ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

02_Dhaka+Rickshaw+Fiesta_180414_0006

মধ্যবিত্তের বাহন বা মধ্যবিত্তের নাগালের সহজ চলাচলের মাধ্যম রিক্সা আজ মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ঢাকা শহরে যারা একটু ভদ্রভাবে বা ঝামেলা বিহীন ভাবে চলাচল করতে চাইতো তারা বেশীর ভাগ সময়েই রিক্সাকেই প্রাধান্য দিতো। বাড়ির মহিলারা বাসের ঠেলাঠেলি এড়িয়ে একটু ভদ্রভাবে আসা-যাওয়ার জন্য আজো রিক্সার উপর নির্ভর করে থাকলেও রিক্সা ভাড়ার কাছে আজ হার মানতে হচ্ছে।

গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে ঢাকা শহরের মধ্যবিত্তের বাহন রিক্সার ভাড়া জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে। অথচ মধ্যবিত্তের আয়ের পথ কিন্তু সেইভাবে বাড়েনি। বেড়েছে কিন্তু তা গাণিতিক হারে। বেতন বাড়ার সাথে সাথে জিনিসপত্রের দাম যে হারে বেড়েছে, বাড়ি ভাড়া যে হারে বেড়েছে, এরপর সন্তান-সন্ততিদের পড়াশুনার খরচ চালিয়ে যাতায়াতের জন্য রিক্সা ভাড়া বহন করা সত্যিই আজ দুরুহ ব্যাপার।

সাবেক রাষ্টপতি এরশাদের আমল থেকে ঢাকা শহরে রিক্সার ভাড়া বছরে বছরে বেড়েই চলেছে। প্রথম প্রথম এই রিক্সা ভাড়া বাড়ার হার ছিলো মোটামুটি নাগালের মধ্যে। অথচ গত কয়েক বছরে এই রিক্সা ভাড়া আকাশচুম্বী। রিক্সা ডাকলেই চল্লিশ-পঞ্চাশ টাকা হেঁকে বসা এখন কিছুই না। বসুন্ধরার উল্টো দিক থেকে রাজাবাজার যেতেই চল্লিশ টাকা ভাড়া চেয়ে বসা যেনো কিছুই নয়। শাহবাগের মোড় থেকে টিএসসি র মোড় বিশ টাকা মাঝে মাঝে ত্রিশ টাকাতেও পাওয়া যায় না।

মূলত স্বৈরাচার এরশাদ ঢাকা শহরের মূল রাস্তাগুলোতে যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে এবং ট্রাফিক জ্যামের কারণে রিক্সা চলাচল বন্ধ করে দেন। অথচ ঢাকা শহরে যেসব রাস্তায় রিক্সা চলে না সেইসব রাস্তাতেই সবচেয়ে বেশি ট্রাফিক জ্যামে ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে যায়। কিছু রাস্তায় রিক্সা চলাচল বন্ধ করার সাথে সাথে রিক্সাওয়ালারা রিক্সার ভাড়া বাড়িয়ে দেন অবিশ্বাস্য হারে। যুক্তি হলো অনেক ঘুরে যেতে হবে। এভাবেই ঢাকা শহরে রিক্সা ভাড়া দিন দিন বাড়তি পথে হাটা শুরু করে, যা আজ সাধ-সাধ্যের বাইরে।

01_Rickshaw_Mirpur+Road_New+Market_AP_210116_0002

 

ঢাকা শহরে রিক্সা শধুমাত্র প্রধান এবং সুবিধাজনক যান হিসেবেই ছিলোনা, বরঞ্চ ঢাকা শহরে রিক্সা ছিলো মধ্যবিত্ত ও ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে বেড়ানোর অন্যতম বাহন। ঘন্টা ভিত্তিতে রিক্সা ভাড়া করে বেড়ানো ছিলো অনেকটা সিনেমা দেখার মতোই বিনোদন। আশির দশকের শেষ পর্যন্ত ছিলো এই ধারা। তখনো মধ্যবিত্তের আয়ের অংশ না বাড়লেও রিক্সা ভাড়া ছিলো তার আয়ত্তের মধ্যেই, ছিলো সহজলভ্য। আজ ঢাকা শহরে রিক্সার সংখ্যা অনেক বেড়েছে ঠিকই কিন্তু তাতে চড়ার মতো ক্ষমতা মধ্যবিত্ত হারিয়ে ফেলছে।

অবশ্য একথা স্বীকার করতেই হয়, রিক্সা চালানোর মতো এক অমানুষিক পেশা সত্যিই অগ্রহণযোগ্য। কিন্তু অনেক মানুষের রুটি রোজগারের ব্যবস্থাও এই বাহনের দ্বারাই আসছে। রিক্সা চলাচল এক ধীর গতির যানবাহন হলেও রিক্সায় কোন বায়ু দূষণ হয় না এবং পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে না। এদিক দিয়ে শহরে রিক্সার সংখ্যা বাড়লে পরিবেশের ক্ষতি অত্যন্ত হয় না। বরঞ্চ ইউরোপের অনেক শহরেই আজ রিক্সার মতো বাহনকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে শুধুমাত্র পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে। অন্যদিকে আমরা রিক্সাকে উঠিয়ে দিয়ে পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ যানবাহনের দিকে ক্রমশঃ ঝুঁকছি।

মূলত রিক্সা ভাড়া এবং এর চলাচলের জন্য সিটি করপোরেশনের কোন নিয়মনীতি নেই। ঢাকা শহরে কতো রিক্সা চলছে তার কোন পরিসংখ্যান আজ দুই সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছেই নেই। রিক্সা গুলো গ্যারেজ এবং সমবায় সমিতির নিবন্ধন কার্ড ব্যবহার করে চালাচ্ছে। করপোরেশন কর্তৃক লাইসেন্সধারী রিক্সার সংখ্যা নিতান্তই কম। করপোরেশন কর্তৃক ভাড়া নির্ধারণের কোন বালাই এখন আর চোখে পড়ে না।