ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

বিশ্ব সংস্কৃতির পীঠস্থান প্যারিস এখন ভাসছে রক্তের শ্রোতে। নিমিষের বর্বরোচিত হামলায় হারিয়ে গেলো শতাধিক মানুষ। কি তাদের অপরাধ তারা জানে না। কেনো তাদের হত্যা করা হলো নেই কোন সতর্ক বার্তা। এইসব সাধারন মানুষ রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো বা কারো ধর্মের উপর আঘাত করেছিলো এমন কোন গুজবও শোনা যায় নাই। কিন্তু তারপরেও প্রাণ দিতে হলো এই ১২৮ জন মানব সন্তানকে। শুধুমাত্র এই ১২৮ জনই নয় সারা বিশ্বে এখন প্রতিদিন মানুষ হত্যা হচ্ছে কখনো শান্তির কথা বলে, কখনো গনতন্ত্র উদ্ধারের নামে। ইতিমধ্যে প্যারিসের হামলার কথা স্বীকার করেছে তথাকথিত আই এস নামক সংঘ্টনটি। অবশ্য প্রিথিবীতে যেখানে যত হত্যাকাণ্ড ঘঠছে সবই আইএস এর নামে স্বীকার করে নেয়া হচ্ছে। এও এক অদ্ভুত ব্যাপার।

দুই পরাশক্তির ঠাণ্ডা যুদ্ধের অব্যহতি পরে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর অর্থনীতিতে ব্যাপক ধ্বস নামার আশংকায় দেশে দেশে যুদ্ধ লাগানোর যে ষড়যন্ত্র শুরু করেছিলো তাই আজ সারা বিশ্বের শান্তি কেড়ে নিয়েছে। প্রতিদিন একে অন্যকে হত্যার মধ্য দিয়ে গোটা পৃথিবী আজ অশান্তির অনলে জ্বলছে। প্রায় দেশেই এই সন্ত্রাসের হিংস্র থাবা কেড়ে নিচ্ছে নিষ্পাপ মানুষের জীবন।

যারা মারা যাচ্ছে তারা বেশির ভাগই জানে না কেনো তাদের প্রাণ দিতে হচ্ছে। কোন অপরাধে তাদের হত্যা করা হলো কেউই তা জানে না। সবচেয়ে মজার ব্যাপার মানুষকে হত্যার পর উল্লাস করে স্বীকার করছে যে, আমরাই হত্যা করেছি, আমরা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছি। কি ভয়াবহ শান্তি, কি নারকীয় স্বীকারোক্তি। দুপক্ষের মাঝেই এই নারকীয়তা বিরাজ করছে। আর এই নারকীয়তার বলি হচ্ছি আমরা সাধারন মানুষ। যারা রাজনীতির সাথেও থাকে না, পাশেও থাকে না।

মানুষ আগে প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে নিজেকে টিকিয়ে রাখতো। এই প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করতেই মানুষ সমাজবদ্ধ হয়েছে, পাশাপাশি দলবদ্ধ হয়ে থাকার প্রয়োজনীয়তা থেকেই সৃষ্টি হয়েছিলো রাস্ট্র নামক এই যন্ত্রটি। আজ যত দিন যাচ্ছে ততোই মানুষ নিজের বিরুদ্ধে নিজেই মারনাস্ত্র নিয়ে মাঠে নামছে। যেনো আমি ছাড়া এই পৃথিবীতে অন্য কাউকে শ্রেষ্ঠ হয়ে থাকতে দিবে না। এই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্যেই এতো হানাহানি, এতো খুনোখুনি।

এই পৃথিবীতে যখন আমরা ক্ষমতা, ধর্ম, গনতন্ত্র এবং ব্যবসা সম্প্রসারনের জন্যে একে অন্যেকে ধ্বংস করার জন্যে মরণপণ যুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছি তখনো এই বিশ্বের প্রায় ৫০ কোটি মানূষ একবেলা খাবার জন্যে হাপিত্যেস করে মরছে। কয়েকশো কোটী শিশু অপুষ্টির শিকারে ধুকে ধুকে মৃত্যুর অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছে। একটি মিশাইল বানাতে বা কিনতে যে পরিমান ডলার খরচ হয় তা দিয়ে বিশ্বের কয়েক কোটি শিশুর পুষ্টির নিশ্চয়তা করা যায়।

টুইন টাওয়ার ধ্বংসের মধ্য দিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞের শুরু প্যারিসের হত্যাকান্ড দিয়ে পৃথিবী বাসী তার আপাত শেষ ঘটনা অবলোকন করলো। এখন অপেক্ষা আবার কোনদিন এই রকম আরো একটি হত্যাকাণ্ড ঘটার। পৃথিবীর কোন দেশই আজ আর নিরাপদ নয় বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। আবার এই হত্যাকাণ্ড কবে শেষ হবে তারও নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারছে না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইইউ, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের তাবত উন্নত দেশগুলি আমাদের দেশে ভ্রমনের ব্যাপারে হুসিয়ারী বার্তা জারী করে অথচ তাদের দেশেই মৃত্যুর স্বাভাবিক গ্যারান্টি নেই। অস্ট্রেলিয়ায় পুলিশ ফাড়ির সামনেই গুলি করে মানুষ হত্যার ঘটনা আমাদের কারো অজানা নেই। ওথচ তার দুইদিন আগেই অস্ট্রেলিয়া সরকার তাদের ক্রিকেট টিমের বাংলাদেশ সফর বাতিল করেছিলো নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে।

নিরাপত্তা কেউই দিতে পারবে না যতক্ষন না পর্যন্ত সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো তাদের অস্ত্রের বাজার সীমিত না করবে। যতক্ষন না পর্যন্ত গনতন্ত্র উদ্ধারের নামে অন্য দেশের ব্যাপারে নাক গলানো বন্ধ না হবে। আমাদের সেই দিনের অপেক্ষায় থেক্তে হবে যেদিন এইসব সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্র গুলোর ক্ষমতায় আসীন দলগুলো হীন ষড়যন্ত্র বন্ধ না হবে। সে পর্যন্ত আমাদের প্রতিদিন প্রহর গুন্তে হবে অস্বাভাবিক মৃত্যুর। আঁতকে উঠতে হবে প্যারিস অথবা অন্যকোন দেশের বিভৎস হত্যাকাণ্ডের খবরে।