ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

কোরবানির ঈদে প্রচুর পশু হত্যা করা হয় ধর্মীয় আচারের অংশ হিসেবে। কোনো হত্যার দৃশ্যই বিনোদনমূলক নয়। যারা ভেজিটারিয়ান নন তারা নিয়মিত যেসব প্রাণিজ প্রোটিন নিজেদের আহারের মাধ্যমে পেয়ে থাকেন তার বড়ো অংশ (মাছ, মাংস ও ডিম) প্রাণিহত্যার মাধ্যমেই আসে। খাদ্য-শৃঙ্খলের এই নিয়ম আদিকাল থেকেই চলে আসছে এবং পৃথিবী ধ্বংস হওয়া অবধি চলবে। সাধারণ বিচার-বুদ্ধিতে এটা বুঝি, গরু জবাই কেনো, জীবন্ত মাছ কাটার দৃশ্যও শিশুদের দেখতে দেওয়া উচিত নয়। কিন্তু তাই বলে কোরবানির মতো মহান ত্যাগের ইতিহাস নিংড়ানো একটি ধর্মীয় ব্যবস্থাকে নৃশংসতার দোহাই দিয়ে হেয় প্রতিপন্ন করার মানসিকতা জাস্টিফাইড হয়ে যায়? কারও কারও মধ্যে এই মানসিকতা তীব্রভাবে বিদ্যমান, যা আমি মনে করি, সীমাহীন জ্ঞানপাপের উপজাত।

.

ইতোপূর্বে এক ব্লগে লিখেছিলাম, “গরু খাওয়াতে অনেকের যেমন এ্যলার্জি হয়, তেমনি কোরবানি নিয়েও অনেকের এ্যলার্জি আছে। কোরবানিকে পশু হত্যার নির্মম উৎসব মনে করেন যারা, তারা খুব পশুপ্রেমি না হলেও কিছু আসে যায় না। “মাছ, মুরগিতে আপত্তি নেই; ছোট প্রাণী। গরু জবাই করলেই নির্মমতা। কারণটা হলো, গরুর রক্ত গলগল করে বের হয় অনেক্ষণ ধরে। গলা কাটা মানুষের রক্তের মতো। এই হত্যা বর্বরোচিত। ধর্মের নামে গণহত্যা। এসব দেখে দেখে মুসলিম বাচ্চারা পরে জঙ্গি হয়। মানুষের গলা কাটে।— যুক্তি কিন্তু শুনতে ভালোই শোনায়।” সত্যিই কিন্তু ভালো শোনায়।  প্রসঙ্গত, গরু খাওয়ার কারণে যখন মানুষ হত্যা করা হয়, তখন কিন্তু এই থিউরিস্টদেরকে কিছু বলতে শোনা যায় না।

.

এই ফাঁকে ব্যক্তিগত কথা একটু বলে নিই। যতোদূর মনে পড়ে দশ বছর বয়স থেকে আমি নিয়মিত কোরবানির আনুষ্ঠানিকতায় অংশগ্রহণ করি। এর আগেও গরু জবাইয়ের দৃশ্য দেখেছি কি না– মনে নেই। কিন্তু অনেকেই এ বয়সের আগে থেকে কোরবানি দেখে আসছেন। এবং আমার মতো কেবল নামে মাত্র মুসলিম কিংবা তাও নন যিনি তিনিও এটা জানেন, কোরবানি কোন্‌ ইতিহাসের পথ বেয়ে এসেছে। ইতিহাসটা ত্যাগের, এবং খুবই উচ্চমানের স্রষ্টাপ্রেমের বার্তাবাহী।  এছাড়া এটাও অজানা নয় যে, এটা সেই ধর্ম যে ধর্মের বাণী হলো, “এক জন নিরপরাধ মানুষকে কেউ যদি হত্যা করে, সে যেনো গোটা মানব জাতিকে হত্যা করলো–হোক সে মুসলিম কি অমুসলিম।” প্রতিবারই ঈদ-উল-আযহার সময় আমার মনে পড়ে যায় নবী ইব্রাহিম কর্তৃক নিজ পুত্র ইসমাইলকে কোরবানি দিতে উদ্যত হওয়ার কথা, এবং মনে হয়, স্রষ্টা কী এক চরম পরিক্ষা নিয়েছিলেন তাঁর!

.

আপনি যদি এসবকে ফালতু মনে করেন সে ভিন্ন কথা। কিন্তু যিনি এসব বিশ্বাস করে কোরবানিতে অংশগ্রহণ করছেন তার কাছে কিন্তু এর মানে রক্ত আর হত্যার দৃশ্য নয়। এতোগুলো টাকা দিয়ে গরু কিনে কেবল ভোজনের আয়োজন নয়–এটা একটা ত্যাগেরই প্রমাণ। এই ত্যাগের ভেতর দিয়ে দরিদ্র মানুষের অনেক উপকার হয়। প্রতিবেশিদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের ভিত মজবুত হয়। খেয়াল করলে দেখা যাবে, ঈদের সমস্ত আনুষ্ঠানিকতাই সামাজিক মিথষ্ক্রিয়াকে দারুণভাবে প্রমোট করে। এগুলোকে ছাপিয়ে কোরবানি মানুষকে সহিংস করে তুলবে, চাপাতি দিয়ে মাংস কোপানোর অভ্যেস শেষে মানুষ কোপানোর অভ্যেসে পরিণত হবে–ব্যাপারগুলো খুব একপেশে ভাবনাপ্রসূত হয়ে গেলো না? যদি তেমন কার্যকরণ কল্পনার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে বাস্তবে ফলতো, তবে তো আমার শৈশবের সহপাঠীদের মধ্য থেকে অন্তত দু-একজন মানুষ হত্যাকারীর পরিচয় জানা থাকতো আমার। অথবা দেশে মাংস বিক্রেতা বা কসাই যারা আছেন তারা তো সবাই ভয়ঙ্কর ক্রিমিনাল হয়ে ওঠতেন। হ্যাঁ, মুসলিম সন্ত্রাসি এদেশে এবং বিদেশে কম নেই। কিন্তু এর উদ্ভব কি এই কোরবানির জন্য? বাংলাদেশের লাখ লাখ মুসলিম যারা বছর বছর কোরবানি দিয়ে আসছেন–তাদের পরিবার থেকে এই পশু কোরবানি চর্চার ফল হিসেবে একটিও কি সন্ত্রাসীর জন্ম হতে পারতো না?

.

গত কয়েকদিন ধরে এন্টি-কোরবানি নিউজ আর স্ট্যাটাস দেখে দেখে আমার খুব ইচ্ছে হলো একটু খোঁজ নিয়ে দেখি কোরবানির এই আচার কয়জনকে মানুষ হত্যায় প্ররোচিত করেছে। পাইনি। অন্যদিকে ভায়োল্যান্ট ভিডিও গেইমের প্রভাবে এই পৃথিবীতে কতো হত্যাকারীর জন্ম হয়েছে সে সম্পর্কে কমবেশি সবারই জানা থাকবার কথা, কারণ এসব হত্যাকাণ্ডের সবগুলোই বেশ চাঞ্চল্যকর এবং প্রতিটিই ব্যাপক মিডিয়া কভারেজ পেয়েছে।  খোঁজ নিতে গিয়ে আমার কেবলই মনে হয়েছে, হলি আর্টিসনে হামলার আগে অনেকেরই যেমন জঙ্গি উৎপাদনের প্রেক্ষিত সম্পর্কে ধারণার বাতি সবটা জ্বলেনি, তেমনি এদেশে ভিডিও গেইমার কর্তৃক খুন খারাবি শুরু না হওয়া পর্যন্ত বোধ হয় শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশের অন্তরায় হিসেবে, হত্যাপ্রবণতার সূচনা হিসেবে এই কোরবানিকেই বিবেচনা করা হতে থাকবে আর প্রতিবার কোরবানির ঈদের আগে অনুরূপ স্মার্ট(!) বক্তব্যে ছেয়ে যেতে থাকবে নিউজ পোর্টাল আর সোস্যাল মিডিয়ার পাতা।

.

ভিডিও গেইমের আসক্তরা কেমন করে ভয়াবহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারে তার কয়েকটি উদাহরণ নিচে তুলে ধরা হলো। আমার কাছে এগুলো খুবই কৌতুহলোদ্দীপক মনে হয়েছে। তথ্যগুলোর উৎস লিংক এখানে ইচ্ছে করেই উল্লেখ করিনি। কারও ইচ্ছে হলে এখানে দেওয়া ইংরেজি নামগুলো গুগুল করে নিলেই পেয়ে যাবেন। এগুলো দুষ্প্রাপ্য নয় মোটেই।

.

১. Adam Lanza- ২০ বছর বয়ষ্ক এ্যডাম ল্যাঞ্জা আমেরিকার নিউটাউন, কানেকটিকাট-এর স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলের ২০ জন ছাত্র-ছাত্রী সহ মোট ২৬ জনকে একাই গুলি করে হত্যা করে এবং এরপর নিজে আত্মহত্যা করে। আমেরিকার ইতিহাসে কোনো একক ব্যক্তির দ্বারা সংঘটিত তৃতীয় নৃশংসতম খুনের ঘটনা এটি। এ্যডাম ল্যাঞ্জা ছিলো ভিডিও গেইমে চরমভাবে আসক্ত। অফলাইন ও অনলাইন গেইমিং-এ সে প্রচুর সময় ব্যয় করতো।  ব্যক্তিগত জীবনে তার তেমন কোনো বন্ধুবান্ধব ছিলো না। হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ ওর বাসার বেইসম্যান্ট থেকে অসংখ্য ভিডিও গেইমের সিডি উদ্ধার করে।

.

২. James Holmes- জুলাই ২০,২০১২। আমেরিকার কলোরাডোর একটি থিয়েটারে গুলি চালায় এই যুবক। তখন তার বয়স চব্বিশ। গণিতবিদ ও বিজ্ঞানী বাবা এবং নার্স মায়ের এই ছেলের ইতোপূর্বে কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড ছিলো না। সে ছিলো মুভি সুপার হিরোদের চরম ভক্ত এবং World of Warcraft-এর মতো ভায়োলেন্ট ভিডিও গেইমে আসক্ত। তার  এক সহপাঠী, যার সাথে হোম্‌স-এর কিছুদিন এ্যফেয়ার ছিলো, তদন্তকারীদেরকে জানিয়েছিলো যে, হোম্‌স প্রায়শ ওকে বলতো, ওর মানুষ খুন করার খুব ইচ্ছে হয়।

.

৩. Jared Lee Loughner- জানুয়ারি ৮, ২০১১। টাক্সন, আরিজোয়ানাতে এই যুবক ইউএস রিপ্রেজেন্টেটিভ গাব্রিয়েল জিফরড্‌স সহ আরও ছয় জনকে গুলি করে হত্যা করে। লফনার ছিলো মানসিকভাবে অসুস্থ এবং চরম ভিডিও গেইমার। তার প্রিয় গেইম Earth Empires এর অফিশিয়াল সাইটের উদ্ধৃতি থেকে গেইমের মোটিভেশন সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়-Command your country’s military to attack and defend against your enemies. Execute attack strategies to relieve opponents of their resources and land. ….Ally with your friends or make new friendships by joining a clan. Conduct military operations, govern your country and build your empire.”

.

৪. Eric Harris ও Klebold- আঠারো বছর বয়সী কিশোর হ্যারিস তার আরেক সহপাঠী Dylan Klebold কে নিয়ে পরিচালনা করে Columbine High School massacre, যেখানে তারা দুজনে মিলে মোট ১৩ জনকে হত্যা করে, এবং আহত করে আরও চব্বিশ জনকে। তেরো জনের আট জনকে হত্যা করে হ্যারিস, বাকিদেরকে ক্ল্যাবল্ট। হত্যার পর ঘটনাস্থলেই, অর্থাৎ স্কুলের লাইব্রেরিতে যেখানে তাদের গুলিতে নিহত দশ জনের লাশ পড়েছিলো, দুজনেই আত্মহত্যা করে। এরা দুজনেই ইন্টারনেটে ভায়োলেন্ট গেইম খেলতো এবং হত্যার ফ্যান্টাসিতে আক্রান্ত ছিলো।

.

৫. Elliot Rodger- ২২ বছরের এই বিকারগ্রস্থ মার্কিন যুবক খুন করে মোট ছয় জনকে। এই খুনের ঘটনা Isla Vista killings নামে পরিচিত। খুব অল্প বয়স থেকেই ভিডিও গেইমে আসক্ত ছিলো সে এবং তার প্রিয় গেইমের তালিকায় ছিলো ভায়লেন্ট গেইম World of Warcraft। সে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পিস্তল সংগ্রহ করতে থাকে অল্প বয়স থেকেই এবং তার হত্যা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যেতে থাকে, যা ঘটে ২৩ মে, ২০১৪-তে। এটি ছিলো একটি সুপরিকল্পিত হত্যকাণ্ড।

.

৬. Nehemiah Griego- নিজের মা, বাবা ও তিন ভাই-বোনকে হত্যা করে। সে ভিডিও  গেইমে এতোই আসক্ত ছিলো যে অপরাধ তদন্তকারীদের কাছেও সে ওগুলোর ব্যাপারে খুব আগ্রহের সাথে কথা বলেছে।

.

৭. Anders Behring Breivik-২১ বছর বয়সী ব্রেইভিক নরওয়েজিয়ান লেবার পার্টির একটি ইয়্যুথ ক্যাম্পে গুলি করে হত্যা করে ৬৯ জনকে এবং সরকারি ভবনে বোমা মেরে খুন করে আরও আট জনকে। আদালতে এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে ভিডিও গেইম খেলতে গিয়েই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আগ্রহী হয়ে ওঠে। মূলত ভিডিও গেইম Call of Duty ব্যবহার করে সে তার শুটিং বাস্তবায়নের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলো।

.

৮. Michael Carneal- ডিসেম্বর ১, ১৯৯৭। মাত্র চৌদ্দ বছরের এই মার্কিন কিশোর গুলি চালায় প্রার্থনারত মেয়েদের উপর। গুলি করার সময় সে এক জায়গাতেই স্থির দাঁড়িয়েছিলো এবং ঠিক ভিডিও গেইমের স্কোর বাড়ানোর মতোই একটি একটি করে গুলি করছিলো যেনো টার্গেট মিস না হয়। সে চেষ্টা করছিলো যতো বেশি সম্ভব টার্গেটকে হিট করার। এ ঘটনায় তিন জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হয় পাঁচ জন।

.

৯. Evan Ramsey- ফেব্রুয়ারি ১৯, ১৯৯৭। আলাস্কার Bethel Regional High School এর ঘটনা এটি। ইভান একটি শটগান লুকিয়ে নিয়ে যায় তার স্কুলে এবং হত্যা করে এক শিক্ষার্থী ও স্কুলের প্রিন্সিপালকে। গুলিতে আহত হয় আরও দুজন। সে দাবি করে যে, ভিডিও গেইম Doom তার বাস্তবতাবোধকে বিকৃত করে দিয়েছিলো। সে বলেছে, “আমি বুঝতেই পারিনি যে, আমি যদি গানটা বের করে তোমাকে গুলি করি…তুমি আবার উঠে দাঁড়াতে পারবে না। Doom-এ কাউকে গুলি করলে সে তো ঠিকই উঠে দাঁড়াতে পারে। ওখানে কাউকে মারতে হলে আট থেকে নয় বার গুলি করতে হয়।”

.

১০. Jose Reyes- ১২ বছরের এই মার্কিন শিশু একটি সেমি অটোমেটিক হ্যান্ডগান দিয়ে হত্যা করে Sparks Middle School এর ম্যাথ শিক্ষককে। ২০১৩-র অক্টোবরের ২১ তারিখে স্কুলের বাস্কেটবল কোর্টে এই ঘটনায় আহত হয় আরও দুই শিক্ষার্থী। হত্যাকাণ্ডের কয়েক মাস  আগে থেকে সে নিয়মিত বীভৎস হত্যার ভিডিও গেইম খেলে আসছিলো।

.

এছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন হত্যাকারীর নাম অনায়াসেই নেট সার্চ দিয়ে দেখে নেওয়া যেতে পারে (যেমন Dylann Storm Roof, Jeff Weise, Chris Harper-Mercer,Jacob Tyler Roberts), যারা হত্যা করার আগে প্রাথমিক প্রণোদনা ভিডিও গেইম থেকেই পেয়েছিলো বলে পুলিশ ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে।

.

উইকিপিডিয়া ছাড়াও বিভিন্ন নিউজ মিডিয়ায় প্রকাশিত উপর্যুক্ত হত্যাকাণ্ডসমূহের বিস্তারিত বিবরণ পড়ে আমার কাছে এটাও প্রতীয়মান হয়েছে যে, সবার ক্ষেত্রে ভিডিও গেইমই একমাত্র মোটিভেটিং ফ্যাক্টর হয়ে কাজ করেনি। কারও কারও ফ্যামিলি ক্রাইসিস ছিলো, প্রণয়ঘটিত ব্যাপার ছিলো, এবং কারও কারও ড্রাগ এ্যবিউজের অভ্যেস ছিলো। হাজার হাজার এ্যমেরিকান ছেলেমেয়ের এরকম (উল্লেখিত হত্যাকারিদের বেশিরভাগই মার্কিন) সমস্যা আছে। তাদের অনেকেই হয়তো নিয়মিত ভায়োলেন্ট গেইমও খেলে। কিন্তু এদের অনেকের স্বীকারোক্তিতে এবং বাকিদের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে জানতে গিয়ে পুলিশ যা পেয়েছে তাতে এ বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, এরা সবাই এই কমন হ্যাবিটের অধিকারি ছিলো যা হত্যা প্রবণতাকে ভীষণভাবে উস্কে দিয়েছে।

.

শেষ কথা হলো, কোরবানিকে জড়িয়ে ভায়োলেন্সের উল্লেখিত থিউরিটা যারা কপচাচ্ছেন, তারা যদি দয়া করে আরও ভালো কোনো থিউরিতে মন দিতেন তাহলে মূল্যবান সময়ের সঠিক ব্যবহার হতো। এতে করে আমাদের সকলেরই উপকার হতো। কারও যদি এন্টি ইসলামিক মিশনে মনযোগ থেকে থাকে তবে সেটিও দুর্বলতম ভ্রান্তিবিলাসের বলয় থেকে মুক্তি পেতো। বিদ্বেষকে মুক্তচিন্তার ছদ্মাবরণে চর্চা করার বুদ্ধিটা মন্দ নয়; বহুকাল থেকেই এটা হয়ে আসছে। কিন্তু তাই বলে আবরণে এতো ফুটো– নাহ, মানায় না খুব, মানায় কি?