ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

October-Biplob-Revolution-AP-071117-0004

পৃথিবী কাঁপানো রুশ বিপ্লবের শতবর্ষ পালন হয়েছে বিশ্বব্যাপী। যদিও সোভিয়েত রাষ্ট্র ব্যবস্থা ভেঙ্গে গেছে নব্বই দশকের শুরুতেই, তারপরেও খোদ রাশিয়াতেও স্বপ্ল পরিসরে হলেও রুশ বিপ্লবের শতবর্ষ পালিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক কমিউনিস্টদের এক আন্তর্জাতিক সন্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়েছে রাশিয়ায়। প্রায় দুই শতাধিক কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা সেই আন্তর্জাতিক সন্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন।

রুশ বিপ্লবের শতবর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশেও জাতীয় কমিটি গঠন করে নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে রুশ বিপ্লবের শতবর্ষ পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন বাম রাজনৈতিক দল এবং জোট এই কর্মসূচী সফল করে তুলতে যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়েছে। এই লেখা যখন প্রকাশ হবে তখন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রুশ বিপ্লবের শত বার্ষিকীর অনুষ্ঠান ঘনিয়ে আসবে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের সবচেয়ে বড় ট্যাজেডি হলো কমিউনিস্টরা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নিজেদের মধ্য কখনোই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে আসতে পারেনি। রণকৌশল, রণনীতি বা বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বিভেদ তৈরী করেছে বা দলিল পাল্টা দলিল নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে। যার ফলে আমাদের জানামতে কমিউনিস্ট পার্টির সাফল্য আমাদের চোখে সেইভাবে ধরা পরেনি।

যে জনগণের মুক্তির জন্য সমাজতন্ত্র বা কমিউনিস্টদের ত্যাগ-তীতিক্ষা সেই জনগণ তাদের কোন ফল ভোগ করতে পারেনি। তাই সমাবেশ বলুন, বিবৃতি বলুন, মিছিল  বলুন আর আন্দোলন বলেন কমিউনিস্টদের সেই ঐক্যের আহবান ছাড়া আর কিছুই পরিলক্ষিত হয় না। অথচ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি এতো মতবিরোধের পরেও তেভাগা আন্দোলন, ডোমার ডিমলার কৃষক আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, পাকিস্তান আমলের বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং স্বাধীনতা আন্দোলনেও এদেশের কমিউনিস্টদের অবদানকে অস্বীকার করা যাবে না। এইসব আন্দোলনের সফল রূপকার এবং আন্দোলনকারী সবাই কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত। কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বেই করেছে কিন্তু এর ফসল ঘরে তুলেছে সম্পুর্ণ বুর্জোয়া ক্ষমতালোভী দলগুলো। এর পিছনেও একই কারণ কমিউনিস্টদের নিজেদের মধ্যে ঐক্যের অভাব। নিজেদের মধ্যে দাঁড়ি-কমা আর সেমিকোলনের মতপার্থক্য কমিউনিস্টদের এদেশের রাজনীতি থেকে ক্রমশঃই এক ঘরে করে তুলেছে নাহয় বিলুপ্ত ধারায় নিয়ে গেছে। বাংলাদেশে একসময় মাইক্রোস্কোপ দিয়ে গুনেও কমিউনিস্টদের সংখ্যা নির্ধারণ করা যায়নি।

তাই রুশ বিপ্লবের শতবর্ষের অনুষ্ঠানেও কমিউনিস্ট নেতাদের গলায় একই সুর, একই আহবান। বামেদের ঐক্য চাই। যেনো সাম্রাজ্যবাদ কমিউনিস্টদের ঐক্য হতে দিচ্ছে না! যেনো নতুন করে ঐক্য খুব প্রয়োজন। ঐক্য, কমিউনিস্টদের, বিশেষ করে এই উপমাহাদেশে কোন দিন ছিলো না। আর এই ঐক্যের অভাব এর জন্য সাম্রাজ্যবাদ বা এদেশের মাঠে ময়দানে কাজ করা অগণিত কমিউনিস্ট কর্মীরা দায়ী নয়। দায়ী হচ্ছে নেতৃত্বের আসনে বসে থেকে যারা ঐক্যের আহবান জানান তাদের। তাদের অনৈক্য কে কেন্দ্র করেই বাংলাদেশে কমিউনিস্টরা আজ বিভ্রান্ত, বিক্ষিপ্ত আর ঐক্যবিহীন। আর সেই ঐক্যহীনতার জন্য বার বার বুর্জোয়ারা কমিউনিস্টদের তৈরী আন্দোলনের ফসল নিজেদের ঘরে তুলছে। এই ঐক্যহীনতা আমাদের বামধারার রাজনীতিকে কখনো সামরিক স্বৈরশাসকের তল্পিবাহকে পরিনত করেছে, কখনো খাল কাটা কর্মসূচীর সহযোগী বানিয়েছে, কখনো বি টিম, সি টিমে পরিনত করেছে। নিজেদের স্বকীয়তা কখনোই উজ্বল হয়ে উঠতে পারেনি।