ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

ঈদের ছুটি আর দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু আমাদের দেশে একে অন্যের পরিপুরক হয়ে উঠছে। গত চার/পাচ দিনের ঈদের ছুটিতে বাংলাদেশে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় অর্ধশতাধিক। সেই সাথে আহত হয়েছেন প্রায় ৬০ জনের অধিক। ঈদ আমাদের দেশে মুসলমান সম্প্রদায়ের জন্য এক খুশীর সময় হিসেবে বিবেচিত হলেও প্রতিবারি এর বিড়ম্বনায় পড়তে হয় সাধারন মানুষ কে। ঈদের খুশীকে কেন্দ্র করে নাড়ীর টানে ছুটে চলা মানূষ প্রতিবারই ঘরে ফিরতে প্রশ্নের সমুক্ষীন হয়। সেই প্রশ্নটি হলো জীবন নিয়ে বাসায় ফিরতে পারবে কি? আবার সুস্থ্য সবল শরীরে ফিরে আস্তে পারবে কি কর্মস্থলে। আমাদের জাতীয় অর্থনীতির এক বড়ো নির্ভরতা শহর কেন্দ্রিক বিশেষ করে ঢাকা নগরকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। যদিও কৃষিই এখন পর্যন্ত আমাদের দেশের মুল অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি কিন্তু এই কৃষকের সন্তানেরা যখন পড়ালেখা করে কাজের সন্ধানে বের হয় তখন স্বাভাবিকভাবেই ঢাকাই হয়ে উঠে মুল কেন্দ্রবিন্দু। ক্ষমতা হোক, চাকরী হোক, ব্যবসা হোক কি অন্য যাই কিছু হোক না কেনো ঢাকা নগরকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে আমাদের সকল সুযোগ সুবিধা।

স্বাভাবিকভাবেই গ্রাম গঞ্জ থেকে ছুটে আসা মানুষ ঈদের ছুটিতে ছুটে চলে গ্রামের বাড়িতে হৃদয়ের টানে, স্বজনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে। এই আনন্দকে ভাগাভাগি করে নিতে যেয়েই প্রতিবছর আমাদের দেশে সড়ক আর নৌ পথে যাত্রীদের অত্যধিক চাপে ঘটছে দুর্ঘটনা। সাধারন পরিবহনের স্বল্পতা, ফিটনেস বিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রি বহন, পুরানো ঝরঝরে রঙ করা লঞ্চ আর বেপরোয়া গাড়ি চালনাই এইসব দুর্ঘটনার মুল কারণ। দুর্ঘটনার কারণ এইসব কারঙুলো আমাদের কারোরই অজানা নয়। কিন্তু তবুও আমাদের দেশে ঈদের মৌসুমে প্রতিবার দুর্ঘটনা লেগেই আছে এবং প্রতিবারই শতাধিক মানুষকে প্রাণ দিতে হয় রাস্তা ঘাটে অথবা সলিল সমাধিতে। দুরঘটনা রোধে প্রতিবারই আমাদের দেশের যথাযথ কর্তৃপক্ষ অনেক প্রইকল্পনা গ্রহন করে থাকেন, আমাদের সবাইকে আশ্বস্ত করেন যে এবার নিরাপদে ঈদের যাত্রা শুরু হবে এবং সবাই সহি সালামতে গ্রাম থেকে ফিরে আসবে।

গাড়ী, বাস বা লঞ্চ জাহাজ থাকলে দুর্ঘটনাও থাকবে এটা সবাই জানেন। কিন্তু সেই দুর্ঘটনার কারণ যখন যথাযথ কর্তৃপক্ষ বা বা এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ির করণে হয় তখনই মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে।

এবার ঈদের বাড়ী থেকে ফিরে আসার যাত্রা শেষ হয় নাই এখনো কিন্তু এরিমধ্যে দুর্ঘটনায় প্রান হারিয়েছে ৪২জন মানুষ। আহত হয়েছে প্রায় ৬০ জনের মতো। আমরা আশা করছি এই প্রাণ হানির মধ্যেই যেনো শেষ হয় ঈদ জনিত যাওয়া আসার মাঝে দুর্ঘটনার ইতিবৃত্ত। আমাদের সবার প্রত্যাশা এবার যেনো লঞ্চ দুর্ঘটনার মতো মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি। শত শত মানুষের লাশ নদীতে ভাসছে এই ভয়াবহ দৃশ্যের ছবি যেনো সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম না হয় সেই প্রত্যাশা বাংলাদেশের আপামর মানুষের।

ইদানীং কিছু কিছু সময় আমরা শুনতে পাই বিকেন্দ্রীকরনের কথা, ঢাকা নগরের মধ্যে অবস্থিত গার্মেন্টস কারখানা গুলো নগরের বাহিরে স্থানান্তরের কথা। এই পরিকল্পনা গুলোকে বাস্তবায়নের এখনি সময়। এই বিকেন্দিকরন এবং স্থানান্তরের মধ্য দিয়েই আমরা যেমন ঢাকা নগরের দৈনন্দিন টাফিক জ্যামের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারি তেমনি ঈদের সময় বাড়ী ফেরা এবং ফিরে আসার সময় যে মর্মান্তিক সড়ক ও নৌ দুর্ঘটনায় প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে সেইসব দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে পারি।