ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

Faridpur-Probir-Sikder_2

রাস্তায় যখনোই দেখা হয়েছে তখনি এক হাসি দিয়ে জানতে চেয়েছেন কেমন আছি, কী খবর প্রবীরদা? প্রবীর সিকদার। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, যে পরিবারের ১৪ জনকে একসঙ্গে হত্যা করেছিলো পাকিস্তানী বাহিনী সেই শহীদ পরিবারের সন্তান প্রবীর সিকদার এখন জেলে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে পুলিশের দশদিনের রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে মাননীয় আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

অপরাধ? অপরাধ বিশাল। তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা অনুযায়ী তিনি এক মামলার আসামি। মামলা করেছেন স্বপন পাল নামের একজন উকিল। ফরিদপুরের উকিল সাহেব তার মোয়াক্কেলের মান হানির জন্যে এবং সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগে এই মামলা দায়ের করেন। এবং যেই পুলিশ বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও সাগর রূনির হত্যাকারীদের টিকির হদিশ পায় না, যে পুলিশ একের পর এক ব্লগার খুন হয়ে যাবার পরেও একজনকেও ধরতে পারে নাই সেই পুলিশ মামলা হওয়ার আগেই প্রবীর সিকদারকে গ্রেফতার করে ফরিদপুরে পাঠিয়ে দিয়েছে।

প্রবীর সিকদারের দোষ কোথায়? না তিনি পুলিশের কাছে গিয়েছিলেন নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারন ডায়েরি করতে। সেখানে সাধারন ডায়েরি করতে না পেরে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছিলেন “তার মৃত্যুর জন্যে দায়ি থাকবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনীয়ার জনাব মোশাররফ হোসেন, রাজাকার নুলা মুসা ওরফে মুসা বিন সমশের এবং ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধি আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার এবং তাদের সাঙ্গোপাঙ্গ।“ এই স্ট্যাটাসেই মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের হয়ে উকীল সাহেব মামলা ঠূকে দিলেন। ভালো কথা। খুবই ভালো কথা। এমন মামলা তিনি তার মোয়াক্কেলের হয়ে করতেই পারেন।

ভুল আসলে হয়েছে আমাদের প্রবীরদার। সাংবাদিক, শহীদদের সন্তান এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সৈনিক প্রবীরদা অবশ্যই ভুল করেছেন। তিনি রাজাকারদের বিপক্ষে লিখেছেন, তিনি তাঁর প্রানের আশঙ্কা করেছেন রাজাকারদের কাছ থেকে। এটাই মস্ত ভুল। দেশে এখন তথ্য প্রযুক্তি আইন আছে, ৫৭ ধারা আছে এবং যারা এই আইনের ধারক বাহক তাদের বিরুদ্ধে লেখা যে অন্যায় সেটা তিনি ক্ষনিকের জন্যে ভুলে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশে যারা ক্ষমতায় থাকে বা তাঁদের কাছাকাছি থাকে তাদের বিরুদ্ধে যে লেখালিখি করা যায় না সেটা তিনি ভুলে গেছেন। এদেশ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ তাই ডিজিটাল আইন কানুনের ফেরে পরে যে জেল হাজতে যেতে হবে সে কথাও তিনি বেমালুম ভুলে গেছেন।

প্রবীর’দা তিনদিনের পুলিশ রিমান্ডে। কী হাস্যকর, কী বেদনাদায়ক আর কী পরিহাসময় সেটাই চিন্তার বিষয় আজ এই বাংলাদেশের।

এই লেখাটি আবার তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় পরে গেলো কিনা সেটাও আমি বুঝতে পারছি না। কিন্তু তারপরেও লিখতে হবে। প্রবীরদার জন্যে লিখতে হবে। লিখতে হবে স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তির জন্যে।