ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

Bangladesh Police. স্বভাব যায় না মলে, কয়লার ময়লা যায় না ধুলে। এই প্রবাদ বাক্যের বাহিরে বের হতে পারছে না আমাদের পুলিশ বাহিনী। গুটিকয়েক পুলিশ অফিসারের অনৈতিক কার্যকলাপে গোটা পুলিশ বাহিনী আজ বিতর্কিত হয়ে পরছে প্রতি নিয়ত। নির্দোষ লিমন এবং কাদেরের পর নির্যাতনের শিকার হলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের জন সংযোগ কর্মকর্তা এবং একসময়ের সংবাদ পাঠক গোলাম রাব্বী।

রাতে বাড়ী ভাড়ার টাকা পরিশোধের জন্য এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে বাসায় ফেরার পথে পুলিশ তাকে আটক করে এবং তাদের টহল গাড়ীতে তুলে বিভিন্ন অত্যাচার শুরু করে। টাকার জন্যে তাকে চাপ দিতে থাকে গাড়ীতে থাকা পুলিস এবং তাদের কতব্যরত অফিসার। জনাব গোলাম রাব্বী তাঁর পরিচয় পুলিশ অফিসারের কাছে অনেকবার বললেও কর্ণপাত করে নাই। বরঞ্চ অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।

অনেক অনুনয় অনুরোধেও পুলিশের মন ভোলাতে পারেন নাই। শত পরিচয়েও তারা ছিলেন অটল। টাকা তাদের চাই। গোলাম রাব্বী সাহেব মনে মনে নানা চিন্তা করেছেন, তাঁর বিভিন্না চেনা পরিচিতের কথা ভেবেছেন কিন্তু কোনটাই করে উঠতে পারছিলেন না। সমানে ভেনে থাকা পুলিশের নির্যাতন বেড়েই চলেছে। এমন কি তাকে ক্রশ ফায়ারে মেরে ফেলার হুমকী দিয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যে টহল চলা কালিন সময়ে রাস্তায় চলাচল কারী অনেক পথচারীকেও তার জোর করে ভেনে তুলেছে, টাকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। কেউ দিতে না পারলে বা না চাইলে অত্যাচার করেছে। পুরো টা সময় জুড়ে জনাব গোলাম রাব্বী পুলিশের এই তান্ডব টহল প্রত্যক্ষ করেছেন আর নিজের জীবনের আশা ক্রমানয়ে ছেড়ে দিতে চেয়েছেন। ব্যক্তি জীবনে তাঁর অনেক চেনা জানা, ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে মিডীয়া জগতের অনেকেই তার বন্ধু মানুষ। কিন্তু পুলিশের এই অত্যাচারে তিনি কাকে ফোন করবেন, কার কাছে সাহায্য চাইবেন এই চিন্তায় দিশেহারা।

অথচ টাকার চাপ কমছে না, অত্যাচার চলছে সমান তালে।এই মুহূর্তে তিনি তার সেল ফোন থকে তার এক বন্ধু স্থানীয় কে জানাতে সক্ষম হোন যে, ‘কাদের কেস”। বন্ধুটি সাথে সাথে উপলব্ধি করতে পারেন পরিস্থিতি এবং এয়কশনে নেমে পড়েন। শেষমেষ সেই বন্ধুর উদ্যোগে জনাব গোলাম রাব্বী ছাড়া পান সেই নারকীয় যন্ত্রনা থেকে। নাহলে হয়তো আমাদের শুনতে হতো আরো একটি লেমন বা কাদের মতো অঙ্গহানী হয়েছে পুলিশি নির্যাতনে এবং বছরের পর মোকাবেলা করতে হতো মাদক বা অস্ত্র মামলার অত্যাচার। কিম্বা মোহাম্মদ পুর এলাকায় পাওয়া যেতো জনাব গোলাম রাব্বীর গুলিবিদ্ধ লাশ এবং সেই সাথে বন্দুকযুদ্ধের তথাকথিত কাহিনী।

জনাব গোলাম রাব্বী একজন ব্যাংক কর্মকর্তা, একজন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সর্বোপরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র। তার অনেক চেনা জানা, অনেক লাইন ঘাট তাই হয়তো বেচে গেলেন আরকজন কাদের অথবা লেমন হওয়ার হাত থেকে। কিন্তু প্রতিনিয়ত পুলিশের এই টহল গাড়িগুলো রাস্তায় চলাচল রত পথচারীদের যেভাবে হয়রানী আর অত্যাচার করে তার হিসাব কেউ রাখে না। যখন খুশী তখন যাকে ইচ্ছে তাকে ধরে বিভিন্ন মামলার ভয় দেখিয়ে যে টাকা রোজগারের অভিযান চলে এইটা বন্ধ হবে কবে তা কেউ বলতে পারেনা।

পুলিশ বাহিনী রাতে টোহল দেয় রাতের নিরাপত্তার জন্য, পথচারীদের হাইজ্যাকার, ছিনতাইকারিদের হাত হতে রক্ষা করার জন্য। অথচ সেই পুলিশ বাহিনী হয়ে উঠে পথচারীদের জন্যে দুঃস্বপ্ন। কখন কে কাদের অথবা লেমন হয়ে যায় তার নিশ্চয়তা এখন নেই বললেই চলে।

সাধারন মানুষের সাধারন ভাবে চলাফেরা করার গ্যারান্টি যদি না থাকে তবে এই উন্নয়নের কোন দাম আছে কি। আমরা উন্নয়ন চাই, সেই সাথে চাই কাদের বা লেমন না হওয়ার গ্যারান্টি।