ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আপাত দৃষ্টিতে বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যতোটা ভালো মনে হয় বাস্তব চিত্র টা একেবারেই উল্টো। বিএনপি এবং জামাতের সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির যে পায়তারা সেই পায়তারা কিন্তু প্রকাশ্যে নেই বললেই চলে। স্বীকার্য যে বিএনপি জামাতের গোপন মিশন আজো চালু আছে। বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিনত করার যে চক্রান্ত তা আজো অব্যাহত আছে।

ক্রিকেট অষ্টেলিয়ার বাংলাদেশ সফরে না আসা, ইতালীয়ান নাগরিকের হত্যাকান্ড এবং বিশ্বের কয়েকটি ক্ষমতাধর দেশের বাংলাদেশ সম্পর্কে সতর্ক বানী প্রচারে বিএনপি জামাতের কোনই হাত নেই একথা এখনই স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্টের হত্যাকান্ডের প্রায় বছর খানেক আগে থেকে যে ষড়যন্ত্র চলছিলো তা যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশস্থ দুতাবাস জানতো সেকথা আজ প্রমাণিত। কিন্তু সেদিন যেমন মার্কিন সরকার এব্যাপারে রহস্যজনক ভূমিকা পালন করেছে ঠিক তেমনি আজো যখন বাংলাদেশে জঙ্গী হামলার আশংকার ব্যাপারে পশ্চিমা রাষ্ট্র গুলো বলছে তারা আগে থেকে অবগত হওয়ার কারণেই এই সতর্ক বারতা পাঠিয়েছে। কিন্তু আশ্চর্য জনক হলেও সত্যি যে তারা বাংলাদেশ সরকারকে কোন আগাম আভাস দেয় নাই।

ক্রিকেট অস্টেলিয়া যখন নিরাপত্তা হীনতার অজুহাতে বাংলাদেশ সফর স্থগিত করেছে তারপরে এই পশ্চিমা দেশগুলো তাদের দুতাবাসে সতর্ক বার্তা পাঠিয়েছিলো। এথেকেই কি প্রমান হয় না এখানে একটা দেশী বিদেশী চক্রান্ত চলছে।

আমাদের দেশে এক ইটালীয়ান নাগরিকের মৃত্যু আগুনে ঘি ঢাকার মতো সমস্ত ব্যাপারে আরো মদদ জুগিয়েছে। তেভেল্লা মৃত্যু আমরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারি না। তবে এইধরনের হত্যাকান্ড যে পৃথিবীর কোথাও হয় না তা কিন্তু সত্য নয়। যদিও এই হত্যাকান্ড সরকারের ব্যর্থতাকে পরিস্কার করে দিয়েছে। এই হত্যাকান্ডের রহস্য অবশ্যই উদ্ঘাটন করতে হবে। এই পর্যন্ত বেশ কিছু বিদেশী নাগরিককে বাংলাদেশে প্রাণ দিতে হয়েছে সন্ত্রাসীদের হাতে কিন্তু কোন হত্যাকান্ডেরই রহশ্যের উদ্ঘাটন হয় নাই। মাস খানেকের হইচইয়ের পর সব কিছুই স্তিমিত হয়ে যায়।

বাংলাদেশ সফরে নিরাপত্তার অজুহাতে যে অস্টেলিয়া ক্রিকেট আসতে চাইলো না সেই অস্টেলিয়াতেই গত রাতে সিডনীর পুলিশ স্টেশনের কাছে সন্ত্রাসীদের হামলায় কয়েকজনের প্রাণহানী ঘটেছে। সন্ত্রাসী হামলা এখন পৃথিবীর এক নম্বর সমস্যা। দেশে দেশে এই সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করেই পথ চলতে হচ্ছে সকল শান্তি প্রিয় জনগনকে। কিন্তু সন্ত্রাসীর ভয়ে খেলাধুলা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এমন উদহারন একমাত্র এই দক্ষিন এশিয়া ছাড়া আর কোথাও প্রযোজ্য হচ্ছে না।

অস্টেলিয়ার সফর স্থগিত, ইতালীয়ান নাগরিক খুন এবং কিছু পশ্চিমা দেশের সতর্ক বারতার সাথে দেশী বিদেশি ষড়যন্ত্রের কথা মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু সারা দেশে আজকের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে চিত্র তাতে প্রায় সব গুলোতেই সরকারীদলের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে। গাইবান্ধায় এম, পির গুলিতে শিশু আহত হওয়া, গন ধর্ষণের পর এক নারীকে এসিড দিয়ে পুড়ীয়ে মারার চেষ্টা, মায়ের পেটে শিশুকে গুলিবিদ্ধ হতে হওয়া এসবের পিছনে কিন্তু সরকারী দলের লোক ছাড়া কাউকেই খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। একের পর এক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস সরকারের উন্নয়ন পরিসংখ্যান কে ম্লান করে দিচ্ছে। আওয়ামী লিগে শুদ্ধি অভিযান চলবে এমন কথা গত ছয় মাস ধরে শুনে আসছে দেশ বাসী। এই শুদ্ধি অভিযান আদৌ হবে কিনা জানা নাই। কিন্তু সময় এবং সুযোগ দুটোই দ্রুত হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী যেমন আছে তেমনি বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিনত করার চক্রান্তকারী দেশের সংখ্যাও কিন্তু কম নাই। এবং সেই সাথে ঘরের শত্রু বিভীষন তো ওত পেতেই আছে মোক্ষম দাও মারার অপেক্ষায়।

বাংলাদেশের মানুষ শান্তি চায়। ক্ষমতায় কে গেলো আর এলো তা নিয়ে খুব কমই চিন্তা করে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষের মুল্য গত কয়েক্মাস ধরেই ম্নুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। অথচ সরকারের কোন বিকার আছে বলে মনে হয় না। ক্ষেত্র বিশেষে বর্তমানে কোন বিরোধী দল তো নেই ই কিন্তু সরকার বা সরকারী দল আছে কিনা সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ।