ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

যথারীতি চাঞ্চল্য কমে আস্তে শুরু করেছে। যেমন করে কমতে শুরু করেছিলো রাজীবের হত্যাকান্ডের পর, অভিজিতের, বাবু’র, নীলের এবং এই রকম অসংখ্য খুনের পর। খুন হওয়ার প্রথম সপ্তাহ টা থাকে খুবই গরম। শাহবাগ থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর পর্যন্ত নড়ে চড়ে বসে। বিবৃতির ঝড়ে সংবাদ পত্রের পাতায় হইচই, প্রেস্ক্লাব আর প্রজন্ম চত্ত্বর কেপে উঠে বক্তৃতায় আর স্লোগানে। টেলিভিশন টকশো অয়ালারা তো মনে মনে মুখিয়েই থাকে এমন একটি ঘটনার জন্যে। শুরু হয়ে যায় নিজেদের দিকে ঝোল টানার বীভৎস প্রতিযোগিতা।একে একে বেশ কয়েকজন ব্লগার এবং মুক্তমনের মানুষকে হত্যার পর খুনী চক্র এবার প্রকাশক দের উপর হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে দীপনকে। মারাত্মক জখম করেছে আরো তিন প্রকাশককে। এবং এবার যথারীতি প্রতিবাদ, মিছিল আর বক্তৃতা বিবৃতিতেই ব্যস্ত। স্বরাষ্ট মন্ত্রী নিয়ম মাফিক খুনীরা রেহাই পাবে না বলে হুসিয়ারো উচ্চারন করেছেন। যেনো এই উচ্চারন করলেই জনগনের সব ভয় ভীতি উড়ে যাবে নিমিষে।

সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা নানারকম বিশ্লেষন ধর্মী বিবৃতি দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিকের উদহারন তুলে ধরেন। কেউ কেউ তাঁদের পূর্বসূরিদের মতো বলে ফেলেন আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছেন, কিন্তু আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনই অবনতি দেখেন না। এদেশে ব্লগাররা যখন একে একে হত্যা হতে থাকলো তখন তারা বললেন ব্লগারদের দোষ, তারা এমন মুক্তমনা হবেন কেনো। বেশ মেনে নিলাম। ব্লগারদেরি দোষ। আমাদের মতো অর্ধ শিক্ষিত দেশে মক্ত মন নিয়ে লিখে শান্তিতে বাস করার ব্যাপারটি নাহয় প্রশ্নাতীত ব্যাপার নয়।

এরপর হামলা হলো বিদেশীদের উপর। এবার আরো ঝড়। এই ঝড়ের মাত্রা দেশে বিদেশে ছড়িয়ে পড়লো দ্রুত। সংবাদ পত্র আর ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় বিশ্বব্যাপী ঝড়ের তান্ডবে সরকার যখন টালমাটাল অবস্থায় তখন বিএনপি জামাতের উপড় দোষ চাপিয়ে মুখ রক্ষায় ব্যস্ত তখন আবার আইন রক্ষার মন্ত্রি সাহেব বললেন দুই একটা বিদেশী মারা যাওয়া কোন ব্যাপার না। এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। আমরাও জানি বর্তমান বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন দেশে দুই একজন বিদেশীদের প্রণ দিতে হচ্ছে জঙ্গী গোষ্ঠীর হাতে। সেক্ষেত্রে সেইসব দেশ কিন্তু শুধুমাত্র বক্তৃতা বিবৃতিতেই বসে থাকছে না। জঙ্গী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষনা করে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

আমাদের দেশে জঙ্গী গোষ্ঠীর অবস্থান প্রশ্ন সাপেক্ষ্য। সরকার কখনো বলেন দেশে জঙ্গী আছে, কখনো বলেন জঙ্গী নেই। তবে জঙ্গী আছে কি নেই সেই প্রশ্নে না যেয়ে দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি যে করতে হবে সে ব্যাপারে কারো কোন দ্বিমত নেই।

বিদেশীদের খুন হবার ঘটনার রেশ না কাটতেই পুলিশের উপর হামলা এবং এক পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে হত্যার মধ্য দিয়ে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হলো। এবং একদিনের মাথায় এই প্রথম কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের উপর হামলা চালিয়ে প্রামাণীত হলো এইসব হত্যাকান্ড যারা ঘটাক না কেনো তারা সংঘবদ্ধ এবং তারা সরাসরি বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটিকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।

রাষ্ট্র যেহেতু একটি দলকে দায়ীত্ব দেয় রাষ্ট্রটি পরিচালনার জন্য তখন এই ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করার প্রথম দায়ীত্ব ক্ষমতাশীন দলের। এরপরে যদি সরকার প্রয়োজন মনে করে দেশের সকল জনগনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা প্রয়োজন তখন অবশ্যই জঙ্গন মাঠে নামবে। একাত্তরে নেমেছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেমেছে, স্বৈরাচার উতখাতে নেমেছে এবং দেশ থেকে মৌলবাদ হটাতে জনগন ঐক্যবদ্ধভাবে নামবে এই বিশ্বাস সবার মধ্যেই আছে। এখন নির্ধারণ করার সময় দেশটা কি এভাবেই চলবে না সকল ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন করে, আসল অপরাধীদের বের করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বিভিন্ন সুত্রের কথা মতো দেখা যাচ্ছে বা শোনা যাচ্ছে ডিপন, বা অভিজিতদের মতো আরো অনেকেই তাদের নিশানায় রয়ে গেছে। যে কোনদিন আরো কওন একজনের উপ্র হাম্লে পরতে পারে এই খুনী চক্র। সময় এবং সুযোগ কখনো কারো জন্য বসে থাকে না। এখনি এসব বন্ধ করতে না পারলে নিজের চুল নিজে ছিড়ে ফেললেও কিছুই করার থাকবে না।