ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

অবশেষে থলের বেড়াল টা বেড়িয়েই পড়লো। শুরুটা সেই টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পরপর। অবশ্য বলা চলে আফগানস্তানে সোভিয়েত হস্তক্ষেপ এর মধ্য দিয়েই খেলাটা শুরু হয়েছিলো। আফগান মাটি মুক্ত এবং সেখানে তথাকথিত গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে মার্কিনীদের যে লুকোচুরি খেলা শুরু হয়েছিলো তাতে করে সাফল্য কিন্তু কম আসে নি। এই খেলায় ভেঙ্গে গেছে সোভিয়েত ইউনিয়ন, পূর্ব ইউরোপ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে নিজেদের ওয়ার্স জোট ভেঙ্গে।

সারা পৃথিবীতে এক বিশ্ব নীতিতে মার্কিনী রা সলেই অনেক এগিয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু এই এগিয়ে যাওয়াই কাল হয়ে দাড়ালো। মহামতি লেনিন বলেছিলেন সাম্রাজ্যবাদ তার নিজের কবর নিজেই খোঁড়ে।

একবিশ্ব নীতিতে পৃথিবী ঠিকমতো চললেও অস্ত্র ব্যবসায়ীদের নেমে আসে চরম দূরভোগ। যুদ্ধ নেই, প্রতিযোগিতাও নেই, এক ফিলিস্তিন – ইজ্রাইল যুদ্ধ আর কতদিন চলতে পারে? তাই যুদ্ধ দরকার যুদ্ধ। এই যুদ্ধ থাকলেই অস্ত্রের বাজার টিকবে। প্রতিদিন লাখো লাখো কোটি ডলারের ব্যবসায় অস্ত্র ব্যবসায়ীদের পুজির ভান্ডার সমৃদ্ধ হবে।

সেই অস্ত্র ব্যবসা আর লাভের খাতায় নতুন করে নাম উঠলো ইসলামী জঙ্গীবাদ। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের হাতের পুতুল বিন লাদেঙ্কে দিয়ে শুরু হলো এই নতুন যুদ্ধের পাঁয়তারা। এতোদিনের বন্ধু রাতারাতি হয়ে গেলো পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী। জীবনের অধিকাংশ সময় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সাথে ব্যবসা করে যে লোকটি সম্পদের পাহাড় গড়েছে সেই সম্পদশালী লোকটি হয়ে উঠলো বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ইসলামী যুদ্ধবাজ। অথচ ইতিহাস বলে লাদেনের জীবন এবং যৌবন কেটেছে সবচেয়ে অমিতব্যয়িতায়।

যাহোক এসবই পুরানো কাসুন্দী। একই ফর্মুলায়, একই ইস্যুতে পৃথিবীর প্রসিদ্ধ ইসলামী রাষ্ট্র গুলোতে আরব বসন্তের নামে, কখনো গনতন্ত্রের নামে কখনো বা পারমানবিক বোমার কাল্পনিক ভয় দেখিয়ে দেশ গুলোকে নিজেদের আয়ত্তে আনার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় মার্কিন জোট। কখনো এরা লাদেন কে মেরে ফেলা, কখনো আবার তৈরী করে আই এস নামক আরেক ফ্রাংকেষ্টাইন। গনতন্ত্রের জন্য এরা ধ্বংস করেছে ইরাক, লিবিয়া, মিশর এবং আরো অনেক শান্তিপ্রিয় দেশ অথচ বিশ্বের সবচেয়ে স্বৈরাচারী দেশ সৌদি আরবের ব্যাপারে তারা নিরব এবং নিশ্চুপ।

সিরিয়াতেও শুরু করেছিলো এই কায়দায় গনগন্ত্র উদ্ধারের কাজ। কিছু সন্ত্রাসী গ্রুপ দিয়ে দেশটিকে অশান্ত করে তুলে প্রেসিডেন্ট আসাদ সরকারকে উতখাতের ষড়যন্ত্র। কিন্তু কিছুতেই সফল হচ্ছিল না মার্কিনী জোট। উপায়ন্তর না দেখে এবার অবতীর্ণ করানো হলো আইএস কে। আইএস এর বর্বরতা প্রমাণের জন্য অবশ্য মার্কিন জোট নিজেদের কিছু সাংবাদিকের, আগরিকের জীবনকে উৎসর্গ করতে হয়েছে। এবার শুরু হলো আইএস ভিতি ছরিয়ে দেওয়া। সারা বিশ্বের মানুষ এই নতুন পৈশাচিক কর্মকাণ্ডে হতবাক হয়ে পড়লো। বিশ্বের শান্তি পূর্ণ ইসলামকে তাদের এবং মানবতার শত্রু হিসেবে ভাবতে শুরু করলো। যেখানেই মুসলমান সেখানেই ঘৃণা আর প্রতিরোধ। যেনো আর কোন ধর্মে ধর্মের বাড়াবাড়ি নেই। শুরু হলো আইএস দমনের নামে সিরিয়ায় আসাদ বিরোধী অভিযান। গত এক বছর ধরে আইএস বিরোধী অভিযান চালিয়ে একচুল পরিমান কোন উন্নতিই করতে পারে নাই।

এবার মাঠে নামলো রাশিয়া। আইএস এর বিরুদ্ধে আকাশ পথে হামলা চালিয়ে মাত্র সপ্তাহের মধ্যে আইএসের কোমর ভেঙ্গে দিয়েছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো তথাকথিত মানবতার শত্রু হিসেবে চিহ্নিত আইএসের সকল ঘাটি যখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে তখম মার্কিন জোটের আসল চেহেরা বেড়িয়ে পরেছে। আইএস রক্ষায়ু রাশিয়ার বিমান হামলা বন্ধের জন্য হাহাকার করে উঠছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন জাতিসঙ্ঘে ভাষন দিতে গিয়ে পরিস্কার বলেছেন টিন টাওয়ার দ্বংসের আস্ল ভিডীওপ তার কাছে আছে। সময় হলেই ফাঁস করে দিবেন। এরই মধ্যে চীন আইএস বিরোধী অভিযানে রাশিয়ার পাশে দাড়ানোর কথা ঘোষনা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন জোটের মোড়ল বারাক ওবামা সুর নরম করে আলোচনায় বসার আহবান জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট কে।

আমরা যুদ্ধে নয় শান্তিতে বিশ্বাসী। ইসলাম বা যেকোন ধর্মই শান্তির বার্তাই প্রচার করে। বিশেষ করে ইসলাম অর্থই হলো শান্তি। সেই শান্তির ধর্ম কখনোই কোন মানুষের গলা কেটে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে না।

আইএস কোন ধর্মের জেহাদী প্রতিষ্ঠান নয়, তাঁরা ইসলাম প্রতিষ্ঠা বা খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্যে কাজ করছে না। তারা আসলেই লাদেন পরবর্তী মার্কিনীদের তৈরী আরো একটি যুদ্ধ জিইয়ে রাখার ফ্রন্ট মাত্র। রাশিয়ার বিমান হামলার মধ্য দিয়ে পৃথিবীর মানুষ এই সত্য টা উপলব্ধি করতে পারছে।