ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

গরমে বৃষ্টি হলে তো ভালোই। সেদিন রাতে যেমন হলো। বৃষ্টিমুখর অমন রাতে এসিহীন ঘরগুলোতে শীতল বাতাস এসে শান্তি বুলায় বটে। কিন্তু দিনটা যদি গনগনে হয়? হ্যাঁ, ওই বৃষ্টিরাতের পরেই যেমন হলো। সকাল থেকেই আকাশ থেকে আগুন বর্ষণ শুরু। প্রখর রোদে চামড়া পুড়ে যাওয়ার দশা।

DSCN0019

অথচ ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে, মানে জয়নুল আবেদীন পার্কে তখন অন্য দৃশ্যের ঢেউ। গাছেদের ছায়ার মায়া। আর ওপার থেকে ধেয়ে আসা ঠাণ্ডা বাতাসের ঝাপটা। এই বাতাসে দেহ-মন ভীষণ মাতে। এমন দিনে তাই ছায়াগাছগুলোর তলে বেশ কিছুক্ষণ বসা যায়। বেঞ্চে রোদ্দুর এলে অথবা জায়গা না হলে, নদমুখো হয়ে পাড়ের উপর পা ছড়িয়ে বসে যেতে হয়। পরান জুড়িয়ে যায়। ঘরের ভেতর হিমকারক যন্ত্রের সেবা এতোটা শান্তিময় নয়।

DSCN9995

তবু দোকান থেকে ঠাণ্ডা পানি কিনে গিলতে হয়। কিন্তু পাখিদের হয়েছে জ্বালা। বিশেষ করে চড়ুইগুলোর। নদীতে আগুন পানি। অবশ্য এমনিতেও ওখানে পানি খেতে এদের যেতে মানা। ডর লাগে কি লাগে না, ব্যাপার তা না। আসলে মন টানে না। এরা সাধারণত নগরের বাসা-বাড়ির পানির ট্যাঙ্কের পাশে কিংবা পথের, মাঠের এধারে-ওধারে জমে থাকা পানিতে তৃষ্ণা মেটায়। পাখিরা শহুরে হলে যা হয় আরকি।

DSCN9990

.

আগের রাতের বৃষ্টিতে পার্ক ভিজেছে। দুপুরের আগেই সে চিহ্ন মুছেও গেছে। রোদের তীব্রতায় সব শুকিয়ে খাঁ-খাঁ। তবুও পার্কের দুয়েক জায়গায় গাছের ছায়ায় সামান্য পানি জমেছিলো। আর ওতেই মেতে ওঠেছে তৃষ্ণার্ত চড়ুইগুলো।

প্রিয় নাগরিক মানুষ, নিজের তৃষ্ণার জলের আঞ্জাম নিশ্চিত করে, সম্ভব হলে আপনার বাড়ির ছাদে, আশপাশে পাখিদের জন্য পানির ব্যবস্থা রাখুন। আধার হিসেবে প্লাস্টিকের দুয়েকটা বাটি-টাটি হলেই চলবে।

গ্রীষ্মে পাখিদের খাবারের অভাব নেই; জলের অভাবটা প্রচণ্ড। ভর দুপুরে রোদে পুড়ে এক আকাশ উড়ে এসে একটু জলের যোগান পেলে পাখিদের কী আনন্দ হয়, তা নিজের তৃষ্ণার অভিজ্ঞতায় অনুমান করা সুকঠিন নয়।  দেখুন না, এইটুকু জল পেয়েই কেমন লুটোপুটি শুরু করে দিয়েছে চড়ুইগুলো!

 

———————————-

ফটো ও ভিডিও- ব্লগার।