ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

 

এই ব্লগে ব্লগার কর্তৃক লেখার প্রকাশ-পরবর্তী সম্পাদনার সুযোগটা থাকায় আমার বিরাট সুবিধে হয়েছে। লেখা শেষ করে পর্যালোচনার জন্য জমা দেয়ার আগে যতোই প্রুভ দেখিনা কেনো, কিছু ভুল থেকেই যাবে যেগুলো প্রকাশের পর চোখে পড়বে। সব ঠিকঠাক করার পরও যদি কিছু থেকে যায় ভুল, তবে সেটা নিশ্চয়ই আমার অজ্ঞতার কারণে। বানান ভুলের ব্যাপারে বাঙালি হিসেবে আমার গড়পড়তা অবস্থান থেকে সরে আসা সহজ নয়–এটা মর্মে মর্মে টের পাই।

.

অবশ্য বাংলা বানানের শুদ্ধাশুদ্ধির ব্যাপারে আমার সংবেদনশীলতার বয়স খুবই কম। এই সেদিনও পরিষ্কার লিখতে গিয়ে পরিস্কার আর ‘প্রতিযোগিতার পুরস্কার’ লিখতে গিয়ে লিখে ফেলতাম ‘প্রতিযোগীতার পুরষ্কার’।  ‘উঠে’ আর ‘ওঠে’-তে কিংবা ‘কি’ আর ‘কী’-তে যে কী তফাৎ সেটা  কি আমিই জানতাম আগে? ইদানিং সূর্য ওঠার আগেই আমার ঘুম ভাঙে। প্রায়ই বিছানা থেকে উঠে মনে মনে ঠিকই, ‘সারাদিন আমি যেনো শুদ্ধ বানান লিখি’ বলি কিন্তু ভুল বানানের এই অদ্ভুত ভূত আমাকে ছাড়লে তো! শুদ্ধ বানান নিশ্চিত করার আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে আর কতোদিন লাগবে কে জানে। তবে ভাই, আমি কিন্তু হাল ছাড়িনি।

.

ব্লগটিমের দেয়া বিভিন্ন পোস্টে বানানের ব্যাপারে রক্ষণশীলতার প্রমাণ পাওয়া যায়। বাংলা ছাড়া অন্য ভাষায় এই ব্লগে লেখা যায় না। এমন কি, ব্লগারের নামের ইংরেজি বানানও গ্রহণ করা হয় না। বাংলার প্রতি এই প্রেমময় সংলগ্নতা এই ব্লগের অলংকার আর আমাদের জন্য এক অহংকার বটে। ভুল বানানের সুফলে লুটের টাকা দেশে ফেরত এলেও বিডিব্লগ বানানের ব্যাপারে তার সিরিয়াসনেস থেকে সরে আসেনি বলেই মনে হয়। ব্লগ সহায়িকা-৩, ভাষার শুদ্ধতা: পাঠকের অধিকার,  অশ্লীল’ বাংলা, ‘অমার্জিত’ বাংলা, চতুর্দিকে বানান ভুলের মহড়াবাংলা একাডেমি প্রমিত বানান রীতি ও কয়েকটি পর্যবেক্ষণ  এবং বানান বিষয়ক আরও অনেক চমৎকার লেখা এই ব্লগের পাতায় পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে বলেই হয়তো এখন লিখতে বসলেই বানানের বারোটা বাজানোর আশঙ্কা টের পাই। সিরিয়াস হয়ে যাই।

.

লেখায় মাঝে মাঝে বেফাঁস কথা জুড়ে দেয়ার বাতিক আছে আমার। কয়েকদিন আগেই এক লেখাতে এরকম এক শব্দকে ‘বিষয়কে’ দিয়ে প্রতিস্থাপন করে ব্লগপোষক ব্লগের মান বাঁচিয়েছেন। সেদিন আতা স্বপন ভাইয়ের লেখার মন্তব্যে আমি তার কাছে জানতে চাইলাম, পৃথিবীর বেশিরভাগ অর্থমন্ত্রী ‘বো……দা’ হয় কি না। পরে দেখি ওখানে লাল কালিতে [মডারেটেড] লিখে দিয়েছেন ব্লগপোষক। এতে আমার কোনো অভিযোগ নেই। কারণ ওই স্ল্যাংটা ব্লগের জন্য বেমানান, যদিও আবেগের সময় বেরিয়ে আসে ওরকম দু-একটা।

.

সম্প্রতি বানান বিষয়ক কিছু বই কিনেছি। আস্তে আস্তে অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। বলা যেতে পারে, আমি এখন সচেতন ব্লগার হওয়ার পথে। ডে বাই ডে আই এ্যম গেটিং বেটার এ্যন্ড বেটার।   এই আরেক প্রবলেম আমার। বাংলার মধ্যে ইংরেজি ঢুকিয়ে দেয়া। অবশ্য এ ব্যাপারে আমাকে কেউ খারাপ কিছু বলেনি। কিন্তু এই বদভ্যাসের কুফলের মাইলেজ মাঝে মাঝে এতো বেশি হয়, পরে শরম লাগে।

.

সেদিনই বাংগাল ভাইয়ের এক লেখায় তাঁকে হুমকি দেয়া হয়েছে জানতে পেরে একটি মন্তব্য লিখলাম। আমি লিখলাম, “বাংগাল ভাই, আপডেইট জানানোর জন্য ধন্যবাদ। দস্যুগুলোর সুমতি হোক, আপনি ডিস্ট্রাকশন থেকে বেরিয়ে আসুন। আর প্লিজ, আবারও জানাতে ভুলবেননা যেনো। টেনশন এখন অনেকের।” লিখে জমা দিয়েই বুঝলাম ডিস্ট্রাকশন শব্দটা ভুল মানে তৈরি করতে পারে। আমি আসলে বুঝিয়েছি DISTRACTION(মনযোগ বিচ্যুতি)। কিন্তু আমার আশঙ্কা হলো এটাকে DESTRUCTION হিসেবে ভেবে নেয়া হতে পারে। দুটো শব্দের উচ্চারণ আসলে একই রকম (ডিস্ট্রাকশন)। আর তাই ঠিক পরের মন্তব্যে DISTRACTION শব্দটি ইংরেজিতে লিখে দিলাম। এরপর ওই পোস্টে আর যাওয়া হয়নি। কাল হঠাৎ ওই লেখাটি আবার চোখে পড়তেই আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। ব্লগপোষক আমার ইংরেজির হেতু উপেক্ষা করে রক্ষণশীলতার দায় মেটাতে গিয়ে ওটাকে বাংলা করে ধ্বংস যেটুকু হতে বাকি ছিলো সেটুকু নিজ হাতে করে দিলেন (মন্তব্যের লিংক দেখুন)। ‘ডেস্ট্রাকশন’ শব্দটির দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আমি ভাবছিলাম, আমার তাকানোর এই যে করুণ ‘ফ্যালফ্যাল’ তা আমি ব্লগপোষককে কী করে বুঝাই! কী করে বুঝাই, ধ্বংস নয়; আমি মনযোগ বিচ্যুতি বুঝিয়েছি। কী করে বুঝাই, DESTRUCTION কিংবা DISTRACTION কোনোটার উচ্চারণই ‘ডেস্ট্রাকশন’ নয়! কী করে বুঝাই, আমি এই জ্যেষ্ঠ ব্লগার বাংগাল ভাইকে ধ্বংস থেকে বেরিয়ে আসতে বলিনি! এখন আমি বুঝতে পারছি, এটি আমার এবং ব্লগপোষকের যৌথ সংবেদনশীলতার উপজাত। হাড়ে হাড়ে বুঝলাম, বাংলার সাথে ইংরেজি মেশানোর পরিণাম কখনও কখনও কতো ভয়াবহ হতে পারে। এই নির্বুদ্ধিতার দায় কেবলই আমার।

.

তবে ব্লগপোষকের কাছে আমার অনুরোধটি হলো, ব্লগের বিভিন্ন লেখার শিরোনামে প্রায়শ ভুল বানান দেখা যায় (খুঁজলে আমারটাতেও পাওয়া যাবে নিশ্চয়ই)। এগুলো যদি একটু ঠিক করে দিতেন! আমাদের এই ব্লগে সুন্দর আরও সুশোভিত হয়ে ফুটে থাক প্রতিদিন, প্রতিরাত। ভালো থাক আমাদের সতেজ কাজল প্রতিটি অক্ষর। আমরা জানি, এই রেখে যাওয়া উচ্চারণ আমাদের মতো স্বল্পায়ু নয়।