ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরাজি বিভাগের জনপ্রিয় অধ্যাপক রেজাউল করিম স্যারের নির্মম হত্যাকান্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই নারায়নগঞ্জের সাংসদ সেলিম ওসমান এক প্রধান শিক্ষককে চড় মেরে প্রকাশ্যে কান ধরে উঠবস করিয়ে পুরো জাতিকে হতভম্ব করে ছেড়েছেন।  সেই শিক্ষক অপমানে অপমানিত হয়ে যখন সারাজাতি নিজের কান ধরে সন্মান উদ্ধারের চেষ্ঠা করছে এবং প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং উচ্চতর আদালতের সহায়তায় যখন সামলে উঠার দ্বারপ্রান্তে তখনই কুষ্টিয়ায় এক হোমিওপ্যাথ চিকিতসককে অভিজিত, নীলয় বা রেজাউল করিম স্যারের মতই কুপিয়ে হত্যা করেছে একদল অজ্ঞাত নামা সন্ত্রাসী। আহত হয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এক অধ্যাপক। হত্যার ধরন এবং আলামত সব একই।

নারায়নগঞ্জের প্রধান শিক্ষককে প্রাণে মারা হয় নাই কিন্তু বাকীও কিছু রাখে নি। এবং প্রতিটি হত্যা হামলা এবং নিসংস্বতার কারণ একটাই ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত। সেইসাথে আরো একটি সামঞ্জস্য পাওয়া যায় তাহলো যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসীর রায়ের আগে এবং কার্যকরের অব্যাহতি পরেই এইসব হামলা এবং প্রাণহানীর ঘটে।

সরকার কাকতালীয় ভাবে হলেও কুষ্টিয়ার লালন ভক্ত হোমিও ডাক্তারের হত্যাকান্ডের পরপরই ছয়জন জংগী নামধারী ব্যক্তির ছবি ছাপিয়েছে এবং পুরস্কার ঘোষনা করেছে। অনেক পরে হলেও জনগন কিছু আশার আলো দেখার চেষ্ঠা করছে এই ঘটনার মধ্য দিয়ে। তারপরেও এটিকে শুধুমাত্র আইওয়াস হিসেবেও অনেকে দেখছেন।

অধ্যাপক রেজাউল স্যারের হত্যাকান্ডের পরপর এক ফেসবুক ইউজার সামগ্রীক পরিস্থিতিকে বোয়েলিং ফ্রগ সিন্ড্রোম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অবস্থা কিন্তু সেইদিকেই ধাবিত হচ্ছে বলেই প্রতীয়মান।

বোয়েলিং ফ্রগ সিন্ড্রোম হলো এমন যে, একটি ব্যাঙ এক হাড়ি পানিতে ঢুকে পড়লো। এবং সেখানেই বসে থাকলো। কিছুক্ষন পরে কেউ ওই হাড়িটা জলন্ত চুলায় চড়িয়ে দেয়। এই অবস্থায় ব্যাঙ কি করবে? লাফ দিয়ে বের হয়ে আসবে? না তা সে করবে না। বরঞ্চ ব্যাঙ টি হাড়ির পানির তাপমাত্রার সাথে নিজের তাপমাত্রা সহ্যের সীমাটা বাড়িয়ে নিতে থাকবে। এইভাবে যখন হাড়ির পানির তাপমাত্রা আরো বেড়ে যাবে  এবং ব্যাংটি তখন বেড়িয়ে আসতে চাইবে অথচ তখন ব্যাঙ তার তাপমাত্রা সহ্যের যে সহনীয়তা তা হারিয়ে ফেলার সাথে সাথে বের হয়ে আসার ক্ষমতাটুকুও হারিয়ে ফেলে। এবং যথারীতি ব্যাঙ টি মারা যেতে বাধ্য হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হত্যার মধ্য দিয়ে একশ্রেনীর ধর্মান্ধ বা রাজনৈতিক সুযোগ সন্ধানী সারাদেশে তাদের কিলিং মিশন শুরু করেছিলো তা আজ নিরীহ লালন ভক্ত হোমিও ডাক্তার পর্যন্ত এসে ঠেকেছে। আজ আর কেউ নিজেকে নিরাপদ ভাবছে না। যে শক্তি ক্ষমতার মোহে এই অশুভ শক্তিকে পরোক্ষভাবে হলেও মদদ যুগিয়েছিলো সেই শক্তিও আজ উপলব্ধিতে এনেছে এই অশুভ শক্তিকে এখনই ধ্বংস করা উচিত। সাপ নিয়ে খেলতে গেলে সাপের বিষে প্রাণঘাতি নতুন কোন ঘটনা না।

পুরো সমাজ আজ নিজেকে এড়িয়ে নিজের নিরাপত্তা বলয়ে খুব নিরাপদ ভাবতে গেলে ব্যাঙের মতোই একদিন মরতে হবে সবাইকে। নিজের নিরাপদ বলয় তৈরীতে যে শক্তি আমরা ব্যবহার করছি তা কিন্তু অচিরেই শেষ হয়ে আসবে। অশুভ শক্তি সেই সুযোগের অপেক্ষায় আছে। বিচ্ছিন্ন হত্যাকান্ডগুলো শুধুই টেষ্ট কেস।