ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

সবার নিশ্চয়ই মনে আছে, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনী ট্রেন ফেল করেছিলেন আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেজা জিয়া। নির্বাচনী ট্রেন ধরার জন্যে সেইসময় তিনি অনেক চেষ্টা তদবীর করেছিলেন, অনেক দেশি-বিদেশি দেন দরবার হয়েছিলো, তৎকালীন প্রধানমন্তী নিজে উনাকে টেলিফোন করে আলোচনার আহবান জানিয়েছিলেন কিন্তু সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে দেশনেত্রী ইচ্ছাকৃত ভাবেই নির্বাচনী ট্রেন ফেল করেছিলেন। সংবিধানের বাহিরে যেয়ে উনার কথামতো পাগল আর শিশুর অধীনে নির্বাচন করতে তিনি রাজী, এবং সেখানে তিনি স্থির থাকলেন। নির্বাচন হয়ে যাবার পরে তিনি এবং তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা মনে করেছিলেন এই সরকার দেড় মাসও টিকতে পারবে না। কিন্তু সেই আশায় ছাই দিয়ে যখন একবছর পুর্তি করেছিলো মহাজোট সরকার। তখন হাজার হাজার মানুষ পুড়িয়ে মেরে, লক্ষ কোটি টাকার জাতীয় সম্পদ পুড়িয়ে, অসংখ্য মানুষকে পঙ্গু করে দিয়ে অকার্যকর রাষ্ট্র বানানোর নীল নকশা বাস্তবায়ন করতে চাইলেন।

এতো মানুষ মেরেও, এতো গাড়ি পুড়িয়েও, এতো সম্পদের ধ্বংস করেও দেশনেত্রী যখন কিছুই করতে পারেন নি, তখন আগামী একাদশ নির্বাচনকে টার্গেট করে পরিকল্পনা করতে থাকেন। কিন্তু বিধিবাম এবারো, এবারো সেই সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ীই তাকে এবং তার দলকে নির্বাচনে আসতে হবে। এছাড়া অন্য কোন সম্ভাবনা আজ পর্যন্ত দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই নির্বাচনী ট্রেন ধরতে হলে দেশনেত্রী এবং তার জোটকে অবশ্যই সংবিধান মোতাবেক আসতে হবে।

কিন্তু গত দুইদিনের অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে এবারো বিএনপি এবং তাদের জোট ইচ্ছেকৃতভাবেই নির্বাচনী ট্রেন ফেল করতে চাচ্ছেন। এবার আবার নতুন পয়েন্ট হাতে পেয়েছেন। দেশনেত্রী এবং তাঁর পুত্র তারেক জিয়া এতিম ফাণ্ড তছরুপের মামলায় বিচারাধীন এবং মামলার রাইয়ের তারিখ একপ্রকার নিশ্চিত হয়েছে। আগামী ৮ই ফেব্রুয়ারী আদালত রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছেন। রায় সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার, বিচারক সকল যুক্তি তর্ক দ্বারা নির্ধারণ করবেন দেশনেত্রী এবং তার পুত্র দোষী না নির্দোষ। কিন্তু বিএনপি এবং তার অঙ্গ-সংগঠনের লোকেরা তার আগে থেকেই রায়ের ব্যাপারে মতামত দিতে শুরু করেছেন। এতে রায় প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়, অপরদিকে মনে হতেই পারে আসলেই তিনি বা উনারা সত্যিকারের দোষী।

গতদিনে বিএনপি নেতা কর্মীরা পুলিশের আসামী ভ্যানে হামলা করে আসামী ছিনতাই করে নিয়ে গেছে, পুলিশের উপর হামলা করে রাইফেল ভেংগেছে, লুট করেছে। সেই ২০১৪-২০১৫ সালের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। তাহলে কি বিএনপি সুস্থ রাজনীতিতে থাকতে চাইছে না। নিজামী-সাঈদী গংদের বাঁচাতে যে ধ্বংসাত্বক রাজনীতি ধরেছিলো সেই একই পথে হাঁটতে চাইছে?

.

খালেদা জিয়ার এই মামলাগুলো গত ১/১১ এর সময় তাদেরই ষড়যন্ত্রের ফসল এক অদ্ভুত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে হয়েছিলো। প্রায় দশ বছর ধরে দেশনেত্রীর এই মামলাগুলোর কার্যক্রম চলছে। বিভিন্ন সময় রীট করে সময়ক্ষেপন করে এই মামলাগুলোর স্বাভাবিক চলার পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। আজ প্রায় দশ বছর অতবাহিত হবার পরে যখন দুই একটা মামলার বিচার শেষ পর্যায়ে তখন এই রায় নিয়ে অস্থিরতা তৈরীর নামই হচ্ছে ষড়যন্ত্র। এই ষড়যন্ত্র দেশকে অস্থিতিশীল করার, দেশের নির্বাচনকে বানচাল করার এবং কোন অপশক্তিকে ক্ষমতায় আনার কূটকৌশল। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড়ো ট্রাজেডি হলো যারাই গণতন্ত্রের জন্য বেশি কান্নাকাটি করে তারাই গণতন্ত্রকে মানেন না। গণতান্ত্রিক কোন নরমসই তারা মানতে চান না।

তাদের কাছে একমাত্র ক্ষমতায় যাওয়া হলো গণতন্ত্র। নির্বাচনে হেরে যাওয়া মানে কারচুপি, নির্বাচনে হেরে যাওয়া মানে ভোট ডাকাতি, নির্বাচনে হেরে যাওয়া মানে দেশের সার্বভৌম্যত্ব বিকিয়ে যাওয়া, স্বাধীনতা নষ্ট হওয়া। যতক্ষণ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা যায় ততোদিন সব ঠিক থাকে।

আমাদের ভাগ্য ভালো না, আমরা স্বাধীনতার ৪৮ বছরে পা দিয়েও গণতন্ত্রের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আমরা এখনো জাতীয় ঐক্যের চিন্তা করতে পারি না। যেকোন ভালো উদ্যাগকে স্বাগত জানাতে এখনো শিখিনি। অবশ্য দেশে যদি বেশ কয়েকবার একুশে আগস্টের ঘটনা ঘটে, যদি হত্যার রাজনীতি হয় প্রতিপক্ষকে মোকাবেলার একমাত্র পথ, তাহলে এক নতুন সকালের জন্য আমাদের আরো অপেক্ষা করতে হবে। আর না হলে নির্বাচন এলেই মানুষ মৃত্যুচিন্তায় অস্থির হয়ে উঠবে। নির্বাচনে জয়লাভের গ্যারান্টি না আসা পর্যন্ত নির্বাচন বানচালের খেলায় মেতে উঠবে রাজনৈতিক শক্তি।