ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

ম্যানহাটনের রাস্তায় আত্মঘাতি বোমা হামলা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ  করতে যেয়ে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশী যুবক আকায়েদ। আকায়েদ ইসলাম, চট্রগ্রামের ছেলে। শিবিরের সাথে  সংযুক্ত। সে বাসষ্ট্যান্ডে বোমা মেরে মার্কিনীদের মারতে চেয়েছিলো। প্রতিবাদ করতে চেয়েছিলো জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী করার ট্রাম্পীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। আকায়েদ মানুষ মারতে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু সারা  বিশ্বে অবস্থানরত প্রবাসী লাখো বাঙালিকে এক অনিশ্চিত ভবিষতের পথে ঠেলে দিয়েছে। সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে এক বিভীষিকার নামে পরিণত করেছে আকায়েদ, এক যন্ত্রনায় পরিণত  হওয়ার নাম আকায়েদ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারগুলো বহুদিন ধরেই বাংলাদেশ সহ অন্যান্য মুসলিম প্রধান প্রবাসীদের উপর বিভিন্ন বিধি নিষেধ আরোপের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই উদ্যোগ আরো বেশি করে চলে আসছে। বাংলাদেশিদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ব্যাপারে মার্কিন সরকারকে আকায়েদের আত্মঘাতি বোমা হামলার চেষ্টা আরো তৎপর করে তুলবে।

আমাদের দেশের কিছু মানুষ আছেন যারা থাকেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন। হাজার ডলার পাউন্ড উপার্জন করেন। তখন তাদের ধর্মবোধ ইসলামপ্রীতি এসব কোন বাধ সাধে না। কিন্তু ওইসব দেশের বিরুদ্ধেই আমাদের কিছু লোক ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত হয়। নানা রকম দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে অংশ গ্রহণ করে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে এবং বিদেশে অবস্থানরত অন্যান্য প্রবাসীদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আকায়েদ কোন বাঙালির নাম নয়। বাঙালির মুসলমানদের নাম কখনোই আকায়েদ হতে পারে না। তাই এইসব ছেলে পারিবারিক ভাবেই জঙ্গি বা সন্ত্রাসী হয়ে উঠে। আমাদের দেশে কিছু কিছু পরিবার এইসব নাম রেখে ছেলে-মেয়েদের মানসিকভাবেই সন্ত্রাসী হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

আকায়েদ এদেশে অবস্থান করার সময় থেকেই ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাথে যুক্ত ছিলো। তাহলে সে কিভাবে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন পার হলো। আমরা জানি বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন পার হওয়া সাধারন মানুষের জন্য অনেক বিড়ম্বনার। অথচ দেখা যায় বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ থেকে অনেক জংগী, সন্ত্রাসী এবং মারাত্মক  চরিত্রের মানুষ জন বিদেশ চলে যান অনায়াসে। আমাদের দেশের গোয়েন্দা বিভাগ এখানেও ব্যর্থতার পরিচয় দেন। শুধু রাজনৈতিক ঘটনায় উনারা খুব পারদর্শী হয়ে থাকেন। ঠিক তেমনি ভাবেই সকল তথ্য গোপন রেখেই আকায়েদের মতো ছেলেরা কোন না কোনভাবে বিদেশে যেতে সক্ষম হোন। এবং বিদেশে যেয়ে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করে, অন্যদিকে সাধারন প্রবাসীরা মারাত্মক হুমকীর মুখে পরে এইসব অনাকাংক্ষিত ঘটনায়।

আমাদের দেশের মানুষ সাধারন ভাবে ধর্মভীরু হলেও কখনোই ধর্মান্ধ ছিলো না। প্রত্যেক ধর্মের মানুষ প্রায় শান্তিতেই নিজেদের ধর্ম পালন করে এসেছে। পাকিস্তান সৃষ্টির মধ্য দিয়ে ভারতীয় উপমাহাদেশে ধর্মের নামে যে রাজনীতি শুরু করেছিলো আমাদের নেতৃবৃন্দ, তাতে উৎসাহ যুগিয়েছিলো ব্রিটিশ রাজ আগুনে ঘি দেওয়ার মতো করে। তাদের রাজত্ব শেষ হয়ে আসছে এটা জেনেই তারা এদেশের রাজনীতিতে ধর্মের ভন্ডামি যোগ করেছিলো। তারই ধারাবাহিকতায় এবং  তারই বিষ বাষ্পে জর্জরিত বাংলাদেশের মানুষ। সেই সাথে যোগ হয়েছে পাকিস্তানী আমল, এদেশে জন্ম নেওয়া পাকিস্তানী ভাবধারায় পুষ্ট কিছু জানোয়ার আর পচাত্তর পরবর্তী আমাদের কুলষিত ক্ষমতা কেন্দ্রীক রাজনীতি এবং কিছু বেজন্মা যারা এদেশে জন্ম নিয়ে পাকিস্তানী চিন্তায় আছন্ন থাকে এবং বাংলাদেশের ক্ষতির জন্য মুখিয়ে থাকে। এরা ধর্মের অপব্যাক্ষ্যা দিয়ে সাধারন মানুষকে বিষিয়ে তুলে। এরা যেমন দেশের শত্রু তেমনি মানবতার শত্রু। এরা দেশের কথা, মানুষের কথা চিন্তা করে না। এই অবস্থার জন্য যেমন আজকের ক্ষমতাসীন দল দায়ী তেমনি সবচেয়ে বেশী দায়ী বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির রাজনীতি। ক্ষমতার লোভে এইসব রাজনৈতিক দল হিংস্র জামাত শিবির সহ বিভিন্ন ধর্মান্ধ রাজনৈতিক শক্তিকে সহায়তা করেছে, বেড়ে উঠতে দিয়েছে সাহায্য সহযোগিতা করে।

৯/১১ সারা পৃথিবীকে চমকে দিয়ে বির্তকিত লাদেনের টুইন টাওয়ার হামলা থেকে শুরু করে সারা দুনিয়ায় ইসলামী জঙ্গি গোষ্ঠীর নামে যে নারকীয়তার সৃষ্টি হয়েছিলো তাতে করে সারা বিশ্বে মুসলমানদের অবস্থান হুমকীর মুখে পড়ে। সারা দুনিয়ায় যখন জঙ্গি গোষ্ঠীর হামলায় শংকিত তখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ছিলো শান্তি আর সহবস্থানের সর্বোকৃষ্ট উদাহরণ। কিন্তু কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া হোলি আর্টিজানের ঘটনাতেই সারা দুনিয়া বাংলাদেশের ব্যাপারে নড়েচড়ে বসে। পরপর কয়েকটি বিদেশি হত্যাও এইসাথে যোগ হয়। কিন্তু তারপরেও সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ এবং সময়োচিত সিদ্ধান্তে কিছুটা সহনীয় হয়ে উঠে। কিন্তু আকায়েদ সেই সহনীয়তাকে নষ্ট করার পথে নিয়ে গেলো।

হোলি আর্টিজানের ঘটনায় বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক যে ক্ষতি হয়েছে তা পুরণ করতে আমাদের বহু বছর পিছিয়ে যেতে হয়েছে। আজো অনেক দেশ বাংলাদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সাবধানতার  বিধিনিধেষ দিয়ে রেখেছে। আজো অনেক বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিনিয়োগে অনীহা দেখাচ্ছে। সেইরকম এক অবস্থায় আকায়েদ  দেশের লাখো প্রবাসীদের ফেলে দিলো আরো এক অনিশ্চয়তায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আকায়েদের ঘটনার সাথে সাথে তার অভিবাসী বিষয়ক পরিকল্পনার যথার্ততা তুলে ধরেছেন। সেই সাথে সাতটি দেশের নাগরিকদের উপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন তারো যৌক্তিকতার প্রমান দেখিয়েছেন। এখন যদি বাংলাদেশের প্রতিও একই নিষেধাজ্ঞা জারি হয় তবে তা হবে গোদের উপর বিষফোঁড়া।