ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 

দুই দিন কষ্ট করে কাউকে আর লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়নি। ছুটির কারণে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের টিকিট বিক্রি বন্ধ ছিল। আজ থেকে আবার সিটি ও অগ্রণী ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখার সামনে লাইন দেখা যাবে। প্রথম তিনদিন সব কষ্ট ভুলে ক্রিকেটপ্রেমিরা যেভাবে লাইন দিয়েছিলেন তা কিন্তু এখন আর নেই। আর কষ্ট করে লাইনে দাঁড়ানোর যুক্তি তো নেই, বিসিবি ও ব্যাংক বলছে আশি ভাগ টিকিট শেষ হয়ে গেছে। ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের খেলা দেখতেই দর্শকদের মূল আগ্রহ। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের খেলাটা চট্টগ্রামে থাকায় ঢাকার দর্শকরা স্বাভাবিক কারণে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। আয়ারল্যান্ড ও হল্যান্ড দুর্বল প্রতিপক্ষ বলে এ ম্যাচ নিয়েও কারোর তেমন মাথাব্যথা নেই। তাছাড়া বাংলাদেশ উঠবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকাতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুটো কোয়ার্টার ফাইনাল টিকিট কিনতে অনেকে সাহস পাননি। তারপরেও বিসিবি বলছে আশি ভাগ টিকিট শেষ।

সত্যি কথা বলতে কি, ঢাকা শহরে যে উপচেপড়া ভিড় ছিল তাতে আশি ভাগ টিকিট বিক্রি হওয়াটা বিচিত্র কিছু ছিল না। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় টিকিট বিক্রি হয়েছে তাতে আশি ভাগের মন্তব্যটা ঠিক মনে হচ্ছে না। ব্যাংকই বলছে সার্ভারের জটিলতা থাকাতে একজন দর্শকের টিকিট নিশ্চিত করতে ত্রিশ মিনিট সময় ব্যয় হয়েছে। কোনো কোনো ব্যাংকে ঘণ্টাও পার হয়ে গেছে। পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ঢাকার দুই ব্যাংকের দশ শাখাতে বড়জোর প্রতিদিন ৩০০ করে টিকিট বিক্রি হয়েছে। আরও ১০০ যদি বলি তাহলে হিসেব করে দেখা যায় গত রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার, অর্থাৎ পাঁচদিনে ২০ হাজারের মতো টিকিট বিক্রি হওয়ার কথা। ঢাকা ছাড়া সব জেলাতেই টিকিট বিক্রি হয়েছে। এখানে আর কত গেছে। বিসিবির হিসাব অনুযায়ী মিরপুরে ১৫ ও চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে প্রতি ম্যাচে ১৮ হাজার দর্শক খেলা দেখতে পারবেন। সেই অনুযায়ী ঢাকার ছয় ম্যাচে ৯০ ও চট্টগ্রামে দুই ম্যাচে ৩৬ হাজার দর্শক খেলা দেখতে পারবেন। বিসিবিই বলেছে কোটার কারণে কিছু টিকিট তারা আগেই তুলে রেখেছে। কত যে রেখেছেন তার সঠিক হিসাব এখনও দিতে পারেননি। এ ব্যাপারে কর্মকর্তারা একেকজন ভিন্ন মন্তব্য প্রকাশ করেছেন। তাছাড়া যে টিকিট তারা সরিয়ে রেখেছেন তা কম না বেশি মূল্যের তাও পরিষ্কার করে বলছেন না। টিকিট নিয়ে পুকুর নয় সমুদ্র চুরি হয়েছে তা অনেকটা নিশ্চিত। বোর্ড সভাপতি আ হ ম মুস্তফা কামাল ও অন্য কর্মকর্তারা বলছেন বিছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া টিকিট বিক্রিতে কোনো অনিয়ম ঘটেনি। সত্যি যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে প্রকৃত হিসাবটা তুলে ধরতে বাধা কোথায়। মানলাম আশি ভাগ, কিন্তু কোন ক্যাটাগরিতে এ পর্যন্ত কত টিকিট বিক্রি হয়েছে সেই হিসাবটা তুলে ধরলেই তো সন্দেহ আর থাকত না। ব্যাংক বলছে তারা হয়তো টাকার হিসাব দিতে পারবে কিন্তু টিকিটের পরিমাণ বলতে পারবে না। আসলে সর্বত্র লুকোচুরির খেলা চলছে। সরকারি, বিরোধী দলের সংসদদের টিকিট বিতরণের কথা কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন। একজন সংসদ সদস্য কোন ম্যাচের কত টিকিট পেয়েছেন তা বলা না হলেও ধানমন্ডিতে অনেকেরই হাতে দেখা গেছে বাংলাদেশ-ভারতের উদ্বোধনী ম্যাচের টিকিটের ভাউচার। ৮ নম্বর সড়কে এক আওয়ামী লীগের কর্মীতো সরলভাবে বলেই দিলেন নির্বাচনে তাপস ভাইয়ের জন্য এত কষ্ট করলাম, উনিতো খুশি হয়ে বিশ্বকাপের একটা টিকিট দিতেই পারেন। সত্যিই তাই তিনিতো টিকিট পেতেই পারেন। এখানে সত্যটা প্রকাশ করলে সাধারণ দর্শকদের এত ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হতো না। মিরপুরে সরকারি দলের এক সংসদ সদস্য কর্মীদের আশ্বাস দিয়েছেন বিশ্বকাপে সব ম্যাচ দেখার। সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা এখানে প্রাধান্য পাবেন এটাই স্বাভাবিক। তাই বলেতো বিরোধী দলকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা কি ঠিক হবে?
বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুক বলেছেন তাদের দল বিএনপির কোনো সংসদ সদস্যকে এখন পর্যন্ত টিকিট দেওয়া হয়নি। আদৌ পাবেন কিনা তা নিয়ে তার সংশয়ও রয়েছে। এটা ঠিক আওয়ামী লীগের মতো ছড়াছড়ি না হলেও বিএনপির সংসদ সদস্যরাও অল্প হলেও শেষ পর্যন্ত টিকিট পাবেন। তারপরও তো অনেক টিকিট থাকার কথা। সেগুলো কিভাবে বিতরণ হবে তা নিয়েই প্রশ্ন বা সংশয় তৈরি হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে বিশাল পরিমাণের টিকিট কালো বাজারে বিক্রির অপেক্ষা রয়েছে। আর এ কাজটা নাকি বিসিবির কর্মকর্তাদের যোগসাজশে হবে। গুরুত্বপূর্ণ খেলার ৩০০ বা ২০০ টাকার টিকিটের ভাউচার এখনই ৫ হাজার টাকায় বিক্রির কথা শোনা যাচ্ছে। অনলাইনেও কালো বাজারিরা দর্শকদের অফার দিচ্ছে। মজার ব্যাপার হলো বিসিবি থেকে বলা হয়েছিল বিশ্বকাপের টিকিট কোনোভাবে কালোবাজারে বিক্রি করা যাবে না। কারণ এখানে দর্শকদের পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর লেখা থাকবে। এখন আবার বলছে না। সেক্ষেত্রে এটা নিশ্চিত কালোবাজারে টিকিট বিক্রি হবেই। এত অনিশ্চয়তা থাকার পরও আজও ব্যাংকের সামনে দর্শকদের লাইন দেখা যাবে। কারণ তারা একটা হলেও নিজ দেশে বিশ্বকাপ দেখতে চায়। হায়রে বিসিবি কি নিষ্ঠুর খেলাটা খেলছে। সরকারই বা কেমন, এত বিতর্কের পরও তারাও ব্যাপারটি নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না।