ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

মাত্র দুই মাস শেষ করতে যাছে একটি নতুন নির্বাচিত সরকার। জনগনের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসে তখন পর্যন্ত কিছুই গুছিয়ে উঠা সম্ভব হয় নাই। প্রসাশনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থেকে গেছে বিগত দুই বছরের অগনতান্ত্রিক সরকারের রেখে যাওয়া নানা ঝামেলা আর অনিয়ম। তার আগের পাচ বছর ছিলো ব্যাপক দুর্নীতি আর লুঠপাটের এক সরকার। যে সরকারে পারসেন্টেজ ছাড়া কোন কাজই হতো না। সঙ্গে আছে বিগত সময়গুলোতে গজিয়ে উঠা জঙ্গীবাদী রাজনীতির আগাছা।

ঠিক সেইসময়ে বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো এলো পচিশে ফেব্রুয়ারীর সকাল। তার আগের দিন প্রধানমন্ত্রী বার্ষিক কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করে এসেছেন। পরদিন অর্থাৎ পচিশে ফেব্রুয়ারী ছিলো দরবার হলে বি ডি আর বাহিনীর বার্ষিক দরবার। এই দরবারে সারা বছরের কাজকর্মের হিসাব নিকাশ পুরস্কার তিরস্কার সবই করা হয়। সেই দরবারকে কেন্দ্র করেই ভিতরে ভিতরে তৈরী হয়েছিলো একদল দানব। কেউ জানতে পারে নি, কেউ বুঝতে পারে নাই সেই দরবারেই হবে ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম হত্যাকান্ড। সরকারের কোন গোয়েন্দা বাহিনী, বি ডি আরের নিজশ্ব গোয়েন্দা বা সেনা বাহিনীর কোন সংস্থ্যা আন্দাজই করতে পারেন নাই এতোবড়ো ষড়যন্ত্র বা হত্যাকান্ড বা ক্ষোভ বি ডি আর বাহিনীর মধ্যে পুঞ্জিভুত ছিলো।

মাত্র কয়েকঘন্টার মধ্যে ৫৭ জন দেশের সেরা চৌকশ সেনা কর্মকর্তা প্রাণ হারালেন কিছু সংখ্যক বিপথগামী বি ডি আর সদস্যদের হাতে। কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই চলে গেলেন তারা না ফেরার দেশে। সেদিন ৫৭ সেনা অফিসার সহ আরো প্রান দিয়েছিলো ১৭ জন বিভিন্ন র‍্যাংকের জওয়ান, পেশাজীবি নারী। শুনা গেছে বা পরবর্তী তদন্তে বেরিয়ে এসেছে অনেক নারীকেও সেদিন রেহাই দেয় নাই সেইসব নরপশু জওয়ানরা। দুইদিন পরে যখন লাশগুলো উদ্ধার করা হয় তখন তাদের বীভৎসতার চিত্র সবার সামনে উঠে আসে। মাত্র কয়েকঘন্টার বিভীষিকায় দেশ হারিয়েছিল ৫৭ জন সেনা অফিসার সহ ৭৪ জন মানুষকে। আর এই ৭৪ জনের স্ত্রী পুত্র, বাবা মা আত্মীয় স্বজন হারিয়েছিলো তাদের আপনজনদের।

সেদিন প্রধানমন্ত্রীর সাহসী এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে দেশ বড়ো রকমের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলো। একদিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের চাপ, অন্যদিকে সামরিক বেসামরিক চাপ। সব চাপ সামলে নিয়ে সেদিন তাঁর সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিলো তা পরে সবাই উপলব্ধি করতে পেরেছিলো।

কিন্তু আজোও রহস্য থেকে গেলো, কি কারণে এই বিদ্রোহ হয়েছিলো, কেউ ছিল কিনা নেপথ্যে বা কারো প্ররোচনায় এই বিদ্রোহ হয়েছিলো কিনা। তদন্ত কমিটি হয়েছিলো। বেশ কয়েকবার সময় বাড়িয়ে সেই তদন্ত কমিটি রিপোর্টও প্রকাশ করেছিলো কিন্তু সেই রিপোর্টের সত্যতা নিয়ে বরাবরের মতোই সাধারনের মাঝে সন্দেহ থেকে গেছে আজো। এই বিদ্রোহকে কেন্দ্র করে কোন শক্তি ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চেয়েছিলো কিনা তাও কিন্তু সন্দেহের বাহিরে নেই। যেসব সেনা অফিসারকে সেদিন হত্যা করা হয়েছিলো তারা কিন্তু প্রত্যেকেই চৌকস অফিসার ছিলো। একসঙ্গে একটি দেশের ৫৭ জন সেনা অফিসারকে হত্যা করা কিন্তু শুধুমাত্র ডালভাত কর্মসূচীতে ভাগ পাওয়া না পাওয়ার রাগের উপর সংঘঠিত হয় নাই বা হওয়ার কথা নয়।

আমরা কি এখনো সেই ২৫শে ফেব্রুয়ারীর ঘটনা থেকে খুব দূরে অবস্থান করছি? অহরহ এখানে সেখানে মানুষ হত্যার যে সিরিয়াল শুরু হয়েছে তাও কি এরই ধারাবাহিকতা নয়। আজ সাত বছরের মাথায় এসে সেইসব সেনা অফিসারসহ সকল নিহতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সবাইকে আবারো হুশিয়ার হবার আহবান জানাতে চাই। আর কোন মৃত্যু চাই না আমাদের এই সুন্দর সবুজ স্বদেশে। আমাদের প্রত্যেকের মাথার উপ্র ঝুলছে জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর খড়্গ। নানা দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রের শাখা প্রশাখা অত পেতে আছে হাম্লে পরার অপেক্ষায়। ২৫ শে ফেব্রুয়ারীর ক্ষতি আমরা পুষিয়ে উঠতে পারবো না কিন্তু সেইদিন থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের পথ চলতে হবে সাবধানে।