ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

প্রতিবারের মতোই মানুষের ছুটে চলা ছিলো নাড়ীর টানে, বাবা মা, ভাই বোন স্ত্রী পরিজনের সাথে খুশীর ঈদ ভাগাভাগি করে নেবার তাগিদে । ঠাই নাই ঠাই নাই ছোট এই তরী অবস্থাতেও একটু ঠাই করে নিতে মানুষের প্রাণান্তকর প্রচেষ্ঠা। কেঊ বেতন পাক বা না পাক, বোনাসে টাকা পেয়েছে কি পায় নাই সেটাও ছিলো না বিবেচ্য। শুধু আত্মীয় পরিজন নিয়ে সবাই মিলে ঈদের আনন্দ উপভোগ করবে এই ছিলো প্রত্যাশা। সেই প্রত্যাশাকে নিয়ে যখন মানূষ ছুটছে তার গ্রামের বাড়ির পানে তখন হাযার বিপত্তিতেও মানুষের বিরক্তি ছিলো না। মানুষের মুখে এতো প্রতিবন্ধকতাতেও ছিলো হাসির ছোঁয়া। সেই অমলিন হাসি মুছে নিয়েছে সড়ক আর মহাসড়কের দুর্ঘটনা।

ঈদের আগে এবং পরে এমন কি ঈদের দিনেও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫৭ জন মানুষ। মন্ত্রী মহোদয়ের  ভাষায় বেপরোয়া গাড়ী চালানোর জন্য ঝরে গেছে দেড়শতাধিক মানুষ। সেই সব বাড়ীর ঈদ পরিনত হয়েছে স্বজন হারানোর দুঃখে। ঈদের আনন্দের পরিবর্তে কান্নার রোল এখন নিত্য সংগী। বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে মৃত্যুর সাথে সাথে সহস্রাধিক মানুষের আহত হবার ঘটনায়।

ঈদের মাত্র দুইদিন আগে টংগীর ট্র্যাম্পাকো কারখানার আগুনে এবং ভবন ধ্বসে মৃত্যু হয়েছে প্রায় অর্ধাশতাধিক  মানুষের। সেই মৃত্যুর মিছিলে যোগ হয়েছে আরো দেড় শতাধীক মানুষ। উভয় মৃত্যুর কারণ আপাত দৃষ্টিতে দুর্ঘটনা মনে হলেও এইসব দুর্ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা বলা যায় না। মানুষের অপরিনামদর্শিতাই এইসব দুর্ঘটনার কারণ।

কোন কিছুতেই কিছু যায় আসে না এমন মনোভাবের কারণেই মানুষকে প্রাণ দিতে হচ্ছে অবলীলায়।

মানুষের এই অবহেলার মানসিকতা এমন পর্যায়ে আজ গিয়েছে যে বর বিয়ে করতে যেয়ে লাশ হয়ে ফিরেছে নিজ গ্রামে। বিয়ে বাড়ীর আনন্দ পরিনত হয়েছে শোকের তান্ডবে। শহর উপজেলার হাসপাতালগুলোতে লাশ আর আহতদের  যন্ত্রনার চিৎকার গোটা পরিবেশ করে তুলেছে যন্ত্রনাময়। প্রতিদিনের রেডিও টিভি আর সংবাদপত্রের পাতায় দুর্ঘটনায়  মৃত্যুর খবর আর ছবি মানুষের মনে নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে তুলছে। স্বভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি আজ কোথাও নেই। শধুমাত্র শোক প্রকাশ আর দায়ীত্বহীনতার কথা বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কালচারে মানুষ আজ দিশেহারা।

বেশী লাভ, বেশি ট্রিপ, বেশি দ্রুততা এই দুর্ঘটনা গুলোর অন্যতম কারণ। মানুষের জীবনের মুল্য এই লাভ এবং লোভের কাছে তুচ্ছাতিতুচ্ছ। আইন শৃংখলা বাহিনী কয়েকটি টাকার কাছে মুখ বন্ধ করে তামাশা  দেখছে । নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ফিট বিহীন গাড়িগুলো যাত্রী বোঝাই হয়ে ছুটে চলছে মহাসড়কে। যার ফলে দুর্ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। মানুষে জীবনের মুল্য সেখানে কোন ব্যাপারই নয়।

আমরা এই মৃত্যুর মিছিল থামাতে চাই। আমাদের সবচেয়ে দায়িত্ববান মন্ত্রী সড়ক ও সেতু মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই সড়ক দুর্ঘটনা রোধে। আমরা বাসা থেকে বের হয়ে নিজের গন্তব্যে পৌছে যেতে পারি সেই গ্যারান্টী চাই। গ্যারান্টী চাই কাজ শেষে আবার সুস্থ্য অবস্থায় বাসায় ফিরতে। এই সামান্য গ্যারান্টি কি আমাদের জন্য কোন মহার্ঘ বস্তু? সুস্থ্য হয়ে, প্রাণ নিয়ে বাসায় ফিরে আসা কি সত্যিই অসাধ্য সাধন?