ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

সিলেটের কলেজ ছাত্রী আজ ৬ই অক্টোবর সকাল পর্যন্ত বেঁচে আছে প্রায় মৃতাবস্থায়। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণটা কেমন তা আমরা জানি না। কী যন্ত্রনা আর কষ্ট নিয়ে খাদিজা শুয়ে আছে স্কয়ার হাসপাতালের বিছানা সেটা আমরা কেউ অনুভব করতে পারবো না। খাদিজা একজন কলেজ ছাত্রী। নিরাপরাধ কলেজ ছাত্রী। সমাজ এবং সংসারে যুদ্ধ করতে করতে যেসব মেয়েদের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে হয় তাদেরি একজন খাদিজা। খাদিজা বর্তমান অস্থির সময় আজ সমাজের অবক্ষয়ের প্রান্ত সীমায় দাড়ীয়ে পড়ালেখা করতে হয় আজ বাংলাদেশে। যদিও সরকার নারীদের লেখপড়ায় অনেক সুযোগ সুবিধা দিয়েছে কিন্তু আমাদের সমাজ আজ ক্রমশঃই পিছু হটছে। জঙ্গীবাদ, ধর্মীয় উম্মাদনা আর বিভিন্ন সামাজিক রীতি নীতিতে আজো বাংলাদেশের মেয়েদের যুদ্ধ করেই বেঁচে থাকতে হয়, পড়াশুনা চালাতে হয়।

খাদিজারা যে সহজেই পড়ালেখা চালাতে পারে না তার প্রকৃষ্ট উদহারন এই খাদিজা। খাদিজার দোষ বদ বদরূলের প্রেমের প্রস্তাবে রাজী না হওয়া। খাদিজা রা যে মুক্ত বা নিরাপদ নয় তার প্রমাণ খাদিজা যখন আক্রান্ত তখন আশেপাশের মানুষ তাকিয়ে তাকিয়ে মজা দেখেছে, উৎসাহ নিয়ে ভিডিও করে ফেসবুকে দিয়েছে কিন্তু খাদিজাকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেনি।

কে এই বদ বদরুল? বদরুল কোন উচ্চবিত্তের ছেলে নয়, বা জঙ্গিও নয়। বদরুল গ্রামের এক কৃষক পরিবারের সন্তান। তার বাবা সৌদি ফেরত এক গরীব প্রবাসী, বদরুলের বাবা মারা গেছেন। গরীব সন্তানের ছেলে বদরুল শাহজালাল বিশ্ববিদ্যলয়ের ছাত্র। তার মা এবং পরিবার অনেক কষ্ট তার পড়ালেখা চালাতো। সেই বদরুল ক্ষমতার স্বাধ পেয়ে হয়ে উঠলো লাগামহীন উচ্ছৃঙ্খল। তার নামে অনেক রিপোর্ট থাকার পরেও ছিল ধরাছোঁয়ার বাহিরে কারণ সে ছিলো ক্ষমতার ছত্রছায়ায়। এখানে যারা বলছে বদরুল শিবির থেকে আগত তা পুরোই মিথ্যার বেসাতি। বদরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরেই ছাত্রলীগে জয়েন করে এবং সেখান থেকেই সহ সাধারন সম্পাদকের পদ লাভ করে।

সেই গ্রাম থেকে উঠে আসা বদরুল ছাত্রলীগে জয়েন করেই হয়ে উঠে ছন্নছাড়া। বদরুল লজিং থাকতো । সেই লজিং থাকাকালিন সময়ে খাদিজা কে দেখে দেওয়ানা হয়ে যায়। তা যেতেই পারে। লোকে বলছে ভালোবাসায় দেওয়ানা হয়েছিলো। কিন্তু ভালোবাসলে কি কোপানো যায়? কেমন সেই ভালোবাসা, যে ভালোবাসা প্রত্যাখান হলেই চাপাতিদিতে কুপিয়ে শেষ করে ফেলতে হবে? বদরুল রা আসলে ভালোবাসে না, তাদের ভালোবাসা সগুধুই লোক দেখানো আর মেয়েদের সর্বনাস করা। সেই সর্বনাসে পা দেয় নাই বলেই খাদিজাদের খুন হতে হয় চাপাতির ঘায়ে, বাধ্য হয় আত্মহননের, বরন করে নিতে হয় এসিড ছুড়ে মুখ ঝলছে যাওয়ার নির্মন পরিনতি।

বাংলাদেশে আজ নিরাপত্তা হীনতার সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। এই নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে কেউ বাদ নেই। নারী-পুরুষ-শিশু সব পর্যায়ের মানুষ আজ জীবনের অনিশ্চয়তায় ভুগছে। এরমধ্যে নারী এবং শিশু সবচেয়ে বেশি হত্যা, নির্যাতনের শিকার।

প্রায় প্রতিদিনের সংবাদে হয় নারী নির্যাতন অথবা শিশু নির্যাতন। এ যেন বর্তমানে সবচেয়ে সহজলভ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ ছয় মাস হয়ে গেছে তনু হত্যার কিছুই হয় নাই, কয়েকদিন আগে আফসানা মারা গেলো রবিন এখনো ধরাছোয়ার বাহিরে। সময় যেতে না যেতেই খাদিজার হত্যাচেষ্টা আমাদেরকে বাকরূদ্ধ করে দিয়েছে। তনু, আফসানা বা খাদিজার ঘটনাগুলো ভাগ্যক্রমে নিউজের হেডলাইন হয় কিন্তু প্রতিদিন যে নারী নির্যাতন, খুন আর শিশু হত্যা গুলো হচ্ছে সেগুলোর সংবাদের হেড লাইন হবারো সুযোগ হয় না।

কেনো এই নৃশংসতা? বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং বিভিন্ন নারী সংঘঠন গুলোর মতে বিচারহীনতা এবং বিচারের দীর্ঘসুত্রিতাই এর প্রধানতম কারণ। গত পাচ বছরে নারী ও শিশু নির্যতানের প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার মামলা বিচারাধীন। প্রতি মাসে প্রায় ৫,৪৬৬টি মামলা দায়ের হয় নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে, এর মধ্যে নিস্পত্তি হয় ৩,৯৬৬ টি। অপেক্ষায় থাকে প্রায় দেড় হাজার মামলা। যেসব মামলা নিষ্পত্তি হয় সেগুলো প্রায় মামুলি ধরনের মামলা, আর ভয়াবহ ধরনের মামলাগুলো ঝুলে থাকে বছরের বছর। সুত্রঃ বাংলাদেশ সময়।

তনু হত্যার আসামি আজো অধরা, আফসানার সন্দেহজনক মৃত্যু এবং তার সন্দেহভাজন খুনী রবিন আজো ধরাছোঁয়ার বাহিরে, খাদিজার হত্যাচেষ্টা বদরুল আটক কিন্তু কবে কি হবে সে নিয়ে সন্দেহ জনমনে। বিচারহীনতার সাংস্কৃতি থেকে আজো দেশ পরিপুর্ন ভাবে বের হয়ে আস্তে পারছে না দেশ। যে দেশে নারী এবং শিশুর নিরাপত্তা নেই সে দেশ কতোটুকু উন্নয়নের জোয়ারে ভাসবে কেউ কি বলতে পারেন?

একটি ক্ষমতাসীন দল তার ছাত্র সংঘঠনের লাগাম ধরে যদি রাখতে না পারে তবে বিশ্বব্যাপী যে সন্ত্রাস জংগী বাদ তাকে মোকাবেলা করবে কিভাবে। খাদিজা হত্যা চেষ্টার মধ্য দিয়ে এই প্রশ্নটি বড়ো বেশি করে জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।