ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

ইসলাম শব্দের অর্থই হলো শান্তি। এই শান্তি মানে হলো পৃথিবীতে বসবাসকারি সকল জাতির মধ্যে শান্তি আনয়নের জন্যেই ইসলাম এসেছে বলেই পবিত্র কোরানে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ সর্বশক্তিমান এবং সর্বজ্ঞানী ও সর্বদ্রষ্টা। তিনি সব জানেন এবং দেখেন। তার হুকুম ছাড়া সৃষ্টির কোন কিছুই সচল থাকে না এই সত্য গুলো মেনে নিয়েই ইসলাম গ্রহন করতে হয়। এই সত্য গুলো যারা মানেন না বা মানবেন না তারা ইসলাম গ্রহন করতে পারেন না।

হজরত মোহাম্মদ (দঃ) এই সত্যগুলোকে মেনে নিয়েই তার জীবন চলার পথে বিধর্মীদের অনেক অত্যাচার আসার পরেও কোনদিন তাদের বিরুদ্ধে অসদাচরন বা প্রতিশোধ নেন নাই। তিনি তাঁর আল্লাহর উপর পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করে তাঁর অভীষ্ট লক্ষ্যে পথ চলেছেন। এবং যখন তিনি অত্যাচারে অতিষ্ট হয়েছেন তখন আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী মদিনাতে হিজরত করেছেন। রাসুল সাঃ ইচ্ছে করলেই তিনি তাঁর বন্ধু আল্লাহর কাছে তাঁদের নিশ্চিহ্ন করার জন্যে উপায় জানতে চাইতেন। কিন্তু তিনি তা করেন নাই। বরঞ্চ যে বুড়ী তাঁর পথের উপর কাঁটা বিছিয়ে রাখতো সেই বুড়ির অসুস্থ্যতায় ছুটে গেছেন তার পরিচর্যা করতে। বুড়ি বিধর্মী এবং অত্যাচারীদের একজন হওয়ার পরেও তাকে দূরে ঠেলে দেন নাই। আসলে এটাই ইসলামে মুল মর্মকথা। এই মর্মকথার উপর ভিত্তি করেই ইসলাম সারা দুনিয়ায় তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছিলো। হিংসা দ্বেষ, যুদ্ধ আর হানাহানির মধ্য দিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠীত হলে রাসুল সাঃ কয়েকদিনের মধ্যেই সারা পৃথিবীতে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করতে পারতেন।

আজকের প্রেক্ষাপটে হযরতের সাঃ হোদায়বিয়ার সন্ধি বড় প্রাসঙ্গিক। হোদায়বিয়ার সন্ধি ইসলামের প্রসারের ক্ষেত্রে এক মাইলস্টোন হয়ে রয়েছে। এই হোদায়বিয়া সন্ধি হওয়ার পর অনেকেই এই সন্ধিকে একপ্রকার পরাজয় বলে মনে করেছিলেন। এমন কি হযরত ওমর রাঃ পর্যন্ত হোদায়বিয়া সন্ধিকে মেনে নিতে পারছিলেন না। তিনি এই সন্ধিকে ইসলামের জন্য এক পরাজয় বা পিছু হটা বলে ধরে নিয়েছিলেন।

পবিত্র কোরআন শরীফে আল্লাহতায়ালা এব্যাপারে অহীর মাধ্যমে নাজিল করলেন এক আয়াত। তাতে তিনি বললেন “নিশ্চয় তোমাকে আমি এক নিশ্চিত বিজয় দান করলাম”। হজরত ওমর রাঃ যখন এই সন্ধির কতিপয় ধারার ব্যাপারে তীব্র বিরোধীতার কথা বললেন তখন হজরত মোহাম্মদ সাঃ উনাকে আল্লাহর এই অহীর কথা শোনালেন।

আসলে কী ছিলো এই হোদায়বিয়ার সন্ধিতে? আপাত দৃষ্টিতে হোদায়বিয়া সন্ধিতে মনে হয়েছে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে যেয়ে হযরত সাঃ বিধর্মীদের সাথে আপোষ করেছিলেন। তাঁর বিজয়ের রথকে থামিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু এই সাময়িক পিছু হটা বা থেমে যাওয়াই ছিলো ইসলামের বিজয়ের পথে এক বিশাল টারনিং পয়েন্ট। ইসলাম প্রচারের প্রথম থেকে অমুসলমানদের সাথে বা বিধর্মীদের সাথে উঠাবসা বা চলাফেরা বা কোন সামাজিক আদানপ্রদানো নিষিদ্ধ ছিলো । হজরত সাঃ হোদায়বিয়া সন্ধির মাধ্যমে বিধর্মীদের সাথে মুসলমানদের অবাধ চলাফেরা, সামাজিক আদানপ্রদান এবং উঠাবসার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিলেন। যার ফলে ইসলামের আচার ব্যবহার, আদব কায়দা এবং আল্লাহ এবং তার রাসুলের ব্যাপারে জানার ব্যাপারে আগ্রহ তৈরীর সুযোগ করে দিলেন। ইতিহাস বলে এই হোদায়বিয়ায় হযরত সাঃ এসেছিলেন মাত্র ১৪০০ সঙ্গী নিয়ে। এবং এখান থেকে যখন তিনি মাত্র দুই বছরের মাথায় মক্কা অভিমুখে যাত্রা শুরু করলেন তখন তাঁর সঙ্গী হলেন ১৪০০০ জন। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় হিংসা বিদ্বেষ বা খুনোখুনি দিয়ে শান্তির ধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা যায় না। যুদ্ধ হবে না এমন কথা ইসলাম কখনোই বলে না। কিন্তু নিরীহ মানুষ মানুষ মেরে ইসলাম প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা শুধুমাত্র আত্মঘাতি ছাড়া আর কিছুই না।

মসজিদে গুলি করে মুসুল্লী হত্যা বা অন্য ধর্মের নিরীহ মানুষদের আত্মঘাতি বোমা মেরে শান্তির ধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠা কতোটা মানবিক, কতোটা ইসলামিক তা ভেবে দেখার সময় হয়েছে। সারা পৃথিবীতে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের খুনি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার যে আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা শুরু হয়েছে এবং ইসলাম নামধারী গুটিকয়েক গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে সারা পৃথিবীতে ইসলামকে হেয় করার যে চক্রান্ত চলছে তা প্রতিহত করতে হবে ইসলামের সকল অনুসারীদের। ইসলাম কখনোই মানবতাবিরোধী ধর্মে পরিনত হতে পারে না। যুদ্ধবাজ দেশগুলো তাদের হীন স্বার্থে ইসলাম নামধারী কিছু গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে ইসলামকে জঙ্গী গোষ্ঠীর পরিপুরক করে তোলার এই পরিকল্পনাকে রুখে দাঁড়াতে হবে ইসলাম ধর্মের সংখ্যাগরিষ্ট মানুষদের। আর বসে থাকার সময় নেই। সকল বিবেকবান মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এক শান্তির পৃথিবী গড়ার অঙ্গীকার আজ করতেই হবে। এই শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজটাও শুরু করতে হবে ইসলাম ধর্মের অনুসারীদেরকেই।