ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

গতকাল ছিলো ৫ই জানুয়ারি ২০১৬। বাংলাদেশের স্বঘোষিত একটি সর্বাধিক বাংলা দৈনিক সংবাদ করেছে এই শিরোনামে। গত কাল ভোর রাতে বাংলাদেশের অধিকাংশ অঞ্চলে একটি ভুমিকম্প বেশ কাপিয়ে দিয়ে গিয়েছে। রিখটার স্কেলে এই ভুমইকম্পের কম্পন মাত্রা ছিলো ৫.৭ থেকে ৬.৫ অঞ্চল ভেদে। মানুষজন স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়েছে, আতঙ্কে প্রায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এবং প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ হয়েছেন আহত। এতো তীব্র কম্পনের জন্যে মানুষের আতঙ্ক গ্রস্থ হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এই দুর্যোগ মোকাবেলা করা প্রায় সময়েই অসাধ্য হয়ে পরে। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো পর্যন্ত ভুমিকম্প সহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুরযোগে দিশেহারা হয়ে পরে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ অনুন্নয় বা উন্নয়নশীল দেশগুলো এইসব প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনেক বেশী অসহায় হয়ে থাকে।

তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অবস্থাটা কিছুটা ভিন্ন। এদেশে গনতন্ত্র উদ্ধারের নামে বা ভোটের দাবীতে মানুষকে মেরে ফেলার যে উৎসব শুরু হয় তাতে এইসব প্রাকৃতিক দুর্যোগও লজ্জা পায়। গত ২০১৪ সালে নির্বাচন ঠেকানোর নামে এবং ২০১৫ সালে নির্বাচনের বা ণতুন ভোটের দাবীতে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল এবং তার জোট যেভাবে নির্বিচারে মানুষ হত্যা চালিয়েছিলো, যেভাবে জাতীয় সম্পদ পুড়িয়ে দেশ এবং জাতির ক্ষতি করেছিলো সেই সম্ভাবনা এবার নেই বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। জানিনা এই শান্তি কয়দিন বিরাজ করবে।

২০১৫ এর জানুয়ারী থেকে মার্চ পর্যন্ত মাঠে ময়দানে মানুষের জীবন নিয়ে যে হরিলুঠ শুরু হয়েছিলো তা বর্তমানে নেই বললেই চলে কিন্তু দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার কার্যক্রম কিন্তু থেমে যায় নাই। প্রকাশ্যে মানূষ মারা বন্ধ হলেও শুরু হয় বিভিন্ন ব্লগার হত্যা, প্রকাশক হত্যা, বিদেশী নাগরিকদের উপর হামলা করে হত্যা এবং হত্যাচেষ্টা। তথাকথিত মুসলিম জঙ্গীগোষ্ঠীর নামে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই সব গুপ্ত হত্যা বা হত্যাচেষ্টা চালানো হচ্ছে। স্বাভাবিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করার জন্যে বিভিন্ন জায়গায় চালানো হচ্ছে নানা ধরনের অপচেষ্ঠা।

বাংলা দৈনিকটি যখন সংবাদ পরিবেশন করে যে, এবার কি দুর্যোগের বছর তখন স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে আর কি দুর্যোগের বাকী আছে এই দেশে? তিনমাসে ১৫০ জন মানূষকে প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে মারার চাইতেও কি আরো বড়ো দুর্যোগের অপেক্ষায় থাকতে হবে? ২০১৪ এবং ২০১৫ সালের এই রাজনৈতিক দুর্যোগের সময় বিশ্বব্যাংক ভবিষ্যত বানী করেছিলো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মহা দুর্যোগ নেমে আসবে। কিন্তু সেইসকল ভবিষ্যতবানীকে ভুল প্রমাণিত করে বাংলাদেশের অর্থনীতি তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছতে সক্ষম হয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবেলা করে বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে এগিয়ে চলার ইতিহাস নতুন কিছু না। এই অভিজ্ঞতা আমাদের সংবাদ মাধ্যমের আছে। এই সংবাদ মাধ্যমই আমাদের দুর্যোগের সংবাদ যেমন ছাপে ঠিক তেমনিভাবে আমাদের দুর্যোগ কাটিয়ে উঠে উন্নয়নের পথে হাটার সংবাদও ছাপে আমাদের সংবাদ মাধ্যম। তবে আমাদের দেশের কিছু সংবাদ মাধ্যম যেনো এই সম্ভাবনার পথে, উন্নয়নের পথে চলার খবর গুলোকে প্রত্যাশা করতে চায় না। বরঞ্চ যত দুর্যোগ তত বেশী কাটতি। সম্ভাবনার অনেক খবর থাকা সত্বেও বিশাল ব্যানারে আসছে বছর দুর্যোগের বছর হিসেবে খবর তৈরির কি মাহাত্ত তা বুঝা গেলো না।