ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

আমরা জানি সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান এবং হো মো এরশাদের আমলে রাত এগারোটা বারোটার পর থেকে ঢাকা নগরে সান্ধ্য আইন চালু থাকতো। নগরের মানুষ রাত এগারোটার মধ্যেই বাড়ী ফিরে আসতেন। সে এক বিভীষিকাময় সময় ছিলো। অনেক ভদ্রলোককেই সেই সময় অহেতুক হয়রানির শিকার হতে হয়েছিলো। এরশাদের আমলে তো হরহামেশাই এই হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। সেই বর্বর সময় পেরিয়ে বাংলাদেশ এখন গণতান্ত্রিক পরিবেশে। ’৯০ এর গণঅভ্যুত্থান এদেশের মানুষের কাছে তাদের কাঙ্খিত গণতন্ত্র এনে দিয়েছে এবং তারপর থেকে আজতক গণতন্ত্রই বিরাজ করছে। অন্ততঃ ক্ষমতাসীন দলগুলোর দাবী অনুযায়ী। কোন দল গণতন্ত্রের  জন্য জীবন দিয়ে দিচ্ছে আবার অন্যদল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করতেও দ্বিধা করছে না। আমরা সাধারণ জনগণ তাদের এই গণতন্ত্রের চাপাকলে পরে আহত নিহত হচ্ছি প্রতিনিয়ত।

এই গণতন্ত্রের আবহাওয়াতেই আমাদের গণতন্ত্রী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন আগামী পহেলা বৈশাখ বিকেল পাঁচটার মধ্যে সকল অনুষ্ঠান শেষ করার। তিনি আরো বলেছেন পহেলা বৈশাখে ভুঁভুঁজেলা মুখোশ পরা চলবে না। তাঁর মতে এতে করে বৈশাখের অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা এড়ানো যাবে। আহা কি মধুর বাণী! এ যেনো মাথা ব্যথা করছে,  ভয় কি মাথা কেটে বাদ দিলেই সমস্যা শেষ।

গত ষোলই ডিসেম্বরেও এমন এক ব্যবস্থা করেছিলো আমাদের গণতন্ত্রী সরকারের গণতন্ত্রী পুলিশ। বিকেল পাঁচটার পরে সোহওয়ারদী উদ্যানে জনগণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিজয় দিবসের আনন্দটাকেই মাটি করে দিয়েছিলো।

পহেলা বৈশাখ বাঙ্গালীর প্রাণের উৎসব। একমাত্র পহেলা বৈশাখেই বাংলাদেশের সকল ধর্মের মানুষ সব ভেদাভেদ ভুলে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠে। এই উৎসবের মাহাত্ম স্বীকার স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার থেকে সরকারি কর্মচারীদের উৎসব বোনাসের ব্যবস্থা করেছেন এবং সকল বেসরকারী প্রতিষ্ঠানেও এই বোনাস দেবার জন্যে আহবান জানিয়েছেন। সেইসময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর মাথা ব্যথায় মাথা কেটে ফেলার প্রেসক্রিপশন জনগণের উৎসবে আগুনে পানি ঢালার ব্যবস্থার সামিল হয়ে গেলো।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী গতবারের পহেলা বৈশাখের ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি চান না। তাই বিকেল পাঁচটার মধ্যেই অনুষ্ঠান শেষ করতে বলেছেন। এও আসলে অপরাধীদের না ধরতে পারার ব্যর্থতা কে চাপা দেওয়ার অপকৌশল মাত্র। গতবারের ঘটনায় যারা জড়িত ছিলো তাদের প্রত্যেকের ছবি আমরা পত্র পত্রিকা এবং ক্যামেরায় দেখেছি। তাদের ধরতে না পারা পুলিশ এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা। সেই ব্যর্থতার দায়ভার কেনো বহন করতে হবে জনগণকে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভুভুজেলা মুখোশ ব্যবহার নিষিদ্ধ করার আহবান জানিয়েছেন। গত বারের ঘটনা যারা ঘটিয়েছিলো তাদের কেউই মুখোশ ব্যবহার করে নাই। বরঞ্চ যারা  মুখোশসহ আনন্দ মিছিলে যোগ দিয়েছে সেখানে কোনরকম বেলেল্লাপনা দেখা যায় নাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের এবং তার বাহিনীর সদিচ্ছা থাকলেই সারারাত অনুষ্ঠান চললেও কোন অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস।

শুধুমাত্র পহেলা বৈশাখ বা বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানই নয়। সারা দেশে যেভাবে খুন ধর্ষণ রাহাজানী আর মানুষ মারার উৎসব শুরু হয়েছে তাতে করে কি অচিরেই আদেশ দিবেন মেয়েরা বাসার বাইরে যেতে পারবে না, মানুষজন প্রতিবাদ করতে পারবে না, অথবা ছিনতাই করতে আসলে মালামাল তাড়াতাড়ি ছিনতাইকারীর হাতে তুলে দিতে হবে????

আর যদি বলেন জঙ্গী হামলার আশংকায় মুখোশ এবং বিকেল পাঁচটায় অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হবে তাহলে তো আপনারা হেরেই গেলেন জঙ্গী গোষ্ঠীর কাছে। সেক্ষেত্রে আগামী ঈদ–পুজাতেও আপনাদেরকে সকল অনুষ্ঠান বিকেল পাঁচটার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিতে হবে। তখন পারবেন তো!!