ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

ঢাকা শহরে একটা সময় ছিল যখন সাধারণ মানুষের জন্য রিকশাই ছিল প্রধান বাহন। সেই সাথে ছিল ঘোড়ার গাড়ি, ট্যাক্সি এবং কিছু লোকাল বাস। জনসংখ্যাও ছিল তুলনামূলকভাবে কম। রিকশা ছিল সবচেয়ে সহজ ও সুবিধাজনক মাধ্যম। ভাড়াও ছিল নাগালের মধ্যে। তখনকার ঢাকায় রিকশায় চড়ার মজাই ছিল আলাদা।

পরবর্তীতে ভিআইপিদের চলাচলে সুবিধা দিতে এবং যানজট কমাতে ঢাকার বেশ কিছু রাস্তায় রিকশা চলাচল বন্ধ করা হয়। এর ফলে দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায় রিকশা ভাড়া চলে যায় সাধ্যের বাইরে। এসব কারণে বাসই হয়ে পড়ল সাধারণের একমাত্র বাহন।

এর পরের ইতিহাস শুধুই যাত্রী যন্ত্রণার। বাসের সংখ্যা বাড়লেও গণপরিবহনের আগের সেই সহজলভ্যতা আর থাকেনি। প্রতিদিনই যাত্রীদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। আশির দশকের শেষ দিকে ঢাকায় সীমিত আকারে ‘সিটিং সার্ভিস’ বা ‘স্পেশাল সার্ভিস’ নামে এক প্রকার বাসের প্রচলন ঘটে। প্রথম দিকে সবাই নির্দিষ্ট স্টপেজে লাইনে দাঁড়িয়ে এই বাসে উঠতো। কিন্তু কিছুদিন পর তা আর কার্যকর থাকেনি।

যাত্রীরা লাইনে না দাঁড়িয়ে হুড়োহুড়ি করে বাসে উঠার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। সাথে যোগ হয় আরো কিছু অব্যবস্থাপনা। যার ফলে সেই সময়কার সিটিং সার্ভিসগুলো প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে  যাত্রীদের সুবিধার্থে সরকারি ভাবে বেশ কিছু দুই তলা ভলভো  বাস আমদানি করা হয়। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতে যাত্রী সেবার মান কমে যায় এবং সেই আমলেই তারা বিআরটিসির বিভিন্ন গ্যারেজে আশ্রয় পায়।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে অনেক নতুন পরিকল্পনা নিলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। বরং সিটিং সার্ভিস তুলে দিতে গিয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের চাপে সব পরিবহনই এখন ‘সিটিং সার্ভিসে’ পরিণত হয়েছে।

যাত্রীদের ভোগান্তি হয় প্রধানত এসব তথাকথিত সিটিং সার্ভিসের অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে। কিছু সংখ্যক বিআরটিসি আর গাবতলী রুটের লোকাল বাস ছাড়া মোটামুটি সব বাসেই সিটিং এর নামে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়।

অতিরিক্ত ভাড়ার বিপরীতে তাদের সেবার মান কিন্তু ভালো নয়; লোকাল সার্ভিসের সেবাই পায় যাত্রীরা। পাশাপাশি অদক্ষ চালক ও ফিটনেস বিহীন গাড়ি প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়। বাসের চাপায় মৃত্যু এখন যেন অনেকটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে গেছে। আর হাত-পা হারানোর ঘটনা তো এখন নিয়মিত সংবাদের শিরোনাম হয়।

সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী-এমপির এই পরিবহন খাতে বিনিয়োগ রয়েছে। তাদের হাতে রয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলোও। ফলে এটি একটা শক্তিশালী সিন্ডিকেটে পরিণত হয়েছে।

যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, এই সিন্ডিকেট তাদের সাথে মিশে যায়। ফলে কোনো সরকারের পক্ষেই এই সিন্ডিকেটের লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হয়নি। সাধারণ যাত্রীদের মতো সরকারও যেন জিম্মি হয়ে থাকে এই শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কাছে।

এমতাবস্থায় সাধারণ যাত্রী হিসেবে এই প্রশ্ন মনে আসে, গণপরিবহনের এই জিম্মি অবস্থার অবসান ঘটবে কবে?