ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

tumblr_nebnk8qJBw1ssdss7o1_500

গেলো গেলো, কী গেলো? দেশ গেলো। আমরা কী করি? প্রতিবাদ করি। বজ্র কন্ঠে আওয়াজ তুলি। আর প্রভুরা ভাবেন এইটা চেঁচামেঁচি, প্যাঁকপ্যাঁক। তাঁরা তৈতৈ করে কাছে ডাকেন। আমরা কাছে যাই। কথা কই। কী কথা? দাবীর কথা কই। পদক্ষেপ চাই। প্রভুরা আমাদেরকে আশ্বাসের কুঁড়া দেন। আমরা বিশ্বাস করে সেই কুঁড়া খাই। পানি খাই। ঘাটে ঘাটে সাঁতরাই। আমরা জানি বেশি প্যাঁকপ্যাক করলে প্রভুরা হাঁসের মধ্যে বাঁশের ঝাড় দিয়ে দেবেন। তার চেয়ে চলেন, নিজের ঘরের ভাত খাই।

 

মনে নাই, পুলিসের বাণীঃ ‘ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর দরকার নাই’? মনে নাই সেদিন কী বলেছিলেন ডিউটি অফিসারঃ ‘জিডি নিয়া আমি তো আপনারে সারাক্ষণ নিরাপত্তা দিতে পারবোনা, পরে কিছু হইলে তো আমার উপর প্রেশার আসবে। আপনি বরং দেশ ছাইড়া দেন’, মনে নাই? ভাই, এইটা পাকিস্তান না। এইটা গোরস্থানও না। এইটা আমার স্বাধীন বাংলাদেশ। গণতন্ত্রের মানসকন্যা এই দেশের প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার সংকল্পে প্রকল্প হয় এই দেশে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দিয়ে যারা দেশের উন্নয়নের স্টিয়ারিং ধরে আছে, তাদেরকে চেতনা শেখানোর আমি কোন্‌ মাতাব্বর? আর এঁরাও যদি না পারে, তাহলে আর কারা আছে যাদের উপর  বিশ্বাস  করা যায়? আন্দোলনের, উন্নয়নের রূপরেখা অনেক দেখা আছে। গালভরা বুলি শুনেছি। বিখ্যাতদের আবেগী কথার তলে তেলতেলে শয়তানির কলকাঠিও যে এখন চোখ এড়ায়না! তাহলে অমুক-তমুক দেশের উদাহরণ আর আদর্শ রাষ্ট্রব্যবস্থার থিউরি দিয়ে আমি কী করবো?  ইউটোপিয়ান থিউরি ইউনিভার্সিটির ক্লাসরুমে কপচান গিয়া। আমার অত কথার দরকার নাই। আমি ভাত খাই কামে যাই। কুঁড়া খাইনা। মিছিলে যাইনা।

 

পরিবর্তন তাইলে কেমনে হইবো? এই প্রশ্ন আমার মনেও আসে। আর ঠিক তখনই ওই গল্পের চিত্রকল্প মনে আসে। আসেন গল্প শুনিঃ

অনেকদিন আগের কথা। তখন বর্ষার মওসুম। কিন্তু বৃষ্টি খুব যে হচ্ছিলো তা নয়। ওই সময়ে আবার দেশে লবণের খুব সংকট চলছে। তবে চিনির অভাব নেই। মানুষ চিনি দিয়ে ডিম ভাজে, ঝাল তরকারিতেও চিনির স্বাদ। কোর্মা কোর্মা ভাব। এক সকালে ডিমের কোর্মা খেয়ে খালি গায়ে ফুরফুরে বাতাস মেখে  মাঠে গিয়েছিলো গেন্দু মিয়া। ভরদুপুরে মাঠ থেকে ফেরার পথে ঘটলো বিপদ। কী বিপদ? গেন্দু মিয়া হঠাৎ এক গর্তে পড়ে গেছে। উঠতে পারছেনা। গর্তের পানিতে রাজ্যের জোঁক । গেন্দু মিয়ার গায়ে মূহুর্তে হামলে পড়লো শ’ দুয়েক ক্ষুধার্ত এসব  রক্তচোষা । সারা শরীর ছেয়ে গেছে। চাপাতি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানোর থেকেও ভয়ঙ্কর ব্যাপার।  প্রতিটি জোঁক জেঁকে বসেছে, আরাম করে ফিডারে দুধ খাওয়ার মতো করে শুষে নিচ্ছে গেন্দু মিয়ার উষ্ণ রক্ত ধীরে ধীরে। বাকি সব জোঁক আশপাশে কিলবিল করছে চান্সের অপেক্ষায়। গেন্দুর চিৎকারে পাশের ক্ষেতে কাজ করছিলো এমন কয়েকজন ছুটে আসলো। অপ্রশস্ত কিন্তু বেশ গভীর ওই গর্তে কেউ ঢুকে গেন্দুকে উদ্ধার করবে এমন জো নেই। একজন বুদ্ধি করে একটা লাঠি নিয়ে আসলো। ওটা দিয়ে একটা একটা করে জোঁক ছাড়িয়ে গেন্দুকে মুক্ত করতে উদ্যত হলো। গেন্দু চিৎকার করে উঠলোঃ ‘না রে জোঁক সরাইসনা শরীল থাইক্যা।’ বাকিরা তাজ্জব বনে গেলো। একজন বললো, ‘ক্যান, সরাইতামনা কেরে? আপনে কি মরবার চাইন নাকি মিয়া?’  ‘একটা সরাইলেই তো ওই জায়গায় আরেকটা আইসা নতুন কইরা চোষা শুরু করবো। তার চাইতে যারা খাইতাছে, খাইতে দে। বাঁচাইতে যাইয়া আমারে মারিসনারে, পাগলার দল। পারলে এক/দুই কেজি লবণ নিয়া আয়।’