ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সফল মেয়র সদ্য প্রয়াত জনাব আনিসুল হকের প্রয়াণে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপ-নির্বাচনের ডামাঢোল ইতিমধ্যেই বেজে উঠেছে। নির্বাচন কমিশন এখনো নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা না করে থাকলেও সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা দিয়েছেন এবং রাজনীতির মাঠ ইতিমধ্যেই গরম হয়ে উঠেছে।

আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রার্থী নির্বাচনের ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে। জনগণের মধ্যেও বিশেষত দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রার্থী কে হচ্ছেন বা হবেন সে ব্যাপারে উৎসাহ দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জনগণ কে শুভেচ্ছা অভিনন্দন জানানো শুরু করেছেন পোস্টার ফেস্টুনের মাধ্যমে।

গত ২২ শে ডিসেম্বর সদ্য সমাপ্ত রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনী ফলাফল প্রধান দুই দলেরই হিসাব নিকাশে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। শুধুমাত্র অর্থ আর পেশিশক্তি বা ক্ষমতার আশীর্বাদ থাকলেই যে নির্বাচনী বৈতিরণী পার হওয়া যাবে না সে এখন কল্পনার বাইরে। জনগণ এখন ক্লিন ইমেজ এবং জনসম্পৃক্ততা কে প্রাধান্য দিচ্ছে। এর আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনেও একই ধারাবাহিকতা পরিলক্ষিত হয়েছে। কুমিল্লা সিটি নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের নতুন প্রার্থী হিসাবের বাহিরে ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের ভোট সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এ থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে জনগণ এখন আর পরিচিত পয়সাওয়ালা পেশিশক্তির ধারক বাহকদের পছন্দ করছে না।

গত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দুইদলের প্রার্থী নির্বাচনে প্রথাগত প্রার্থী পছন্দ না করে নতুন ইমেজের প্রার্থী দাঁড় করাতে প্রাধান্য দিয়েছিলো। সেবার যদিও দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হয় নাই কিন্তু উভয় দলের মধ্যে এই নতুন প্রার্থী নির্বাচনের দরুণ অপ্রত্যাশিত ফলাফল লাভ করেছে। মেয়র হিসেবে ক্লিন ইমেজের প্রার্থী আনিসুল হক উত্তরে জয়লাভ করলেও বিএনপি প্রার্থী তাবিথ আওয়ালও প্রায় তিন লক্ষাধিক ভোট পেয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করেছিলেন এবং বিএনপির জনপ্রিয়তারও একটা হিসেব পাওয়া গিয়েছিলো।

কিন্তু এতো কিছুর পর যে প্রশ্ন সবচেয়ে বেশী উচ্চারিত হচ্ছে বা প্রমাণিত হচ্ছে তা হলো রাজনৈতিক দেওলিয়াত্ব। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ক্লিন ইমেজের রাজনৈতিক নেতা বা কর্মীর বড়ো অভাব। দুই দলই তাদের নিজেদের নেতা কর্মীর বাহিরে একজন ক্লিন ইমেজের প্রাথী খুঁজছে। গত ঢাকা সিটি নির্বাচনে আনিসুল হকের প্রাথীতা নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য যেমন জয়লাভ নিশ্চিত করেছে তেমনি দলের বাহিরে থেকে আনা বিএনপির প্রাথী তাবিথ আওয়ালের মনোনয়ন সঠিক এবং সময়োপযোগী বলেই প্রমাণিত হয়েছিলো।

আমাদের দেশের ভবিষ্যত এখানেই হুমকির মুখে পরে গিয়েছে। রাজনৈতিক নেতাদের দেউলিয়াত্ব দেশের নেতৃত্বের সুন্যতার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে বারবার। একজন মেয়র বা জনপ্রিতিনিধি অবশ্যই রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্য থেকে উঠে আসা উচিত। কিন্তু জনগন আস্থা রাখতে পারে এমন রাজনৈতিক নেতার সংকট সারা দেশে এবং সকল রাজনৈতিক দলেই।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি একজন ক্লিন ইমেজের অরাজনৈতিক প্রার্থীকে বা স্বল্প রাজনৈতিক প্রার্থীকেই নমিনেশন দেওয়ার চিন্তা ভাবনা করছে। রাজনৈতিক এই দেউলিয়াত্ব থেকে দেশ এবং জাতি আদৌ বের হয়ে আসতে পারবে কিনা জানা নাই। তবে এই সংকট থেকে বের হয়ে আসতে চাইলে রাজনৈতিক দল গুলোকেই যোগ্য সৎ আর জনমুখী নেতৃত্ব তৈরী করতে হবে। জনগন যদি সকল নির্বাচনে ক্লিন ইমেজের প্রাথীদের পছন্দ করা শুরু করে তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোকে বিপদে পরতে হবে। অর্থ, পেশীশক্তি আর দলীয় প্রতিক তখন নিজেদের ক্ষমতা বা পদ ধরে রাখতে সহায়ক হবে না। রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিজেদের জনগনের সাথে সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। রাজনীতির বাহিরে থেকে লোক নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা কখনোই ফলপ্রসু হতে পারে না। রাজনীতি থেকেই  সৎ নেতা বের হয়ে আসতে হবে। আমরা সেই সুদিনের প্রতিক্ষায় আছি।