ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

মিয়ানমার রাষ্ট্রের সাতটি প্রদেশের একটি হলো রাখাইন। এখানে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বসবাস। এবং রোহিঙ্গাদের জাতিগত সমস্যা আজ থেকে অনেক পুরানো। বার্মা সরকারের বিভিন্ন ক্ষমতাশীন দলগুলো এই রোহিঙ্গাদের বার্মার অধিবাসী হিসাবে কখনোই স্বীকার করে আসেনি। তাদের বক্তব্য, রোহিঙ্গারা চট্রগ্রাম থেকে এসে জোরদবস্তি আস্তানা গেড়ে বসেছে। এখানে কিছুটা সত্যতা থাকলেও বার্মা সরকারের এই দাবির পিছনে তেমন কোন ঐতিহাসিক সত্যতা নেই। এসব পুরানো কথা। এসব আমরা সবাই কমবেশি জানি।

আজকের শান্তির দূত, গনতন্ত্রের নেত্রী অং সান সুচির বাবার আমল থেকে শুরু হয়ে আজ পর্যন্ত রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হয়নি। বরঞ্চ দিনে দিনে এই রোহিঙ্গা গোষ্ঠী আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের দাবার গুটিতে পরিনত হয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী প্রথম থেকেই এই রোহিঙ্গাদের স্বাধীন আরাকান রাজ্য গঠনে তাদের সাহায্য সহযোগিতা করে এসেছে, উস্কানি দিয়েছে।

বাংলাদেশে ৭১ এর শোচনীয় পরাজয়ের পর পাকিস্তানি সামরিক জান্তা বৃহত্তর চট্রগ্রামসহ এক স্বাধীন আরাকান রাষ্ট্র গঠনে আরাকান সশস্ত্র বাহিনী গঠনে আইএসআই এর মাধ্যমে সহযোগিতা করে আসছে। এবং প্রথম থেকেই জামাত-শিবির এবং আমাদের স্বাধিনতা বিরোধী শক্তি এই সশস্ত্র আন্দোলনে মদত দিয়ে আসছিলো। ভারতের সাত কন্যা, এবং আরাকান রাষ্ট্রের সশস্ত্র বিদ্রোহীদের অস্ত্র এবং সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য বাংলাদেশের মাটিকে বহুবছর ধরে ব্যবহার করে এসেছে। সেই সাথে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে এরা বাংলাদেশের পাসপোর্ট তৈরী করে বিভিন্ন দেশে নানারকম অন্যায় কুকর্ম করে বাংলাদেশের শ্রম বাজার হারানোর কাজ প্রায় সম্পন্ন করে এসেছিলো। পরবর্তীতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপে এবং অনেক দেন দরবারে সেই শ্রমবাজার রক্ষা পায়।

৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে শুরু করে। সেই সময় শান্তিচুক্তিও এই কার্যক্রমে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। রোহিঙ্গাদের অবাধ অনুপ্রবেশ যখন বাংলাদেশ সরকার বন্ধ করতে তৎপর হয় তখন তারা আরো মরিয়া হয়ে উঠে। মিয়ানমার সরকারের বিভিন্ন স্থাপনা, পুলিশ এবং সেনা ছাউনীগুলোতে বিনা প্ররোচনায় হামলা চালাতে থাকে। প্রতিদিন কিছু না কিছু পুলিশ, সীমান্তরক্ষী বা সেনাসদস্য তাদের হাতে জীবন দিতে থাকে। যার ফলশ্রুতিতে রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমার সরকার এবং স্থানীয় বৌদ্ধরা চড়াও হয় এবং গণহত্যা ও অগ্নিসংযোগ করে অমানবিক অবস্থার সৃষ্টি করে।

মানুষ হত্যা, অগ্নিসংযোগ আর ধর্ষণ যে কোন অবস্থাতেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। রোহিঙ্গাদের উপর ব্যাপক প্রতিশোধমূলক হামলা, গণহত্যার নিন্দা জানাই। বিশ্ববাসীকে সাথে নিয়ে এই অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাই কিন্তু সেই সাথে আমরা আমাদের নিজেদের নিরাপত্তার কথাও মনে রাখবো।

এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী আমাদের দেশে ঢুকে জঙ্গিদের মদদদাতা এবং বিভিন্ন দেশে জঙ্গি হামলায় বাংলাদেশের নাম ব্যবহার করে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে দিচ্ছে। বিভিন্ন জায়গার বন্যা, গণহত্যা আর অগ্নিসংযোগের ছবি কপি-পেস্ট করে আমাদের নিরীহ জনগোষ্ঠির সহনাভূতি আদায়ে এই রোহিঙ্গারা চেষ্টা চালিয়ে আসছে বেশ কয়েক বছর ধরে। আমাদের কিছু সংবাদ মাধ্যমও তাদের ছবি ছাপিয়ে তাদের জন্য বুঝে না বুঝে মায়াকান্না শুরু করে দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমের কিছু মানুষ ধর্মের কথা বলে এইসব রোহিঙ্গাদের  আশ্রয় দেওয়ার জন্য সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করছে।

এ থেকে উপকৃত হচ্ছে রোহিঙ্গা জঙ্গি গোষ্ঠী, পাকিস্তানি আইএসআইয়ের নেটওয়ার্ক এবং স্বাধিনতা বিরোধী গোষ্ঠী, যারা এদেশকে একটি অকার্যকরি দেশ হিসেবে, সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চায়। এক বিশাল সংখ্যার নষ্ট জনগোষ্ঠীকে এদেশে আশ্রয় দিয়ে সাধারণ মানুষের শান্তির ভারসাম্য নষ্টের এই খেলায় কিছুতেই জয়ী হতে দেওয়া যাবে না।
rohingya
আন্তর্জাতিক মুরুব্বীরা মিয়ানমার সরকারের সাথে কোন সমাধানে না এসে  বাংলাদেশের উপর বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার কৌশল কিছুতেই মেনে নেওয়া যাবে না। আল কায়দা, আইএসআই এবং আইএস  দানবেরা রাখাইন জনগোষ্ঠীর এই অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে গোটা উপমহাদেশকে লণ্ডভণ্ড করে দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই পরিকল্পনায় বাংলাদেশ হচ্ছে তাদের প্রথম টার্গেট। তাই আমাদের নিজেদের সচেতন হতে হবে। শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুভূতি যেন  বিবেচনার আশ্রয় হতে না পারে। ৭১ সালে পাকিস্তানি মুসলিমরাই কিন্তু বাঙ্গালি মুসলমান, হিন্দু, খৃষ্টান, বৌদ্ধদের হত্যা করেছিলো!