ক্যাটেগরিঃ মানবাধিকার

শ্রমিক দাসত্ব থেকে মুক্তি পায়নি। আট ঘণ্টা শ্রমের জন্য যে শ্রমিকেরা প্রতিবাদী হয়ে রাজপথে নেমেছিলো তাদের বংশধররা যে দেশেই থাকুক তারা সব অনুগত হতে শিখে গেছে। এ দেশে চল্লিশ বছরেই কতো দাউদাউ চেতনা ঠাণ্ডা ছাই হয়ে ঝড়-বাতাসে উড়ে গেছে; আর ওটাতো দেড়শো বছর হয়ে গেলো প্রায়। আর ওই শ্রমিকদের ডিসেন্ড্যান্টদের সাথে তাল দিতে যাওয়া বিদেশি যারা, তারা তো আরও দ্রুত দেউলিয়া। প্রতিবাদ করার চেয়ে যা যেমন আছে তেমনটি মেনে নিয়ে মুখ বুঁজে থাকা আরামদায়ক।

.

এই মেনে নেয়ার দলের মধ্যে আবার তিন দল। এক দল উপরি মারে। পরিবার পরিজনদের সুখের লাগি তেনারা কেউ কেউ সিস্টেমে গা এলিয়ে সপ্তাহান্তে ধর্মালয়ে যাতায়াত নিয়মিত করেন। দান খয়রাত করেন আর ভাবেন—ব্যবস্থা তো একটা হবেই পরে। হ্যাঁ, বাকিরা ওসবের ধারও ধারেন না। এতো টাইম কোথায়? এরাও ভাবেন—ব্যবস্থা তো একটা হবেই পরে।

.

আরেক দল দ্বিধাগ্রস্থ। এদের অনেকের একটু একটু অস্বস্তি হয়। আবার জায়গামতো প্লেইসম্যান্ট হচ্ছে না বলে খেদও আছে। এদের মধ্যে সাহসী এবং কর্মঠ যারা তারা এই অবস্থাতেই খিড়কি কেটে রাস্তার নাগাল পেয়ে থাকেন। এতে ইনভেস্টম্যান্ট আছে। নগদে সবার সেই সামর্থ্য থাকে না বলে এদের বাকিরা তৃতীয় দলে থেকে উঁকি মারা, পাঁয়চারি করা প্র্যাকটিস করেন।

.

তৃতীয় দল মূলত আকাইম্যা। এদের কারও মুরোদ তেমন নেই। কারও কারও প্রিন্সিপ্‌ল বেশ নচ্ছার টাইপের। ওটাকে জয় করতে পারেন না। শেষমেষ একঘরে হয়ে থাকেন। বাজারে জিনিষের দাম বাড়লে, এদের বুক ব্যথা হয়। কেউ কেউ হাউকাউ করেন। এরা নিতান্তই অভাগা।

.

আরেকটা ফারাক আছে। প্রথম দলের যারা তারা নিজেদেরকে শ্রমিক ভাবতে ঘেন্না করেন। দ্বিতীয় দল প্রথম দলের ঘেন্না রপ্ত করে জাতে ওঠতে সচেষ্ট। আর তৃতীয় দল ভাবাভাবি ছেড়ে দিয়ে ছুটি পেলে ঘুমান। আর নেতারা ততক্ষণে শ্রমিক ভাড়া করে মিটিংয়ের আসন ভরার প্র্যাগম্যাটিক আয়োজনে ব্যস্ত থাকেন। শিল্পীও আনতে হবে। গানগুলো গাইতে হবে।

.

মে দিবস ফুরায়। কতো কথা কপচানো হয়! আসল কথা কেউ বলে না। কেউ বলে না। শুধু স্মরণের আয়োজনে বিলাস খুঁটে। আসল কথাটা তবে কী? আসলে আসল কথা বলে কিছু নেই। সবই আকামের প্যাঁচাল।