ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

স্বৈরশাসক এরশাদের আমলে শহীদ মিনারের এক সভায় পটুয়া কামরুল ইসলাম একটি ব্যঙ্গ চিত্র একে সারা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। সেই ছবির নাম ছিল উদ্ভূত উঠের পিঠে চলেছে স্বদেশ। সেইসময়ে দেশের অবস্থা বাস্তবিকই সেইরকম ছিলো। আজ দেশের অবস্থা সেইরকম নেই। স্বৈরাচার বিদায় নিয়েছে আজ ২৫ বছর। গনতন্ত্রের বেড়াজালে আমরা পথ চলছি এই ২৫ বছর ধরে। বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের পালাবদলে সরকারের পরিবরতন হয়েছে পাঁচবার। জনগনের ভাগ্যের উন্নয়ন কতটুকু হয়েছে সেই হিসাব অর্থনীতিবিদ বা পরিকল্পনাবিদেরা জানেন। কিন্তু আপাত দৃষ্টিতে দেশের জনগন কতটুকু শান্তিতে আছে এই দু’দলের গনতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় তা শুধুমাত্র ভুক্তভোগীরাই বলতে পারবেন।

এমনিতেই আমাদের দেশের গনতন্ত্র সে সংসদীয় হোক বা রাষ্ট্রপতি শাষিত হোক ক্ষমতা থাকে একজন ব্যক্তির হাতেই। মন্ত্রীসভা থেকে শুরু করে প্রশাসনের একেবারে শেষ তলানী পর্যন্ত চেয়ে থাকেন সেই একজনের পানে। তার ইসারাতেই দেশ চলে। মন্ত্রীরা চলেন, সচিবরা কাজ করেন, সাংসদেরা নিয়ন্ত্রনে থাকেন। উপজেলা/ ইউনিয়ন পরিষদের মাটিকাটা থেকে শুরু করে বিচার সালিশ সবকিছুই অই একজনের সন্তুষ্টিতেই ঘুরপাক খায়। এই যখন সারা দেশের শাসন ব্যবস্থার হালচাল ঠিক তখন বর্তমান অবস্থা আরো বেশী নাজুক হয়ে পড়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসে দেশের আর্থ সামাজিক ব্যবস্থার পরিবর্তনে অনেক কাজ করে চললেও গোটা সরকার ব্যবস্থা চলছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একক ক্যারিসমায়। ২০০৮ এর নির্বাচনের অব্যাহতি পর হতেই সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, সাংসদ থেকে শরু করে বিভিন্ন অংগ সংঘঠনগুলোর নেতা নেত্রীরা যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে চলেছে তার সকল দায়ভার বহন করে চলতে হয়েছে এবং হচ্ছে এক শেখ হাসিনাকে। উনার একমাত্র নিজস্ব ক্যারিসম্যাটিক যোগ্যতায় বিভিন্ন অপচেষ্টা গুলোকে নস্যাত করে দিয়ে তাঁর দল এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন একথা তাঁর চির শত্রুও স্বীকার করে নিচ্ছেন। সবচেয়ে বয়োবৃদ্ধ মন্ত্রী থেকে শুরু করে হালের ছাত্র নেতা হওয়া ছাত্রটির বিশৃঙ্খল মন্তব্য বা কর্মকাণ্ডে কিছুদিন পরপর সরকার এবং সরকার প্রধানকে জনগনের মুখোমুখি দাঁড় হতে হচ্ছে। তখন এক হাতে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে আস্বস্ত করে চলেছেন, জনগনের বিক্ষুব্ধতাকে নিজের মেধা আর বিচক্ষন্তাকে দিয়ে পরিস্তিতি সামালে আনছেন। কিন্তু তারপরেও কারো কোন মাথাব্যথা নেই নিজেদের পরিবর্তনে। সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগ জনক কিন্তু সরকারের দায়ীত্বপ্রাপ্তদের কোন পদক্ষেপ আছে বলে মনে হচ্ছে না। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যা খুন, ধর্ষণ, রাহাজানী চাঁদাবাজি আজ চরম আকার ধারন করেছে। ঘুষ দুর্নীতি সমাজের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে। কোন কাজ আজ আর টাকা ছাড়া হয় না। হাসপাতাল থেকে শুরু করে সরকারের বিভিন্ন স্তরে আজ ঘুষ হয়ে গেছে স্বাভাবিক ব্যাপার। অথচ সরকারে অধিষ্ঠ কর্তাব্যক্তিদের কোন বিকার নেই। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই তাদের নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় যাওয়াই ছেড়ে দিয়েছিলেন। একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় ভুমিকার কারণে সেইসব নেতা নেত্রীরা আজো রাজনীতিও করতে পারছে। বুক ফুলিয়ে বিভিন্ন সভা সমাবেশে বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে বেড়াচ্ছেন। অথচ ক্ষমতার রদবদল হলে কেউ প্রধানমন্ত্রীর ধারে কাছে থাকতেন না।

গতকাল একটি দৈনিকে সৈয়দ বোরহান কবীর বলেছেন সার্ফ এক্সেলের বিজ্ঞাপনের মতো সকল ময়লা পরিস্কারের জন্য যেমন সার্ফ এক্সেল আছে তেমনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে বা সরকারে থেকে যে যত বিতর্কিত কাজ করুক, দেশ এবং সরকারের ইমেজ ধুলায় লুটিয়ে দিক, জনগনের সঙ্গে সরকারে দুরত্ব তৈরী করুক সব সমস্যার সমাধান দিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে হোক বিদেশে হোক সব জায়গার ঝামেলা একাই মিটিয়ে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী দশ হাতে। বিডিআর বিদ্রোহ থেকে শুরু করে আজকের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাট ইস্যু, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কটাক্ষ করে সরকারের সঙ্গে তাঁদের দুরত্ব তৈরী এমনকি রাজন হত্যা, রাকিব হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতারে প্রধানমন্ত্রীর পুশব্যাক ছাড়া কিছুই আজ হয় না।

আজকের প্রেক্ষাপটে এটা প্রায় নিশ্চিত যে বাংলাদেশের আপামর জনগন তাকিয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে। সারা বাংলাদেশ আজ তাকিয়ে অপেক্ষা করে কখন প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ হবে এবং কখন তাদের সমস্যার সমাধান হবে। একথা আজ নির্দ্বিধায় বলা যায় বিরোধী দলীয় নেতা বেগম জিয়াও আজ তাকিয়ে থাকেন কখন শেখ হাসিনা বলবেন এবং কখন তিনি তার কর্মসূচী ঘোষনা করবেন।

জনগন শেখ হাসিনার উপড় ভরসা করতে চান কিন্তু সব কিছুরই একটা সীমাবদ্ধতা থাকে। শেখ হাসিনা নিজে একা সব দিক না সামলে এক বা একাধিক মানুষ যদি পেতেন তাঁর পাশে দেশের সকল জঞ্জাল সরাতে কাজ করার জন্যে তাহলে মনে হয় এই দেশটা আরো অনেকদুর এগিয়ে যেতো অনেক আগেই।