ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

দেশের শিক্ষার গায়ে প্রথম যে ফুস্কুরি গজিয়েছিলো তার নাম কিন্ডার গার্টেন। প্রি-প্রাইমারির আয়োজন দিয়ে শুরু হয়ে পরে এসব প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুব দ্রুত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের  বিকল্প শিক্ষালয় হিসেবে সমাদৃত হতে লাগলো। যতোদূর মনে পড়ে, আশির দশকে আমাদের মফস্বলে প্রাথমিক স্তরের সরকারি স্কুলের বিপরীতে প্রাইভেট স্কুলের সংখ্যা বা দৌরাত্ম্য কোনোটাই উল্লেখযোগ্য ছিলো না। শিক্ষার সূচনা সরকারি স্কুলেই হয়েছিলো আমাদের। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারের ছেলে, ইউএনও-র ছেলে, দারোগার, ইঞ্জিনিয়ারের কিংবা এলাকার বড়ো ব্যবসায়ীর ছেলে-মেয়েরা এবং আমরা (অন্যান্য পেশাজীবীর সন্তান) একই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়েছি। কিন্তু এখনকার বাস্তবতা এমন যে, ওরকম সম্পন্ন পেশাজীবীর সন্তানকে সরকরি প্রাইমারি স্কুলে যেতে দেখলে সবাই অবাক হবে এই ভেবে, “এ কী করে সম্ভব?”

.

অথচ তখনকার তুলনায় এখন সরকার প্রদত্ত প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক স্মার্ট।  সরকার এ খাতে দুহাতে ব্যয় করছে, অবশ্য বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ কম দেখা যাচ্ছে (লিঙ্ক দেখুন)। শুধু তা-ই নয়, প্রাথমিক পর্যায়ে কর্মরত শিক্ষকগণের সম্মানী বেড়েছে বেশ। তাঁদের এখন অনেক কাজ। নিয়মিত প্রশিক্ষণ, তদারকি দিয়ে তাঁদেরকে আরও সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলা হয়েছে, হচ্ছে। সরকারি স্কুলেও প্রি-প্রাইমারি শিক্ষা চালু হয়েছে। নিয়ম হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা সমাপ্তির সনদ ছাড়া মাধ্যমিক স্তরে এ্যডমিশন নেয়া হবে না। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। প্রাইভেট প্রাইমারি স্কুলের প্রতি মানুষের আস্থার বিচ্যুতি সম্ভব বলে মনে হচ্ছে না। আর মানুষ জানে, পাবলিক প্রাইমারিতে সন্তানকে না পড়িয়েও কী করে ওখান থেকে পাশের সার্টিফিকেট নিতে হয়। ওদিকে ইংরেজি মাধ্যমে প্রাথমিক পড়াশুনা বরাবরই বড়ো বড়ো শহরভিত্তিক এবং শুধু বিত্তবানের প্রেস্টিজ প্রদায়ক হওয়ায়, মফস্বলে কিংবা গ্রামে মধ্যবিত্তের সামর্থ্যের সীমায় এর ছোঁয়াচ খুব একটা লাগেনি কখনও। তাই মধ্যবিত্তের বা পৌনে মধ্যবিত্তের সন্তানের জন্য ক্লাসিফাইড কোনো একাডেমিক পরিচিতি ফলানো অসম্ভব ছিলো। কিন্ডার গার্টেন সেই অসম্ভবকে ঘোলের স্বাদে সম্ভব করে দিলো। আর ধীরে ধীরে, কিন্তু নিশ্চিতভাবে প্রি-প্রাইমারির এই সুন্দর ফুস্কুরি সংক্রমিত হয়েছে মাধ্যমিক/ উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাতেও। দুঃখের বিষয় হলো, কিন্ডার গার্টেনের বাচ্চাদের এস্পিরেন্ট অভিভাবকদের অনেকেই তৃতীয় স্তরে এসে আর নাগাল পান না বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের। টার্সিয়ারি শিক্ষা এতো সস্তা নয়।

.

সে যাকগে। ফুস্কুরি কী করে নিন্দুকের চোখে বিষফোঁড়া হয়ে দেখা দিলো সেদিকে মনযোগ দেয়ার আগে সংক্রমণের শুরুটা কীভাবে হয়েছে সেদিকে একটু নজর ফেরানো যাক। আশির দশক থেকেই দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রাইভেট বা ব্যক্তি খাতে প্রতিষ্ঠার দাবি অনবরত উত্থাপিত হতে  থাকে। খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাজ্ঞ অধ্যাপকগণও তখন এই দাবিতে পুষ্টি জুগিয়েছেন। এর পেছনে যুক্তি ছিলো। যেহেতু পুঁজিবাদী বিশ্বে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এরূপ বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, আমাদের দেশে হতে দোষ কোথায় (ইয়েস, মার্কিন মুলুকের উদাহরণ আমাদের দেশে দারুণ চলে) ? তাছাড়া আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা একটা বড়ো ফ্যাক্টর। সরকার চাইলেই সংকট মোচনের জন্য সহসা আরও দুই-আড়াইশো সরকারী কলেজ, পঞ্চাশটা ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। তাই জার্মানি, নরওয়ের উদাহরণ আমাদের মানায় না। সুতরাং এতো ব্যাপক সংখ্যক ভর্তিচ্ছু ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যতকে অনিশ্চয়তার হাত থেকে বাঁচাতে প্রাইভেটাইজেশনের বিকল্প আর কী হতে পারে? বিদেশে পড়তে গেলে কত্তো খরচ! প্রাইভেটে কত্তো কম খরচে পড়া যায়! তাছাড়া প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়া মানে দেশের টাকা দেশেই রাখা। আর প্রাইভেটাইজেশনের কারণেই, বাজার চাহিদার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বিবিধ বিষয়ের উপর পড়াশুনা করার সুযোগ পেলো এদেশের তরুণরা। সরকারের উন্নয়ন সহযোগীরূপে আবির্ভূত হলো প্রাইভেট স্কুল, প্রাইভেট কলেজ, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। হ্যাঁ, শিক্ষা যখন বেসরকারি উদ্যোক্তাদের হাতে এলো, তখন সেখানে একটি কর্পরেট কম্পিটিশনও শুরু হলো। এর ফলে প্রাইভেট কলেজগুলো, ইউনিভার্সিটিগুলো নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থেই ভালো কিছু দেয়ার জন্য সচেষ্ট হলো। ছাত্র-ছাত্রীদের ফলাফল ভালো করে দেয়া চাই। অন্যদিকে, পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে ও কলেজগুলোতে ভিন্ন চিত্র বিরাজমান। ওসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদেরকে রেগুলার জবাবদিহি করতে হয় না। চাকরি চলে যাওয়ার ভয় নেই; নেই ওরকম টিকে থাকার সংগ্রাম। ফলে আরও ভালো সেবা প্রদানে সচেষ্ট হবার মানসিকতা খুব একটা থাকার কথা নয়। এরকম তুলনা আর যৌক্তিক প্রেষণা থেকেই এদেশে শিক্ষায় প্রাইভেটাইজেশনের গোড়াপত্তন হয়েছে। 

.

তবে থিওরির সুষমায় বেসুমার লাভের এতোসব মেওয়া বাস্তবে শিক্ষার গুণগত উৎকর্ষে ঠিক সেভাবে ফলেনি, যেভাবে উদোক্তাদের পকেটে ফলেছে। আর এখন তো এ ব্যাপারে অস্পষ্টতার বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই যে, শিক্ষার প্রাইভেটাইজেশন মূলত কোনো আদর্শিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং ভোগতান্ত্রিক প্র্যাগম্যাটিজ্‌মকে প্রাধান্য দিয়ে হয়েছে। কলেজ, ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পেছনে বিনিয়োগকারীদের কাছে অর্থের বিষয়টি তথা লাভের হিসেবটি বড়ো হয়ে দেখা দেবে এটাই স্বাভাবিক। প্রাইভেট কলেজ, ইউনিভার্সিটির দ্রুত বর্ধনশীল সংখ্যা সেই বাস্তবতাকেই ধারণ করে। আর শিক্ষার্থিদেরকেও সেভাবেই গড়ে তোলা হচ্ছে যেনো তাদের অর্জিত বিদ্যা লেবার মার্কেটে কাজে লাগে। তাই অবজেক্টিভ স্ট্যান্ডার্ড-এর ভিত্তিতে মেধার মূল্যায়নে টিকে থাকার যে সংগ্রাম সেটি কর্পোরেট কালচারে, কর্পোরেট কম্পিটিশনে কোনরকমে নিজের একটা অবস্থান গড়ে নিয়ে খেয়েপরে বেঁচে থাকার সংগ্রাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠনের সিইও এবং প্রাইভেট কলেজের প্রিন্সিপাল/প্রাইভেট ইউনির ভিসির মাঝে কিংবা শিক্ষার্থী আর পণ্যের গ্রাহকের মাঝে যে  পার্থক্য জ্বলজ্বল করে তা যেনো কেবলই নাম স্বর্বস্ব। এখানে সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বড়োই বেমানান, যদিও কারিকুলামে যুক্ত সৃজনশীল প্রশ্ন চমৎকার মানিয়েছে। আবার যদি ভালো গ্রেড পেলেই সাফল্য মধুময় হয় বলে মনে হয়, তাহলে যে কোনো উপায়ে তাকে পাওয়াই মনযোগের কেন্দ্রে অবস্থান করবে। কী জানা হলো, শেখা হলো সেটি মোটেই মূখ্য নয়। বরং মুখস্ত করে, (কিংবা নকল করে, পাশের জনের খাতা দেখে লিখে) পরীক্ষায় খাতায় উত্তর বমি করাটাই শেষ কথা। সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনাগুলোর উৎপত্তির সূত্রটা এখানে খাপে খাপ মিলে যায়। আমরা অল ইজ ওয়েল বলতে গিয়ে থেমে যাই, আর কর্পোরেট কালচার-এর সাথে কর্পোরেট স্লেভারি, কর্পোরেট করাপশন পরস্পরকে ভালোবেসে হাত ধরাধরি করে চলে। সস্তায় শ্রম কেনা, ইচ্ছে মতো খাটিয়ে নেয়া, টার্গেট ফিক্স করে দিয়ে দৌড়ের উপর রাখা, যেকোনো সময় জব টার্মিনেশনের উৎকণ্ঠা—এসব এ দেশের প্রাইভেট কলেজগুলোর শ্রমজীবীদের জীবনের একেবারেই সাধারণ বাস্তবতা। তবে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলোতে নিশ্চয়ই অবস্থা এতোটা গুরুতর নয়।

.

যেহেতু স্টুডেন্টের ভালো রেজাল্ট নিশ্চিত করার সাথে এসব প্রাইভেট কলেজ, স্কুলগুলোর গ্রহণযোগ্যতা এবং ব্যবসায়িক উন্নতি নির্ভর করে, তাই শাস্তি প্রদান (আর্থিক ও শারীরিক) একটি সহজ ও কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই নির্মমতার উদ্দেশ্য বিফলে যায় খুব কমই। একদিকে এসব বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ প্রফিটে প্রফিটান্বিত হন, আর অন্যদিকে বিকশিত এসব মুনাফার ঘ্রাণে পলিটিক্যাল কুতকুত খেলা করে। পার্টিতে কদর বাড়ে। আর নতুন প্রফিট দূর থেকে ডাকে আর “ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান” বলে মস্করা করে। ফ্রি মার্কেট ইকোনোমিতে আপনি এগুলোকে নাযায়েজ বলবেন কী করে?

.

প্রাইভেটাইজেশন সম্পর্কে বলতে গিয়ে নটর ডেম কলেজের সাবেক অধ্যাপক এ এন রাশেদা তাঁর এক সাম্প্রতিক লেখায় (লিঙ্ক দেখুন) পাশের দেশের গুজরাটের কিছু ঘটনা প্রবাহের বিবরণ তুলে ধরেছেন, যার অংশবিশেষ এখানে উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক মনে করছিঃ

“১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর সারা ভারতেই শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ঘটেছিল দ্রুতগতিতে। গুজরাটে ২২ বছরে শিক্ষা সম্প্রসারণ হয় প্রায় ১০ গুণ। ……আইনগত বাধা না থাকায় বিত্তবান ও পুঁজিপতিরা মুনাফা লাভের আশায় এ-জাতীয় কলেজের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করে ফেললেন। পুঁজিপতিরা যেসব কারণে লাভের আশায় এগিয়ে এলেন তা হলো: (১) শিক্ষকদের বেতন ছিল অত্যন্ত কম, অর্থাৎ তাদের শ্রমের উদ্বৃত্ত ভোগ করতেন মালিকেরা এবং চাকরির কোন টেনিউর ছিল না প্রতি বছর তা কর্তৃপক্ষের ইচ্ছানুসারে ‘নবায়িত’ হতো। গ্রীষ্মকালীন ছুটি পর্যন্ত (১৫ মার্চ) যারা চাকরিতে থাকতেন, ছুটি শেষে ফিরে এসে ওই চাকরিতে যোগ দিতে পারবেন কিনা, তা অনিশ্চিত ছিল-তা ছিল সম্পূর্ণ ‘মালিকের’ ইচ্ছানুসারে। একবার ১৯৬৮ সালে ২০০ শিক্ষককে কোনো রকম নোটিস ছাড়াই চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। (৩) মালিকদের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বন্ধবরা সহজে চাকরি পেত। (৪) কলেজগুলোর ওপরে একচ্ছত্র আধিপত্য থাকায় সমাজে ‘মালিকদে’র প্রতিপত্তি থাকত। তা বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচনে একটি চমৎকার অস্ত্র হিসেবেও কাজ করত। কাজেই তথাকথিত ‘মালিকরা’ ‘রাজনীতিবিদে’ এবং ‘রাজনীতিবিদরা’ ‘মালিকে’ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল।……এসব চক্রান্তের বিরুদ্ধে শিক্ষক সংগঠন এবং শিক্ষক আন্দোলন গড়ে উঠে। …… আন্দোলনের সফল পরিণতিতে, শিক্ষকদের দাবি মেনে নেয়ার ফলে, আজ গুজরাটের শিক্ষকদের বেতন ১০০% আসে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে, শিক্ষক নিয়োগ হয়ে থাকে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত বেতন-স্কেল সর্বত্রই দেয়া হয়ে থাকে। স্কুল ও কলেজের ব্যবস্থাপনা, লাইব্রেরি, পরীক্ষাগার ইত্যাদির জন্য রাজ্য সরকার থেকে আরও ২০% মঞ্জুরি দেয়া হয়। শিক্ষার্থীদের বেতন প্রতিষ্ঠানের তহবিলেই থেকে যায়। শিক্ষকদের জন্য গণতান্ত্রিক চাকরিবিধি, পেনশন, গ্রাচুইটি প্রভৃতি চালু হয়েছে।”

.

শেষে এসে আমার তবু এই বিশ্বাস সরে যাচ্ছে না যে, পণ্য হিসেবে শিক্ষা এ দেশে প্রতিষ্ঠিত হতে না পারলে আমাদের আরও ক্ষতির শিকার হতে হতো। বিদ্যমান অবস্থায়ও যথেষ্ট ক্ষতি হচ্ছে। তাই বলে এর কোনো আমূল পরিবর্তনকে সম্ভব মনে করি না কারণ সেটি আসলেই হবার নয়। বরং ইউনিভার্সিটির হিসেব বাদ দিলে, বিদ্যমান অবস্থায় এখন অবধি যেটুকু সাফল্য শিক্ষার্থীদের মুঠোয় ধরা দিচ্ছে বছর বছর, তার প্রায় শতভাগই প্রাইভেটাইজ্‌ড এডুকেশনের কল্যাণে। বাস্তবতা হলো, সরকারি স্কুলে-কলেজের বিরাট যেসব সাফল্যের গল্প আমরা শুনে থাকি সেগুলোর কৃতিত্ব প্রাইভেট টিউটরদের, কোচিংগুলোর; যা কোনোভাবেই সেসব সরকারি স্কুল-কলেজের একাডেমিক পরিচর্যার ফসল নয়। সরকারি বিদ্যালয়-মহাবিদ্যালয়গুলোর উপর কেনো যেনো মানুষের আস্থা নেই, উপর দিয়ে সেগুলো যতো প্রতিশ্রুতিশীলই হোক না কেনো। এই বাস্তবতা আমাদের জন্য শুভ নয়। কিন্তু তাই বলে প্রাইভেটাইজ্‌ড শিক্ষাকে  বল্গাহীন চলতে দেয়ার যে প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সেটা অব্যাহত থাকলে সর্বনাশের কিছু বাকি থাকবে বলে মনে হয় না। শিক্ষাকে পণ্য হওয়া থেকে তো বাঁচানো গেলো না। এখন এই পণ্যের সুষ্ঠু বিপণন নিশ্চিত করতে কার্যকর সরকারি ব্যবস্থাপনা, নিয়ন্ত্রণ বড্ড প্রয়োজন।