ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

এসি রবিউল এবং ওসি সালাউদ্দিন সেদিনের নারকীয় ঘটনা সামাল দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জঙ্গিদের ছোঁড়া বোমার আঘাতে নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। এই দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুর কদিন পরই সোলাকিয়ায় আবারও হামলা করেছে জঙ্গিরা যেখানে আরও দুই পুলিশ সদস্যকে (জহিরুল ও আনসার উল্লাহ) জীবন দিতে হয়েছে। পুলিশের প্রতি প্রতিনিয়ই আমরা যারা সুযোগ পেলেই কটু মন্তব্য ছুঁড়ে দিতে দ্বিধা করি না, এবার তারাও ভীষণ রকম শোকাভিভূত। হাজারও অপবাদের বোঝা মাথায় পেতে অকুতোভয় এসব পুলিশ সদস্য জীবন দিয়ে বাঁচিয়ে দিয়েছেন শত শত মানুষের প্রাণ। তাঁদের এই রক্ত বাংলাদেশের বুকের রক্ত।

.

যখন খবর জানা গেল, অনাগত সন্তানের মুখ দেখে যেতে পারলেন না এসি রবিউল, তখন হায়েনাদের নির্মমতার শিকার এই হতভাগ্য পুলিশ সদস্যের জন্য কষ্টে বুক ভারি হয়ে আসেনি–এমন একজন বাঙালিকে পাওয়া যাবে বলে আমার বিশ্বাস হয় না। ঠিক একই ভাবে, ওই রেস্টুরেন্টে ঘটে যাওয়া নারকীয়তার আরেক নির্মম শিকার ওসি সালাউদ্দিন। তার আত্মত্যাগও আমাদের কাছে চিরস্মরণীয়। শোলাকিয়ায় ঈদের দিনে পরিবার পরিজন ছেড়ে জনগণের নিরাপত্তা বিধান করতে গিয়ে জীবন দিলো যে দুজনকে–জহিরুল ও আনসার উল্লাহ–তাঁদের বেলায়ও একই কথা প্রযোজ্য।

.

কিন্তু দুঃখের বিষয় ওসি সালাউদ্দিনের সম্পর্কে ইউটিউবে অসংখ্য ভিডিও ও সংবাদ প্রতিবেদন প্রতিদিনই আমাদের চোখে পড়ছে, যেগুলো আমাদের শোকার্ত বুকের ভেতর অসম্ভব রকম অস্বস্তির উদ্রেগ করছে। একজন মৃত অফিসারের বীরোচিত কর্মকাণ্ডের বর্ণনার পাশে আমরা এমন কিছু দেখতে চাই না, যেগুলো আমাদের অন্তরকে আরও বিক্ষত করে দেয়।

.

সরকারের কাছে প্রার্থনা, ওসি সালাউদ্দিনের নামে যতো অস্বস্তিকর রিপোর্ট ইউটিউবে আছে, সেগুলোকে অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার/বন্ধ করার ব্যবস্থা করা হোক। আমরা তার বীরত্বকে মনে রাখতে চাই, অন্য কিছুকে নয়। এদেশের বেশিরভাগ মানুষ তো আর ভূক্তভোগী নয়। বেশিরভাগ মানুষ তার আত্মত্যাগকেই মনে রাখুক না। পত্রিকার সাংবাদিকগণ এ ব্যাপারে যথেষ্ঠ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁরা যা অনুচিত তা করেননি। কিন্তু ইউটিউবে এসব কী হচ্ছে? সালাউদ্দিনের মৃত্যুর পর তার সম্পর্কে ক্রমাগত ভিডিও আপলোড করে যাচ্ছে এরা কারা? এদের কি কোনো মনুষ্যত্ববোধ নেই?

.

দেশের স্বার্থে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে সরকারের উচিৎ সালাউদ্দিনের এসব ভিডিও দৃষ্টির আড়াল করা, এখনই। প্লিজ, এসব বন্ধ করুন। কাটা ঘায়ে এসিড ছিঁটানোর অসুস্থ প্রবণতা বন্ধ হোক।