ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

বাংলাদেশের তারুণ্য আর সাহসের পথিকৃৎ, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের অকুতোভয় লেখক, মুক্তচিন্তা-মুক্তবুদ্ধি আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক অধ্যাপক জাফর ইকবালও শেষ পর্যন্ত রেহাই পেলেন না। তার নিজ ক্যাম্পাসে নিজের বিভাগের অনুষ্ঠানে এক ‘অজ্ঞাত’ যুবকের হাতে মাথায় ছুরিকাঘাত পেয়ে তিনি এখন হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের শয্যায়।

বিভাগীয় অনুষ্ঠানে তিনি যখন স্টেজে উঠছেন সেই সময় এক যুবক তাকে পেছন থেকে মাথায়, ঘাড়ে, আর বুকে আঘাত করে। হামলার ধরন বলছে, মৃত্যু নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই এভাবে আক্রমণ করেছে। স্যারের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সাথে সাথে সেই যুবককে ধরতে সক্ষম হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত যুবককে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের একটি কক্ষে আটক রাখা হয়েছে।

জাফর স্যারের উপর এই হামলা নতুন কোন ব্যাপার নয়। দীর্ঘদিন থেকেই বিভিন্ন মহল তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলো। তার মুক্তবুদ্ধি আর মুক্তচিন্তার ব্যাপারে তিনি  মৌলবাদী গোষ্ঠীর টার্গেটে পরিণত হন। শুধু তাই নয়, মৌলবাদী গোষ্ঠী ছাড়াও নানা মহল থেকেও তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিলো। এর প্রধানতম কারণ হচ্ছে স্যারের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান এবং অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনা এবং আপোষহীন অবস্থান। কারো হুমকি বা ধামকি শুনে তিনি কখনো পিছপা হন নাই।

তিনি যেকোন অন্যায় বা অব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এমনকি কিছুদিন আগে র‍্যাগ ডে তে বেলেল্লাপনার বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার হয়েছেন। তিনি পরিস্কারভাবে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। জাফর ইকবাল স্যার শুধুমাত্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর টার্গেটই ছিলেন না, তিনি সমাজে অবস্থিত নানা সামাজিক রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহলের চক্ষুশূল এ পরিণত হয়েছিলেন।

জাফর স্যারের উপর এই হামলা পরিস্কারভাবে আমাদের অবস্থানকে বুঝিয়ে দিয়েছে। মৌলবাদী গোষ্ঠী যদি এই হামলা চালিয়ে থাকে তবে আর বসে থাকার সময় নেই। এই মুহুর্ত থেকে এদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে হবে, অন্যদিকে যদি কোন বর্ণচোরা গোষ্ঠী জাফর স্যারকে শিক্ষা দেবার হীন উদ্দেশ্য হাসিল করতে হামলা করে থাকে তবে সরকার এবং অসাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে এখনই সজাগ হতে হবে। ঘরের শত্রু বিভীষনের সাথে যুদ্ধ করা এক অসম্ভব ব্যাপার। তাতে ছায়ার সাথে আমাদের যুদ্ধ করাই সার হবে।

আমরা হুমায়ুন আজাদ স্যারকে হারিয়েছি, অভিজিতকে হারিয়েছি, নীল, বাবু এবং দীপন সহ অসংখ্য মুক্তচিন্তার মানুষকে আমরা হারিয়েছি। এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার তো দূরের কথা, এখনো চার্জশিট তৈরি করাই যায়নি, কিছু কিছু দুস্কৃতিকারী ধরা পরলে তাদের বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হতে হয়েছে। তাই জঙ্গি গোষ্ঠীর আড়ালে অন্য কোন গোষ্ঠী এইসব তৎপরতায় যুক্ত কিনা তা অন্ধকারেই থেকে যাচ্ছে। মরুভূমিতে ঝড় উঠলে উট পাখির মতো বালুতে মুখ গুজে থাকলে কিন্তু ঝড় এড়ানো যাবে না!