ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 

প্রিয় পাঠক আজকের লেখা শুরু করার আগে প্রথমেই বলে নিতে চাই অনেকেই এই লেখার বিরোধীতা করবেন। অনেকেই আমাকে খারাপ ভাবতে পারেন। কিন্তু আমি মনে করি আজকের বিষয়টা অনেকের কাছে খারাপ মনে হলেও চিন্তার খোরাক যোগাতে পারে। তবে পৃথিবীতে যেসব দেশ প্রাগৈতিহাসিক ধ্যান ধারনা থেকে বের হয়ে আস্তে পেরেছে তাদের দেশের সামাজিক সমস্যা অনেক কমে এসেছে।

এই প্রসংগে আরি একটি কথা বলতে চাই আমার এই লেখা পড়ে ধর্মীয় বিধিনিষেধের কথা তুলতে পারেন। আমি সেই বিধিনিষেধের কথা কে সন্মান করেই লিখতে চেষ্ঠা করেছি।

মধ্যপ্রাচ্য এবং আমাদের এই উপমহাদেশে নারীদের ‘সতীত্ব’ নিয়ে অনেক বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়ে থাকে। একজন নারীর যদি হাত কেটে যায়, পা কেটে ফেলা হয় বা শড়ীরের একটা অংশ কেটে ফেলে দেওয়া হয় তাতেও মনে হয় পৃথিবীর কোন ক্ষতি হবে না কিন্তু একটি মেয়ের ‘সতীত্ব’ চলে গেলেই সে হয়ে যায় অস্পৃশ, সামাজিক ভাবে সে হয়ে পরে সমাজ বিচ্যুত। এই যে ‘সতীত্ব’ কথাটা কোথা থেকে এলো? কে তৈরি করল এই অদ্ভুত কনশেপশন? কিসের ভিত্তিতে এই প্রথা আমাদের এই মানব সমাজে এলো?

নারি অথবা পুরুষ আমাদের সমাজে প্রথম থেকে স্বাধীন ছিল। মানব সভ্যতার ইতিহাসে যৌথ জীবন যাপন এবং প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা এবং সর্বোপরি সন্তান উৎপাদনেও নারী পুরুষ সন্মিলিত ভাবে যৌথ সম্মত্তিতে অংশগ্রহন করতো। এতে করে পুরুষে পুরুষে বা নারিতে নারীতে দ্বন্ধ যে লাগতো না এমন কিন্তু নয়। তারপরেও যৌথ সমাজ যখন ছিলো তখন মানূষের সংঘবদ্ধতাই মানুষকে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে বাচতে শিখিয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে আজকের এই মানব সভ্যতা।

কালের পরিক্রমায় জোর যার বা সমাজে সর্দারের উদ্ভব হওয়ায় আস্তে আস্তে সমাজ এবং টোটেম গুলোর মধ্যে পরিবর্তন দেখা দিতে লাগে। পুরুষ সর্দার বা নারী সর্দারদের ব্যক্তিগত ক্ষমতা এবং সম্পত্তির লোভ দিনে দিনে বেড়ে যাবার ফলেই ধীরে ধীরে ব্যক্তি সম্পত্তির উদ্ভব হয়। উতপাদনের মুল শক্তি জোরের মাধ্যমে করায়ত্ত হতে থাকে। যেহেতু নারি ছিল সন্তান তথা লোক সংখ্যা বারানোর একমাত্র আধার, তাই নারীকেও ব্যক্তিমালিকানাধীন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। যেদিন থেকে নারী ব্যক্তি সম্পত্তিতে পরিনত হলো সেদিন থেকেই নারীকে বন্দী করার নানান ফন্দি ফিকির আবিস্কৃত হতে শুরু করে। ‘সতীত্ব’ হচ্ছে সেই ফন্দি ফিকিরের লেটেষ্ট কৌশল।

আমাদের মানব সমাজে সবাই বলে থাকেন ধর্ম এসেছে মানুষের আত্মার মুক্তি আনতে। জীবনে শান্তি আনতে একজন শ্রষ্ঠা খুব নিপুন ভাবে এই জগত শাসন করে চলেছেন। যাতে কেউ বিশৃংখল হয়ে না পরে। মেনে নিলাম সেই শ্রষ্ঠার অস্তিত্ব। সেই ধর্মেও কিন্তু নারী এবং পুরুষের মধ্যে বিভেদের রেখা টেনে দেওয়া হয়েছে সেই একটি অদ্ভুত শব্দের দ্বারা, সেটা হলো ‘সতীত্ব’। পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে মানব তৈরীর অনেক আগে।(ধর্মীয় বিধান মতে)  তাহলে আদি সাম্যবাদী যুগে এই ‘সতীত্ব’ শব্দটি আসলো না কেনো? তারমানে মানুষ যতো এগিয়েছে ততোই সে নারীকে বন্দী করার নতুন নতুন পথ তৈরী করেছে।

এই ‘সতীত্ব’ এমনই এক প্রথা, এমনই এক সভ্যতা, যে নারীকে এর জন্য কখনো লোহার প্যান্টি পরতে হয়েছে,  কখনো সুর্যের আলো থেকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে, কখনো পায়ে বেড়ি দেওয়া হয়েছে আবার কখনো বস্তায় ঢেকে ফেলা হয়েছে। নারী একজন পুর্নাংগ মানূষ এই সহজ সত্যের চেয়েও বড়ো হয়ে উঠেছে তার ‘সতীত্ব’ রক্ষা।

নারিদেহের মাত্র একটি বিশেষ অংগ রক্ষার নামে দেশ বিদেশে যে অনাচার অনাসৃষ্টি চলে পৃথিবীর অন্য কিছু নিয়ে ঘটে না। এই ‘সতীত্ব’ কথাটিকে এমন ভাবে আমাদের দেশে বা সমাজে চালু করা হয়েছে যার ফলশ্রুতিতে নারী হয়ে উঠেছে শুধুমাত্র ভোগের সামগ্রী।

প্রিয় পাঠক আজকের লেখা শুরু করার আগে প্রথমেই বলে নিতে চাই অনেকেই এই লেখার বিরোধীতা করবেন। অনেকেই আমাকে খারাপ ভাবতে পারেন। কিন্তু আমি মনে করি আজকের বিষয়টা অনেকের কাছে খারাপ মনে হলেও চিন্তার খোরাক যোগাতে পারে। তবে পৃথিবীতে যেসব দেশ প্রাগৈতিহাসিক ধ্যান ধারনা থেকে বের হয়ে আস্তে পেরেছে তাদের দেশের সামাজিক সমস্যা অনেক কমে এসেছে।

এই প্রসংগে আরি একটি কথা বলতে চাই আমার এই লেখা পড়ে ধর্মীয় বিধিনিষেধের কথা তুলতে পারেন। আমি সেই বিধিনিষেধের কথা কে সন্মান করেই লিখতে চেষ্ঠা করেছি।

মধ্যপ্রাচ্য এবং আমাদের এই উপমহাদেশে নারীদের ‘সতীত্ব’ নিয়ে অনেক বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়ে থাকে। একজন নারীর যদি হাত কেটে যায়, পা কেটে ফেলা হয় বা শড়ীরের একটা অংশ কেটে ফেলে দেওয়া হয় তাতেও মনে হয় পৃথিবীর কোন ক্ষতি হবে না কিন্তু একটি মেয়ের ‘সতীত্ব’ চলে গেলেই সে হয়ে যায় অস্পৃশ, সামাজিক ভাবে সে হয়ে পরে সমাজ বিচ্যুত। এই যে ‘সতীত্ব’ কথাটা কোথা থেকে এলো? কে তৈরি করল এই অদ্ভুত কনশেপশন? কিসের ভিত্তিতে এই প্রথা আমাদের এই মানব সমাজে এলো?

নারি অথবা পুরুষ আমাদের সমাজে প্রথম থেকে স্বাধীন ছিল। মানব সভ্যতার ইতিহাসে যৌথ জীবন যাপন এবং প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা এবং সর্বোপরি সন্তান উৎপাদনেও নারী পুরুষ সন্মিলিত ভাবে যৌথ সম্মত্তিতে অংশগ্রহন করতো। এতে করে পুরুষে পুরুষে বা নারিতে নারীতে দ্বন্ধ যে লাগতো না এমন কিন্তু নয়। তারপরেও যৌথ সমাজ যখন ছিলো তখন মানূষের সংঘবদ্ধতাই মানুষকে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে বাচতে শিখিয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে আজকের এই মানব সভ্যতা।

কালের পরিক্রমায় জোর যার বা সমাজে সর্দারের উদ্ভব হওয়ায় আস্তে আস্তে সমাজ এবং টোটেম গুলোর মধ্যে পরিবর্তন দেখা দিতে লাগে। পুরুষ সর্দার বা নারী সর্দারদের ব্যক্তিগত ক্ষমতা এবং সম্পত্তির লোভ দিনে দিনে বেড়ে যাবার ফলেই ধীরে ধীরে ব্যক্তি সম্পত্তির উদ্ভব হয়। উতপাদনের মুল শক্তি জোরের মাধ্যমে করায়ত্ত হতে থাকে। যেহেতু নারি ছিল সন্তান তথা লোক সংখ্যা বারানোর একমাত্র আধার, তাই নারীকেও ব্যক্তিমালিকানাধীন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। যেদিন থেকে নারী ব্যক্তি সম্পত্তিতে পরিনত হলো সেদিন থেকেই নারীকে বন্দী করার নানান ফন্দি ফিকির আবিস্কৃত হতে শুরু করে। ‘সতীত্ব’ হচ্ছে সেই ফন্দি ফিকিরের লেটেষ্ট কৌশল।

আমাদের মানব সমাজে সবাই বলে থাকেন ধর্ম এসেছে মানুষের আত্মার মুক্তি আনতে। জীবনে শান্তি আনতে একজন শ্রষ্ঠা খুব নিপুন ভাবে এই জগত শাসন করে চলেছেন। যাতে কেউ বিশৃংখল হয়ে না পরে। মেনে নিলাম সেই শ্রষ্ঠার অস্তিত্ব। সেই ধর্মেও কিন্তু নারী এবং পুরুষের মধ্যে বিভেদের রেখা টেনে দেওয়া হয়েছে সেই একটি অদ্ভুত শব্দের দ্বারা, সেটা হলো ‘সতীত্ব’। পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে মানব তৈরীর অনেক আগে।(ধর্মীয় বিধান মতে)  তাহলে আদি সাম্যবাদী যুগে এই ‘সতীত্ব’ শব্দটি আসলো না কেনো? তারমানে মানুষ যতো এগিয়েছে ততোই সে নারীকে বন্দী করার নতুন নতুন পথ তৈরী করেছে।

এই ‘সতীত্ব’ এমনই এক প্রথা, এমনই এক সভ্যতা, যে নারীকে এর জন্য কখনো লোহার প্যান্টি পরতে হয়েছে,  কখনো সুর্যের আলো থেকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে, কখনো পায়ে বেড়ি দেওয়া হয়েছে আবার কখনো বস্তায় ঢেকে ফেলা হয়েছে। নারী একজন পুর্নাংগ মানূষ এই সহজ সত্যের চেয়েও বড়ো হয়ে উঠেছে তার ‘সতীত্ব’ রক্ষা।

নারিদেহের মাত্র একটি বিশেষ অংগ রক্ষার নামে দেশ বিদেশে যে অনাচার অনাসৃষ্টি চলে পৃথিবীর অন্য কিছু নিয়ে ঘটে না। এই ‘সতীত্ব’ কথাটিকে এমন ভাবে আমাদের দেশে বা সমাজে চালু করা হয়েছে যার ফলশ্রুতিতে নারী হয়ে উঠেছে শুধুমাত্র ভোগের সামগ্রী। ‘সতীত্ব’ আসলে কি? নারীদেহের যৌনাংগের একটি বিশেষ পর্দা বা ম্যাম্ব্রেস থাকে। এই পর্দা খুবই হাল্কা এবং ভঙ্গুর। যেকোন লাফালাফি বা খেলাধুলার সময় এই পর্দা ফেটে যেতে পারে। স্বাভাবিক ভাবেই যেকোন ছিড়ে যাওয়াইয় যেমন অল্প রক্তপাত হতে পারে, তেমনি এখানেই কিছু রক্তপাত হয়।সেই রক্তপাত দিয়েই নারির ‘সতীত্ব’ পরীক্ষা হয়। কতো হাস্যকর পদ্ধতি বা নিয়ম এই সমাজে।

আজো যখন সমাজে নারীরা শিক্ষিত হয়ে, বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজেকে  প্রতিষ্ঠা করছে, দেশের জাতীয় অর্থনীতির একটা বিশাল ক্ষেত্রে অবদান রাখছে তখনও নারীকে চিন্তা করতে হয় তার  ‘সতীত্ব’ নিয়ে, কোটি কোটি টাকা উপার্জন এক নিমিশেই ধুলিসাত হয়ে যায় যখন কিনা একটি নারীর সেই  তথাকথিত ‘সতীত্ব’ চলে যায়। তার এই সমাজে বেচে থাকাই দায় হয়ে পরে। সমাজে সবার কাছে হয়ে যায় পরিত্যাক্ত। আমাদের দেশে তো তাও কোনরকমে বেঁচে বর্তে থাকতে পারে সকল লাজ লজ্জাকে পায়ে দলে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে একজন নারী যদি বিয়ের রাত্রে সাদা চাদর লাল করতে না পারে তাহলে তার বেঁচে থাকা অসম্ভব। এযেনো এক ভাগ্যের লীলা খেলা। বাসর রাত্রে এক লহমায় তার জীবন প্রদীপ নিভে যায় কারণ সেই নারী সতী নয়। ‘সতীত্ব’ এর প্রমাণ দিতে সে ব্যর্থ হয়েছে।

এই ‘সতীত্ব’ ব্যাপারে শুধুমাত্র যারা ধর্মের অনুসারী তারাই নয়, আমরা যারা মুক্তচিন্তা করি বা নিজেদের প্রগতিশীল ভাবি, সমাজের পরিবর্তন চাই তারাও কিন্তু এই ‘সতীত্ব’ নিয়ে সন্দিহান থাকি। নিজের বেলায় বা কাজে কর্মে, কথাবার্তায় সবাই একটা জায়গায় এসে থমকে যাই নারির ‘সতীত্ব’ নিয়ে। একজন পুরুষ সারা দুনিয়া ঘুরে বেড়াচ্ছে, হাযার মেয়ের সাথে দৈহিক সম্পর্ক করছে কিন্তু পুরুষের চরিত্র যায় না, পুরুষের ‘সতীত্ব’ অটূট থাকে কিন্তু একজন নারীর বেলায় ‘সতীত্ব’ কনফার্ম না হলে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যায়।

সামাজিক জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুকে যে ভাই বা বোন মুক্তচিন্তা বা নাস্তিক সেজে বড়ো বড়ো স্ট্যাটাস দিচ্ছে সেই ভাইটি বা বোনটি পরক্ষনেই লেখিকা তাসলিমা আক্তার কে নিয়ে কুৎসা গাচ্ছেন। তার জীবনের ব্যক্তিগত ব্যাপার নিয়ে গালাগাল দিচ্ছেন। কারণ তার ‘সতীত্ব’। তিনি ‘সতীত্ব’ এর ব্যাপারে আমাদের প্রচলিত ধ্যান ধারনা পোষন করেন না।

কোন নারী হয়তো পিউরিটান জীবন যাপন করেন না। কারন সামাজিক হতে পারে, আর্থিক হতে পারে বা জীনগত সমস্যা হতে পারে কিন্তু সাথে সাথে সেই নারীকে আমরা পতিতা বা বেশ্যা হিসেবে মার্ক করে ফেলছি। কারণ অই সেই ‘সতীত্ব’। এবং নারিরাই এই কুতসা রটনাতে অনেক বেশী এগিয়ে থাকেন।

চীন কোরিয়া ভিয়েতনাম সহ পাশ্চাত্যের দেশগুলো আজ ‘সতীত্ব’ এর ধারনাকেই বদলে ফেলেছে। এই বদলে ফেলানোর মধ্য দিয়ে নারী যেমন তার সন্মান ফেরত পেয়েছেন, তেমনিভাবে সমাজে ধর্ষন ব্যভিচার সহ নানান অত্যাচার কমে এসেছে। আমরা দিন দিন নারীকে পর্দার মধ্যে ঢেকেও যে অনাচার বন্ধ করতে পারছি না। সেই অনাচার ‘সতীত্ব’ কথাটাকে বাদ দিয়েই তারা অনাচার বহুলাংশে বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে। ধর্ষন সেইসব দেশে কল্পনার বিষয়। আর এই দেশে মসজিদের ভিতরেই তথাকথিত ‘সতীত্ব’ এর বারোটা বাজাচ্ছে।

আমাদের মধ্যে এই তথাকথিত ‘সতীত্ব’ এর ভুয়া ধারনা যতোদিন আছে ততোদিন সামাজিক অন্যায়, ধর্ষন, ব্যভিচার বন্ধ হবে না। নারীকে মানুষ ভাবুন। পুরুষের যেমন চাহিদা আছে, নারীরো চাহিদা আছে। আমরা নারী বা পুরুষ প্রাত্যেকের চাহিদা যেমন আছে তেমনি অধিকারো আছে সেই চাহিদা মেটানোর। সেইসাথে নারী যদি নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারে তবে পরুষ ও নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারবে। তবে সেই ‘সতীত্ব’ এর মিথ্যে ধারনা কে মুক্তি দিতে হবে সমাজ থেকে। আজো যখন সমাজে নারীরা শিক্ষিত হয়ে, বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজেকে  প্রতিষ্ঠা করছে, দেশের জাতীয় অর্থনীতির একটা বিশাল ক্ষেত্রে অবদান রাখছে তখনও নারীকে চিন্তা করতে হয় তার  ‘সতীত্ব’ নিয়ে, কোটি কোটি টাকা উপার্জন এক নিমিশেই ধুলিসাত হয়ে যায় যখন কিনা একটি নারীর সেই  তথাকথিত ‘সতীত্ব’ চলে যায়। তার এই সমাজে বেচে থাকাই দায় হয়ে পরে। সমাজে সবার কাছে হয়ে যায় পরিত্যাক্ত। আমাদের দেশে তো তাও কোনরকমে বেঁচে বর্তে থাকতে পারে সকল লাজ লজ্জাকে পায়ে দলে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে একজন নারী যদি বিয়ের রাত্রে সাদা চাদর লাল করতে না পারে তাহলে তার বেঁচে থাকা অসম্ভব। এযেনো এক ভাগ্যের লীলা খেলা। বাসর রাত্রে এক লহমায় তার জীবন প্রদীপ নিভে যায় কারণ সেই নারী সতী নয়। ‘সতীত্ব’ এর প্রমাণ দিতে সে ব্যর্থ হয়েছে।

এই ‘সতীত্ব’ ব্যাপারে শুধুমাত্র যারা ধর্মের অনুসারী তারাই নয়, আমরা যারা মুক্তচিন্তা করি বা নিজেদের প্রগতিশীল ভাবি, সমাজের পরিবর্তন চাই তারাও কিন্তু এই ‘সতীত্ব’ নিয়ে সন্দিহান থাকি। নিজের বেলায় বা কাজে কর্মে, কথাবার্তায় সবাই একটা জায়গায় এসে থমকে যাই নারির ‘সতীত্ব’ নিয়ে। একজন পুরুষ সারা দুনিয়া ঘুরে বেড়াচ্ছে, হাযার মেয়ের সাথে দৈহিক সম্পর্ক করছে কিন্তু পুরুষের চরিত্র যায় না, পুরুষের ‘সতীত্ব’ অটূট থাকে কিন্তু একজন নারীর বেলায় ‘সতীত্ব’ কনফার্ম না হলে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যায়।

সামাজিক জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুকে যে ভাই বা বোন মুক্তচিন্তা বা নাস্তিক সেজে বড়ো বড়ো স্ট্যাটাস দিচ্ছে সেই ভাইটি বা বোনটি পরক্ষনেই লেখিকা তাসলিমা আক্তার কে নিয়ে কুৎসা গাচ্ছেন। তার জীবনের ব্যক্তিগত ব্যাপার নিয়ে গালাগাল দিচ্ছেন। কারণ তার ‘সতীত্ব’। তিনি ‘সতীত্ব’ এর ব্যাপারে আমাদের প্রচলিত ধ্যান ধারনা পোষন করেন না।

কোন নারী হয়তো পিউরিটান জীবন যাপন করেন না। কারন সামাজিক হতে পারে, আর্থিক হতে পারে বা জীনগত সমস্যা হতে পারে কিন্তু সাথে সাথে সেই নারীকে আমরা পতিতা বা বেশ্যা হিসেবে মার্ক করে ফেলছি। কারণ অই সেই ‘সতীত্ব’। এবং নারিরাই এই কুতসা রটনাতে অনেক বেশী এগিয়ে থাকেন।

চীন কোরিয়া ভিয়েতনাম সহ পাশ্চাত্যের দেশগুলো আজ ‘সতীত্ব’ এর ধারনাকেই বদলে ফেলেছে। এই বদলে ফেলানোর মধ্য দিয়ে নারী যেমন তার সন্মান ফেরত পেয়েছেন, তেমনিভাবে সমাজে ধর্ষন ব্যভিচার সহ নানান অত্যাচার কমে এসেছে। আমরা দিন দিন নারীকে পর্দার মধ্যে ঢেকেও যে অনাচার বন্ধ করতে পারছি না। সেই অনাচার ‘সতীত্ব’ কথাটাকে বাদ দিয়েই তারা অনাচার বহুলাংশে বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে। ধর্ষন সেইসব দেশে কল্পনার বিষয়। আর এই দেশে মসজিদের ভিতরেই তথাকথিত ‘সতীত্ব’ এর বারোটা বাজাচ্ছে।

আমাদের মধ্যে এই তথাকথিত ‘সতীত্ব’ এর ভুয়া ধারনা যতোদিন আছে ততোদিন সামাজিক অন্যায়, ধর্ষন, ব্যভিচার বন্ধ হবে না। নারীকে মানুষ ভাবুন। পুরুষের যেমন চাহিদা আছে, নারীরো চাহিদা আছে। আমরা নারী বা পুরুষ প্রাত্যেকের চাহিদা যেমন আছে তেমনি অধিকারো আছে সেই চাহিদা মেটানোর। সেইসাথে নারী যদি নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারে তবে পরুষ ও নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারবে। তবে সেই ‘সতীত্ব’ এর মিথ্যে ধারনা কে মুক্তি দিতে হবে সমাজ থেকে।