ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

বছরের এই একটি মাস সারা বাঙালি জাতির জন্য শোক আর লজ্জার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে নৃশংস হত্যাকাণ্ড অন্যদিকে বিশ্বাসঘাতকতার ঘৃণিত দৃষ্টান্ত। এই ঘৃণা আর বিশ্বাসঘাতকতা সারা বিশ্বের কাছে বাংগালী জাতিকে কৃতঘ্ন জাতি হিসেবে পরিচিত করেছে। একটি জাতি একজন মানুষ, একজন নেতা আর একটা লক্ষ্য নিয়ে যখন একটি সুসজ্জিত সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে একটি দেশকে স্বাধীন করতে পারে সেই জাতি রাতের অন্ধকারে খুন করতে পারে এটা বিশ্বাস করা বিশ্বের কাছে সত্যিই বিস্ময়কর।

স্বাধীনতা যুদ্ধের ভয়ংকর ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি দেশ, ত্রিশ লাখ শহীরের পরিবারগুলোর হাহাকার, দুইলাখ মা বোন ধর্ষিতা, কয়েক কোটি ঘর বাড়ী পুড়ে ছাই হওয়া, প্রায় সড়ক ও রেল পথের সেতু ধ্বংস প্রাপ্ত। সরকারের রাজকোষ সুন্য কোঠায়। সেই সময় যখন দেশকে পুনর্গঠন কাজে ব্যস্ত তখন পাকিস্তানী কুত্তারা আওয়ামী লীগে ঘাপ্টি মেরে থাকা বিশ্বাসঘাতকেরা স্বাধীনতা যুদ্ধের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠে।

খুব পুরানো প্রসংগ এসব, সবার জানা সমস্ত কিছু। কিন্তু বার বার এই ঘটনাই ঘটছে বাংলাদেশের ইতিহাসে। এদেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে যখনই স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষের শক্তি এসেছে ততোবারই ষড়যন্ত্রের নানার পথ তীব্র থেকে তীব্র হয়েছে। এই ষড়যন্ত্র শুধু মাত্র যে স্বাধীনতা বিরোধীরাই জড়িত তা কিন্তু নয়, এই ষড়যন্ত্রগুলোতে আওয়ামী লীগে থাকা অনেক রথী মহারথীও জ্ঞানে অজ্ঞানে জড়িয়ে পরেন। আওয়ামী লীগ যেহেতু একটি বূর্জোয়া ক্ষমতা সর্বস্ব দল, তাই ক্ষমতায় থাকা আর না থাকার হিসেব নিকেশে সহজেই জাত শত্রুও ঢুকে পড়তে পারে আওয়ামী লীগের একেবারে কোর কম্যান্ডে।

এ প্রসংগে মাত্র দুয়েকদিন আগেই একটি খবর প্রকাশ হয়েছে। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর এস এস এফের মধ্যে চাঁদপুরের মতলবের শিবির নেতা নুর মোহাম্মদ কে মোতায়েন। আমরা জানি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সহ বিদেশী গুরুত্বপুর্ণ নেতাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এস এস এফের অফিসার নিয়োগে নিশ্চয় এতোবড়ো গাফিলতি হওয়ার অবকাশ নেই। সে ক্ষেত্রে এখানেও সহজ সমীকরন। নিশ্চয় সর্ষের ভিতরেই ভুতের অবস্থান।

আমরা জানি বংগবন্ধুর জীবনদশায় তার চারিপাশে ছদ্মবেশে অনেক শত্রু অবস্থান নিয়ে তার আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছিলেন। এই বিশ্বাসঘাতকের দল নানাভাবে তাঁকে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে, ভুল পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করেছে। আর সেই ভুল সিদ্ধান্ত আর পদক্ষেপের ফলে জনগনের মধ্যে তার সম্পর্কে বিরুপ মনোভাব তৈরীতে সহায়তা করেছে। পনেরো আগষ্টের মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের পরে জনগনের যে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ বা প্রতিরোধ হওয়ার কথা তা স্বতঃস্ফুর্তভাবে হয় নাই। বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্তভাবে প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ গড়ে উঠলেও ঐক্যবদ্ধ কোন প্রক্রিয়া চোখে পড়ে নি।

 

আজ তেতাল্লিশ পরে যখন বংগবন্ধু কন্যা ক্ষমতায় এবং অনেক সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতি, অনিয়ম থাকার পরেও দেশকে কিছুটা উন্নয়নের পথে নিয়ে চলেছেন ঠিক সময়ে ৭১ এবং ৭৫ এর পুরানো শকুন দেশে বিদেশে নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে তাকে মেরে ফেলার। আমরা যতোই গলাবাজী করি না কেনো বাস্তবতা হলো এই যে যুদ্ধাপরাধীদের অনেক রাঘব বোয়ালকে ফাঁসিতে ঝুলানো সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্রে শেখ হাসিনার দৃঢ়তার কারণেই। সেই যুদ্ধাপরাধী দল জামাতের লোকেরা আজ দলে দলে আওয়ামী লীগে ঢুকছে বা যোগ দিচ্ছে তা শুধু বিনা কারণে নয়।

আমি বিশ্বাস করি কোন পাকিস্তানী বা জামাতি গোলাপ ফুল নিয়ে আসে তবে বুঝতে হবে এর পিছনে লুকিয়ে আছে কোন ধারালো ছুরি, যা দিয়ে সুযোগ বুঝে হত্যা করবে আমাকে।

এই বিশ্বাস বা ধারনা কখনোই ভুল হওয়ার নয়, ৭১ এ হয় নি, ৭৫ এ হয় নি, ২০০৪ এ হয় নি এবং আজো হবে না। শুধুমাত্র শেখ হাসিনা নয় এই হত্যাকান্ডের শিকার আমরা সবাই। যারা বাংলাদেশ কে ভালবাসি, যারা স্বাধীনতা বিশ্বাস করি, যারা নারীর অগ্রগতিতে বিশ্বাস করি, যারা মুক্তমনে যুক্তিতর্ক করতে চাই, যারা মুক্ত হস্তে সত্য তুলে ধরতে চাই তারাই এই বেজন্মা শত্রুদের টার্গেট। সুযোগ আর অপেক্ষায় আছে এই শত্রুর দল। যদি শেখ হাসিনাকে শেষ করতে পারে তবে আমাদের শেষ করা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

২০১৭ এবং ২০১৮ বাংগালী জাতির জন্য এক ক্রান্তিকাল। অনেক দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশের রাজনীতি ঘুরপাক খাবে। অনেক খুন আর ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডে ব্যস্ত হয়ে পড়বে বাংলাদেশের রাজনীতি। ছুরি চলবে ভিতর থেকে, ছুরি চলবে বাহির থেকেও। ধর্ষন আর নারী নির্যাতন এই ষড়যন্ত্রেই এক অংশ মাত্র।

 

আসুন শোক জানাই, জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা জাতির জনক ও তার পরিজনক। সেই সাথে সকল ষড়যন্ত্রের বিষদাঁত ভেংগে দিয়ে সংকল্পবদ্ধ হই, সচেতন হই, এবং দল ভারী করার যে অপরিনামদর্শী পথ তা পরিহার করতে আওয়ামী লীগের প্রতি আহবান জানাই।