ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

বাংলাদেশ প্রতিদিনের উপসম্পাদকীয় পাতায় বেশ কিছুদিন থেকেই তসলিমা নাসরিন লিখে আসছেন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। কখনো তিনি লিখেছেন তার প্রবাস জীবন নিয়ে, কখনো বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে। তসলিমা নাসরিন দীর্ঘদিন ধরেই প্রবাস জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। তার ক্ষুরধার লেখনীর জন্যে এদেশের মৌলবাদী গোষ্ঠী এবং কিছু তথাকথিত বুদ্ধিজীবী তার লেখা নিষিদ্ধ করন এবং তার ফাসীর দাবী নিয়ে রাজপথে নেমেছিলো। সেই দাবীর প্রেক্ষিতে তসলিমা বাংলাদেশ ছেড়ে বিদেশে আশ্রয় নেন এবং সেই সময় থেকেই তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দেশে বিদেশের পত্র পত্রিকায় বিভিন্ন সময় লিখে চলেছেন। তার ভিতরের ক্ষোভ এই লেখা গুলোতে বারবার ফুটে উঠেছে। যেটা স্বাভাবিক বলেই ধরে নেওয়া যায়।

গত কিছু দিন আগে সেই রকম এক লেখা প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিনে। শিরোনাম ছিলো “ও আমার দেশের মাটি”। এই লেখায় তিনি জানিয়েছেন কবিগুরুর এই গানটি এবং সকল দেশের সেরা সে আমার জন্মভুমি গানটিকে তিনি খুবই পছন্দ করতেন এবং বিশ্বাস করতেন আসলেই এই সোনার বাংলাদেশ পৃথিবীর সকল দেশের চাইতে সেরা দেশ। কিন্তু তিনি এখন আর এই কথাটা বিশ্বাস করেন না। এবং মনে করেন সুযোগ যদি আসে বাংলাদেশের সকল মানুষ এই সোনার বাংলা ছেড়ে অন্য কোন দেশে চলে যেতো বা চলে যাবে। এই মনে করার কারণ কি?

কারণ তার মতো লেখিকাকে দেশের বাহিরে প্রবাসে জীবন কাটাতে হচ্ছে। কারণ ব্লগাররা একে একে খুন হয়ে যাচ্ছে শুধুমাত্র তাদের স্বাধীন মত প্রকাশের জন্যে। বাংলাদেশ পুরোপুরি মৌলবাদীদের দখলে চলে গেছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি লিখেছেন একসময় তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে প্রতিদিন লাখো মানুষের সমাবেশ হয়েছে। সাপুড়েরা পর্যন্ত সাপ নিয়ে মিছিল করেছে তার ফাসীর দাবীতে! তিনি বাংলাদেশের ব্লগারদের খুন করার কথা লিখেছেন, এখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই, মানুষ তার স্বাধীন চিন্তা ভাবনার প্রতিফলন ঘটাতে পারে না। এইসব নানাবিধ কারণে বাংলাদেশের মানুষ সবাই উদগ্রীব হয়ে আছে কিভাবে বাংলাদেশ থেকে চলে যেতে পারে। অদ্ভুত কথা এবং হাস্যকর অভিযোগ।

পৃথিবীর প্রায় সব দেশে স্বাধীন মত প্রকাশের স্বাধীনতা কত আছে তা একবার ভেবে দেখা দরকার তসলিমা নাসরিনের। মত প্রকাশের স্বাধিনতা কতটুকু থাকে তাঁর প্রমাণ তিনি নিজেই পেয়েছেন। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে আশ্রয়কালিন সময় তিনি সেই দেশেও থাকতে পারেন নাই নিরবিচ্ছিন্নভাবে। বিভিন্ন সময়ে তাকে ভারতের এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে ছুটে বেড়াতে হয়েছে। ভারতের বাহিরেও তাকে চলে যেতে হয়েছে।

সালমান রুশদি ভারতীয় বংশোদ্ভুত হলেও তিনি যুক্তরাজ্যের অধিবাসী। তাকেও সাটানিক ভার্সেস লিখে হুমকীর মুখে পড়তে হয়েছে। আমাদের দেশের প্রখ্যাত কবি দাউদ হায়দারকে সেই স্বাধীনতা যুদ্ধের কয়েকবছর পরেই দেশ ছাড়তে হয়েছিলো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কে মত প্রকাশের অভয়ারণ্য বলা চলে কিন্তু সেখানেও কি কেউ পুরোপুরি স্বাধীন মত প্রকাশ করতে পারেন? সে যাই হোক তসলিমা নাসরিন কোথা থেকে জানতে পারলেন যে এদেশের কৃষক শ্রমিকসহ আবাল বৃদ্ধ বনিতা সবাই দেশ ত্যাগে তৈরী হয়ে গেছেন? এদেশে মুক্ত বুদ্ধির কেউ আর বসবাস করছেন না এখবর তিনি কার কাছ থেকে পেলেন? এতো বিএনপি জামাতীদের মতো কথা হয়ে গেলো নয় কি!

তসলিমা নাসরিন পুরুষদের নিয়ে আর ধর্ম নিয়ে কিছু যৌন সুরসুরি মার্কা গল্প লিখলেই যে উদারবাদী বা প্রতিবাদী হওয়া যায় না সেটা আপনার বুঝা উচিত। আমাদের দেশের হুজুরেরা ওয়াজ মাহফিলে বক্তৃতা দেওয়ার সুযোগ পাইলেই যেমন নারীদের পোষাক পরিচ্ছদ, চলন বলন নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন এবং দর্শক কে দারুন মজা দেন আমাদের তসলিমাও কিন্তু প্রায় প্রতিটি লেখাতেই নারীর নিরযাতিত হওয়ার গল্প ফেঁদে একপ্রকার জনপ্রিয় হবার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের সমাজে বা দেশে নারি নির্যাতনের হার অপেক্ষাকৃত বেশী হতে পারে কিন্তু পৃথিবীর অন্য কোথাও এই নির্যাতন নেই এমন কথা যে ভাবে সে পাগল ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। শুধু তাই নয় তিনি যে দেশে আশ্রয় নিয়েছেন সেই ভারতেই আমাদের চাইতে অনেকবেশী নারীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

নিজের দেশ সম্বন্ধে যে লেখিকা এমন কদর্য মনোভাব পোষন করেন তাকে দেশে ফিরিয়ে আনাই হবে বোকামী। আমাদের দেশের কিছু মৌলবাদী চক্রের কিছু কর্মকাণ্ডের জন্য নিজের দেশের সম্বন্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে এমন নাগরিকের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া উচিত। বাংলাদেশ প্রতিদিনের মতো জনপ্রিয় একটি দৈনিক কেনো এই লেখিকার এমন বিতর্কিত লেখা ছাপালেন সেটাও বোধগম্য নয়।