ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

শতাব্দী সানজানা, প্রকাশক, লেখিকা, কবি বিভিন্ন সামাজিক কাজে ব্যস্ত থাকে সারাক্ষণ। আজ সকালে সামাজিক মাধ্যমে তার এক পোস্ট পড়ে এই লেখাটি লিখতে আরো বেশি তাগিদ অনুভব করলাম।

জরুরি পোস্ট:
এই গরমে পানির বোতল সবসময় কাছে রাখবেন এবং স্যালাইন। কিছুক্ষণ পর পর স্যালাইন পান করুন। আপনি যেখানেই যান না কেনো পানি বা স্যালাইন অবশ্যই সাথে রাখবেন। এক বোতল পানি কিনলে সাথে একটি স্যালাইনও কিনবেন। বাইরে যত্তোক্ষন থাকবেন, ডাব, লেবু পানি, আমের জুস খেতে পারেন। বিশেষ করে ডাব। বাইরের আখের রসটা কখনোই খাবেন না, এটা ক্ষতিকারক, বাসায় তৈরি করে খেতে পারেন। গরমে যতো পানি জাতীয় জিনিষ বেশি করে খাবেন। পানির ওপর নাম জীবন।”

এই ছিলো তার পোষ্টের ভাষ্য। সারাদেশে এখন তীব্র দাবদাহ বইছে। ঢাকাসহ সারাদেশের মানুষ এই  দাবদাহে অস্থির এবং নানান অসুখে-বিসুখে জর্জরিত। প্রায় বাসাতেই আজ সিরিয়াল ভাবে জ্বর-ঠাণ্ডা-কাশিসহ বিভিন্ন পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। দাবদাহের তীব্রতা যতো বাড়ছে মানুষ ততই পানির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। গরমে পানির কোন বিকল্প নেই। কিন্তু কী পানি পান করছি সেটাই প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাস্তায় বর্তমানে দুটো পানীয় বেশ জনপ্রিয়। এক কুশিয়ারের বা আখের রস অথবা লেবুর পানি। বরফসহ এই আখের রস আর লেবুর পানি মানুষ লাইন ধরে খাচ্ছে। এইসব পানি এবং আখের রস মানুষের জীবনে সাময়িক প্রশান্তি বয়ে আনলেও শরীরে বাসা বাধছে নানান পানি বাহিত জটিল এবং জীবন বিপন্নকারী অসুখ। আমায়শা, জন্ডিস, বি ভাইরাস, সি ভাইরাস, টাইফয়েড এর মতো মারাত্মক রোগে মানুষ সহজেই আক্রান্ত হচ্ছে এবং অকালে প্রাণ হারাচ্ছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সংবাদ অনুযায়ী এই তীব্র দাবদাহ আগামি আরো দুই-একদিন  থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, ঢাকা ও খুলনা বিভাগ এবং রাজশাহী, পাবনা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, চাঁদপুর, মাইজদীকোর্ট, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই তাপপ্রবাহ এ মৌসুমের চতুর্থ।

রোববার যশোরে দেশের সর্বোচ্চ ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা এ সপ্তাহের সর্বোচ্চ। আর ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

(সুত্রঃ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর)

মাস খানেক আগে থেকেই আবহাওয়াবিদ্রা পূর্বাভাস দিয়ে আসছিলেন গত কয়েক দশকের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশি দাবদাহ হতে পারে। পরিবেশ বাদি এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা এই গরম বা তীব্র দাহবাদের কারন হিসেবে গ্রিন স্তরের ক্ষয়, বৃক্ষ নিধন এবং যেখানে সেখানে নদ-নদীগুলোর প্রবাহে বাধ দিয়ে নদীর নাব্যতা নষ্ট করা এবং মানুষের যন্ত্র নির্ভরতাকে দায়ী করেছেন। তীব্র দাবদাহের কারণে মানুষের অয়ানির চাহিদা বেড়ে গেছে। কিন্তু সারাদেশে বিশুদ্ধ খাওয়ার পানির সংকট আজ তীব্র ধারন করেছে।

বাংলাদেশ উজানের দেশ। প্রায় সবকটি নদী পার্শ্ববর্তী দেশ ইন্ডিয়া হতে বাংলাদেশে প্রবেশ করে হয় আবার ইন্ডিয়াতে ঢুকেছে না হয় বঙ্গপোসাগরে পতিত হয়েছে। আর সবচেয়ে অপ্রিয় হলেও সত্য প্রায় সবকটি নদ-নদীর ভাটিতে বাদ দিয়ে নদীগুলোকে মৃতপ্রায় করে ফেলেছে। তাই কমেছে বৃষ্টিপাত, কৃষিকাজে পানি ব্যবহৃত হচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানি। যার ফলে দিনে পানির স্তর নীচে নেমে গিয়ে পুরো দেশ আজ মরুভূমিতে পরিনত হওয়ার পথে। গরমের তীব্রতা বাড়ছে প্রতিবছর। এ অবস্থা শধু মাত্র বাংলাদেশেই নয় এর প্রভাব মূলত ইন্ডিয়াতেও একই ভাবে পড়ছে। নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বন্ধ করে সাময়িক সুফল পাওয়া গেলেও বস্তুত দীর্ঘস্থায়ী সুফল আনতে পারে না। যার কারণেই বাংলাদেশের এই তীব্র দাবদাহ আজ ইন্ডিয়াতেও সমান ভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে।

অতএব আরো কয়েকদিন আমাদের এই তীব্র দাবদাহের জ্বালা সহ্য করতে হবে। এবং স্বাভাবিকভাবেই এই তাপমাত্রার কারণে মানুষজন পানির উপর নির্ভরতা বাড়িয়ে দিবে। আর পানির এই চাহিদা মিটাতে রাস্তার লেবুর শরবত আর আখের রসই হচ্ছে একমাত্র নির্ভরতা। খুব কম সংখ্যক মানুষেরই সামর্থ আছে ড্রিংকিং ওয়াটার কিনে খাওয়ার। ফলের জুস বা ডাবের পানি খাওয়ার বিষয় তো কল্পনা মাত্র।

তীব্র দাবদাহের সময় আমাদের প্রশাসন এবং সিটি কর্পোরেশনসহ সকল পৌর এবং ইউনিয়ন পরিষদ  বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে পারেন। এই তীব্র দাবদাহের সময়টুকুতেই এর প্রয়োজনীয়তা, এই তীব্রতা সবসময় থাকে। কিন্তু এর প্রভাবে যে ক্ষতির সম্মুক্ষীন হতে হয় তাতে করে স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে এগিয়ে আসলে জনগন বিভিন্ন প্রাণঘাতি অসুখের হাত থেকে রেহাই পাবে।