যতম খুশির দিন। সেই খুশির দিনকে তো আর আষাঢ়ে বলা যাবে না। আমাদের দেশে যখন কেউ উদ্ভট ধরনের বা গাজাখোরি গল্পের অবতারনা করেন বা ধুম বৃষ্টির দুপুরে ভুতের গল্পের অবতারনা করেন তখন আমরা সেই গল্পগুলোকে আষাঢ়ে গল্প হিসেবেই আখ্যায়িত করে থাকি। কিন্তু ঈদ এবং তার সওদা তো আর আষাঢ়ে গল্প নয়। ঈদের কেনাকাটা হচ্ছে আমাদের সামাজে এখন অতিব প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ। সেই অনুষঙ্গকে আষাঢ়ে গল্প বলে আটকে দেওয়া যুক্তিসঙ্গত না হলেও আষাঢ়ে বৃষ্টি কিন্তু ক্রেতা বিক্রেতা উভয়কেই আটকে দিচ্ছে মাঝে মাঝেই। এরপরেও ফুটপাতের দোকানিদের বিক্রয় বানিজ্য ভালো হোক, ক্রেতারা তাদের পছন্দের জিনিষ তাদের প্রিয়জনের হাতে তুলে দিক নির্বিঘ্নে এই প্রত্যাশা আমাদের সবার,

সবার ঈদ আনন্দময় হোক।