ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

যেদিন থেকে কাশেমালি গং নরকে যাওয়া প্রায় কনফার্ম ধরে নিয়েছিল সেদিন থেকেই এদেশের তরুন সমাজের একদলকে বেহেস্তের হুরদের লোভ দেখিয়ে নতুন করে মানুষ মারার অপারেশন শুরু করে এই নরপশুর দল। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখলের নামে শত শত ছাত্রের হাত পায়ের রগ কেটে, চাদে সাইদীর মুখ দেখা থেকে শুরু করে গনতন্ত্র উদ্ধারের নামে আগুনে মানুষ পড়িয়ে এরা নিজেদের অতীত ইতিহাস কে ভুলিয়ে দিতে চেয়েছিল এই কাশেমালী গং।

নব্বই দশকের প্রারম্ভে সারাদেশ থেকে যখন এদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের কথা  মানুষকে ভুলিয়ে দেওয়ার সকল কাজ সম্পন্ন করে এনেছিলো এক শ্রেনীর শাসক গোষ্ঠী ঠিক সেই সময়ে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম এদেশের মানুষের সামনে নতুন করে যুদ্ধাপরাধী বিচারের দাবী তুলে ধরেছিলেন। প্রতিদিন প্রতিক্ষনের আপ্রান চেষ্ঠায় সারাদেশের মানুষের মাঝে আবার তাদের স্বজন হারানোর স্মৃতি তুলে এনেছিলেন। প্রথমে হাযার হাযার মানুষ এবং ক্রমেই সেই হাযারও মানুষ লাখো কোটি মানুষের শ্রোতে পরিনত হয়েছিলো ঘাতক দালাল দের বিচার দাবীতে। কাশেমালীদের নরকে যাওয়ার প্রোগ্রাম সেদিনই শুরু হয়েছিলো। অবশ্য দাম্ভিকতা এই নরকে যাওয়ার পরিনতিকে বার বার অস্বীকার করতে শুনেছে এই দেশের আপামর মানুষ।

৭৫ এর পরে এদেশের সকল সরকার এই স্বাধীনতা বিরোধীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়েছে নিজেদের ক্ষমতা কে পাকাপোক্ত করতে। এদের নামে বেনামে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা আজ এই স্বাধীনতা বিরোধীদের ব্যবসার সম্পদ, দুই হাযার কোটি টাকা তাদের বার্ষিক মুনাফা। আজ সেই সম্পদ এদেশের সাধারন মানুষদের মারার জন্যেই ব্যবহৃত হচ্ছে। সেই সাথে পাকিস্তান নামক এক সন্ত্রাসী রাষ্ট্র এদের কে প্রতিনিয়ত সহযোগিতা করে চলেছে। কিন্তু তারপরেও কাশেমালীদের নরকবাস কোন শক্তিই ঠেকাতে পারে নাই।

কাদের মোল্লা, কামারুযযামান, আলী আহসান, নীজামী, সাকা, কাশেমালী সবাই আজ নরকের ঠান্ডা ঠান্ডা গরম গরম যন্ত্রনায় বাস করছে। এদের মিথ্যাচার এতোই ব্যাপক এবং প্রসারিত হয়েছিলো যে নানা রকমের গুজবে এদশের মানুষকে বিভ্রান্ত করে তুলেছিলো।

শেরপুরে আমার এক রাজনৈতিক বড়ভাই গিয়েছিলেন কাজের জন্য, তিনি সেখান থকে ফিরে এসে বললেন যে, যে কামারুজ্জামানকে ফাঁসী দেওয়া হয়েছে সে যুদ্ধাপরাধী নয়। এই বড়োভাই আমার জানা মতে প্রতিদিন গনজাগরন মঞ্চেই  শুধু নয়, শহীদ জননীর আন্দোলনেও যুক্ত ছিলেন প্রথম দিন থেকেই। অথচ তার মতো একজন কমিউনিষ্ট নেতা গুজবের কথা প্রায় বিশ্বাস করে ফেলেছিলেন।

আজ দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে কাশেমালীর শেষ কয়দিন শিরোনামে বলা হয়েছে রিভিউ বাতিলের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত সকল রায়কে উড়িয়ে দিয়েছেন। বলেছেন সরকার এবং কেউই তার কিছুই করতে পারবে না। চিতকার করে দম্ভের সাথে কাশেমালী জেলখানার প্রত্যেককে শুনাতো তার কেউ কিছু করতে পারবে না। প্রকাশ্য আদালতেও তিনি এই দম্ভোক্তি করেছিলেন গ্রেফতার হয়ে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময়। আজ সে সব শুধু কাহিনী, শুধুই কাহিনী। গত শনিবার বাংলাদেশের মাটিতেই এই খুনী জানোয়ারটির ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। নরকের বাস তার কনফার্ম হয়েছে।

আমাদের দুঃখ একটাই রাজাকার শিরোমনি গো আজমের ফাঁসী আমরা দিতে পারিনি। আমরা আব্বাস আলীখান, আব্দুর রহিম এইসব নরপশুদের কাঠগড়ায় দাড় করিয়ে তাদের জঘন্য অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করতে পারি নি। একই রকম ভাবে মৌলানা মান্নান মরে গিয়ে বেচে গেছে। বাচ্চু রাজাকার সহ আরো কয়েকজন প্রধান খুনী আজ দেশের বাহিরে শাস্তিসহ পালিয়ে আছে। এইসব নরপশুদেরও নরক বাস নিশ্চিন্ত করতে হবে।

আজকে যারা পাকিস্তানের সাথে, এই রাজাকার নেতাদের কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে ত্রিশ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে জাতি এবং বিশ্বকে বিভ্রান্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে তাদের বিচার করারও সময় এসেছে। আমরা আমাদের দেশে কোন স্বাধীনতা বিরোধী চক্র বা তাদের সহায়তা কারিদের রাজনীতি করতে দিতে পারি না। সম্পদের পাহাড়ে বসে আমাদের শহীদদের অপমান করবে এমন ঘটনার পূনরাবৃর্তি যেনো আর না হয় সেই গ্যারান্টি জাতি চায় এদেশের সকল স্বাধিনতা পক্ষের রাজনীতি দলসমুহের কাছে।

বাংলাদেশের মাটিতে জঙ্গিবাদের পত্তন করেছে এই কাশেমালী গং। এদের উপার্জিত কোটি কোটি টাকা বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিনত করার ষড়যন্ত্রে খরচ করেছে। শিবির, বাংলাভাই এবং বর্তমানে বিভিন্ন জংগী গোষ্ঠী এই জামাতী সংঘঠনেরই ছদ্মনাম। নিজের জীবন বাচাতে যেমন দেশী বিদেশী উকিল লবিষ্ট দের পিছনে কোটি টাকা খরচ করেছে, তেমনি জংগী গোষ্ঠীকেও অর্থের জোগান দিয়ে গেছে এই কাশেমালী গং।