ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে মোবাইলের ম্যাসেজের অপশনে এস এম এসের ছড়াছড়ি। যমুনা ফিউচার পার্কে হামলা হতে পারে, গুলশান বনানীর সুপার মলগুলোতে যাবেন না অথবা নগরের বড়ো মার্কেটগুলো এড়িয়ে চলুন। এসব সংবাদের উতস কখনো বেসরকারি টেলিভিশনের বিশ্বস্ত সুত্র কখনো ব্যবহৃত হচ্ছে সামরিক বাহিনীর সুত্র। এভাবেই সারা শহরে খুব পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা আর আতংক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

শুনেছিলাম একাত্তরে এবং দেখেছি পচাত্তর পরবর্তি বাংলাদেশে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে একশ্রেনীর রাজনীতি বিদেরা খুব কৌশলে গুজব ছড়িয়ে, রটনা রটিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করে। দেশ আজ যখন এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে, যখন দেশ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করে দেশকে কলংকমুক্ত করার প্রক্রিয়ায় ঠিক তখনই একটি চিহ্নিত গোষ্টি দেশের ভিতরে বাহিরে নানা চক্রান্তে মেতে উঠেছে।

স্বাধীনতা উত্তর সময়ে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি মুক্তিযোদ্ধার বেশে গণবাহিনী, নকশাল বাহিনী, সর্বহারা পার্টিসহ বিভিন্ন গোপন কমিউনিষ্ট পার্টির ছত্রছায়ায় থেকে দেশবিরোধী এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সন্মান হানীকর অনেক কর্মকান্ড চালিয়ে দেশকে আরো পংগু করে দিয়েছিলো। মুক্তিযুদ্ধকে লুঠপাট আর ভারতের করুনা বলে চালাতে চেয়েছিলো। সেইসাথে যোগ হয়েছিলো পাকিস্তানফেরত সামরিক বেসামরিক প্রশাসন, যুদ্ধকালীন সময়ে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানীর জান্তা সরকারের অধীনে থাকা সামরিক বেসামরিক প্রশাসন। তাদের রাতারাতি বাংলাদেশের প্রশাসনে নেওয়া হয়েছিলো কোন প্রক্রিয়া ছাড়াই। আজো সেই পচাত্তরের পর থেকে প্রশাসনে থেকে যাওয়া, বেড়ে উঠা স্বাধীনতা বিরোধী, স্বৈরশাসকের তল্পিবাহকেরা বহাল তবিয়তে আছে প্রশাসনে। এরা শুধু লোক দেখানো আনুগত্যে সরকারে অবস্থান করছে। আজ যখন একের পর এক দেশের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত আসছে, সাধারন মানুষ থেকে শুরু ব্লগার, প্রকাশক, পুরোহিত, মৌলভী পীর থেকে শুরু করে আত্মঘাতি হামলা চালাচ্ছে জংগি নামক এক গোষ্ঠী তখনো সরকারের গোয়েন্দা বাহিনী গুলো কোন পুর্বাভাষ পর্যন্ত দিতে পারছে না।

গুলশানের গুরুত্বপুর্ন এলাকা এবং সোলাকিয়ার বৃহত্তম ঈদের জামাতে সংঘবদ্ধ হামলা এটাই প্রমাণ করে না কি আমাদের সমস্ত প্রশাসনে ছিদ্র রয়ে গেছে। প্রশাসনের সেই ছিদ্রপথেই সরকারের বিপদ গুলো আসছে। সরকারকে বিপদে ফেলে ক্ষমতা থেকে উতখাতের এর চেয়ে কোন ভালো পথ নেই বলেই মনে হয়।

ষড়যন্ত্র আজ চারিদিকে। বিষাক্ত সাপিনীরা আজ ছোবল তুলে রেখেছে। স্বাধিনতা বিরোধী শক্তি তাদের হাজার কোটি টাকার ব্যবসার সকল পুজি লাভ এই সরকার উতখাতের ষড়যন্ত্রে নিয়োজিত। গোয়েন্দাদের রিপোর্টেও এসেছে এইসব তথ্য কিন্তু এখনো কোন কার্যকরী পদক্ষেপ চোখে পরছে না। গালভরা বক্তৃতা আর বিবৃতিতেই এখনো ব্যস্ত সরকারের মুখপাত্ররা। আমাদের দেশে দায়ীত্ব স্বীকার করে পদত্যাগ করার কালচার নেই কিন্তু দায়িত্বের ব্যর্থতাকে শিক্ষা নিয়ে দায়িত্ব পালনে আরো নিষ্ঠাবান হওয়ারো কোন নিদর্শন দেখতে পাওয়া যায় না।

গুজব এবং বিভিন্ন রকম ভুয়া সংবাদ দিয়ে সাধারন জনগনের মাঝে আতংক সৃষ্টির যে অপচেষ্টা চলছে সে বিষয়েও সরকারের কোন সতর্ক বানী আজো চোখে পরছে না।  অন্যদিকে এইসব গুজবের মধ্য দিয়ে অন্যকোন হামলার ছক হচ্ছে কিনা তাও দেখার বিষয়।