ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

 

ঘটনা ১

ভুল বিকাশের কষ্ট দূর হলো নিমেষেই

আধামাস আগের কথা। একজনকে কিছু টাকা বিকাশ করবো। ভুলক্রমে সেই টাকা চলে গেছে আরেক নম্বরে। বিকাশওয়ালার দোষ ছিলোনা। যাইহোক, আমি ফোন দিলাম ওই নম্বরে। ওপ্রান্তে চাচাসুলভ কণ্ঠের কাশি শুনতে পেলাম। তিনি আমাকে সালাম দিলেন। আমি ভাই সম্বোধন করে বিনীত ভঙ্গিতে ভুলের কথাটা বললাম। তিনি বললেন টাকা তিনি পেয়েছেন, তবে এখন পারবেননা, মাগরিবের পরে পাঠিয়ে দেবেন। আমাকে জিজ্ঞেস করে লিখে নিলেন কোন্‌ নম্বরে ফেরৎ দিতে হবে। তাঁর মুখে মাগরিব শুনেই আমি বুঝে নিয়েছিলাম, তিনি নামাজি মানুষ। বেনামাজিরা সময়কে মাগরিব, এশা দিয়ে হিসাব করেনা। নিজেকে স্বান্ত্বনা দিলাম, ভাগ্যিস, জলে যায়নি টাকাটা! নিশ্চয়তা পেয়ে আমি একজনের কাছ থেকে সমপরিমাণ টাকা  ধার করে সঠিক নম্বরে বিকাশ করে চলে এলাম।

 

এরপর মাগরিব-এশা-ফজর-যোহর গিয়ে আরেক মাগরিবের সময় যখন এলো, তখন হঠাৎ মনে হলো, টাকাটা তিনি পাঠাননি। যেখানে আমিই ভুলে গেছি, তার ভুলে যাওয়াটা অস্বভাবিক নয়। ভাবলাম তাকে মনে করিয়ে দিই। ফোন দেবো এমন সময় মাগরিবের আজান দিচ্ছে। ভাবলাম নামাজের সময় ভদ্রলোককে ফোন দেয়া ঠিক হবেনা। নামাজের পর ফোন দিলাম। ফোন বাজে, কেউ ধরেনা। দুইবার রিং দিয়ে আমি অপেক্ষা করতে থাকলাম। হয়তো ব্যস্ত আছেন মাগরিবি চাচা। বেশ কিছুক্ষণ পর আরেকবার ফোন দিতেই অন্যজনের গলা শুনলাম ওপ্রান্তে। তিনি বললেন, “ভাই, ভাইয়ের এখন মামলা মোকাদ্দমা চলতেছে। ওনি খুব দৌড়ের উপ্রে আছে। আপনে চিন্তা কইরেন্না…ট্যাকা পাইয়া যাইবেন। আরে ভাই, কতো লাখ লাখ ট্যাকা পাইয়া ভাই দিয়া দিসে কতোজনেরে, আর আপনার এই কয়টা ট্যাকার জন্য অস্থির হইয়া গেছেন! ভাইতো কইছে দিয়া দিবো। আপনে কোনো টেনশন কইরেননা, ঠিক আছে?”—এইটুকু বলে লাইন কেটে দিলেন মাগরিবি ভাইয়ের ছোট ভাই। আমি আর টেনশন করিনা। লাখ লাখ ট্যাকা পাইয়া ভাই দিয়া দিসে কতোজনেরে, আর আমি ……ছিহ! আমি কতো বড়ো ছোটলোক!

 

ঘটনা ২

স্যামসাং সিকিউর? শিওর শিওর

জুনের মাঝামাঝিতে নিউজ পাওয়া গেলো, স্যামসাং গ্যালাক্সি সিরিজের ফোনগুলোর বিশাল এক নিরাপত্তা ফাটল ধরা পড়েছে। ফোনগুলোতে স্যামসাং যে সুইফ্‌ট কী কীবোর্ড ইন্‌স্টল করেছে, সেটি যখন নেট থেকে ল্যাংগুয়েজ আপডেইট নেয়, সে সময়ে ওঁৎ পেতে থাকা মেধাবি কোনো হ্যাকার ফোনগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে। আর এই ঝুঁকির কথা জানিয়ে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান NowSecure স্যামসাংকে মেইল করেছিলো  বছর খানেক আগেই। গ্যালাক্সির ৬০০ মিলিয়ন গ্রাহকের নিরাপত্তার প্রশ্ন যেখানে, সেখানে এই ঝুঁকির ব্যাপারে স্যামসাং-এর মতো এতো বিশ্বস্ত আর দামি প্রতিষ্ঠান তখন NowSecure-এর রিসার্চের রেজাল্‌টকে পাত্তাই দিলোনা! বাজারে ঠগবাজ মুদি দোকানির এক কেজির মাপে ৫০ গ্রাম কম এলো কি এলোনা সেটা নিয়ে আমাদের টেনশন না হতে পারে, কিন্তু যখন এতোগুলো গ্রাহকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে তখন? আর এত্তোবড়ো সিকিউরিটি ফ্ল’র কথা জেনেও এত্তোবড়ো ফোন কোম্পানির এই ভয়ঙ্কর বিমুখ আচরণ তাদের গ্রাহক সেবার মানসিকতাকেও সহজেই স্পষ্ট করে দেয়।

 

শেষে টনক তাদের নড়লো, যখন ওই নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এই ঝুঁকির খবর পাবলিক্‌লি এ্যভেইল্যাব্‌ল করলো। পরে অবশ্য স্যামসাং সিকিউরিটি আপডেইট দিয়ে গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। ফোনের Settings > Lock Screen and Security > Other Security Settings > Security policy udates-এ গিয়ে  ‘Automatic Updates’ অপশন এ্যক্‌টিভেইট করে নিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেট থেকে আপডেইট নিয়ে নেবে ফোন। পাশাপাশি এটিকে ম্যানুয়ালি  ইন্‌স্টল করাও সম্ভব।   এখন আর টেনশন নেই। তবে কথা সেটা না। কথা হলো, আমাদের বিশ্বাসকে কব্জা করে নিয়ে এইভাবেই ব্যবসা চলে প্রতিদিন।  ব্যবসা মানে লাভের হিসাব। এখানে আর কোনোকিছু বড়ো হতে পারেনা।

 

আপনার আমার পছন্দের তালিকায় স্যামসাং-এর মতো আরও কতো বিস্বস্ত, দামী প্রতিষ্ঠান আছে, যাদের গ্রাহক হয়ে আমরা রুচিশীল ফিল করি। তারাও যে আমাদের বিশ্বাস নিয়ে খেলছেনা, আমাদেরকে গিনিপিগ বানিয়ে এক্সপেরিম্যান্ট করছেনা, তার নিশ্চয়তা আছে? নাই।আজকাল নিশ্চয়তা থাকলেই টেনশন বাড়ে। নিশ্চয়তাও নাই টেনশনও নাই। হয় অন্তরে ভক্তি, আর নয়ত চোখে ছানি—দুটোর একটা থাকলেই যথেষ্ঠ। ক্রেতা-বিক্রেতা ভাই-ভাই। ভয় নাই, ওরে ভয় নাই।