ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের ভুল্লি নদীর উপরে জোড়া সেতু নির্মাণ করা হয়েছে দুই বছর আগে। কিন্তু উভয় পাশের রাস্তা না থাকায় সেতু দুটি ব্যবহার করতে পারছে না এলাকাবাসী।

ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের মণ্ডলপাড়া থেকে আমতলী বাজার পর্যন্ত রাস্তার সংযোগ করেছে সেতু দুটি। প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালে সেতু দুটি নির্মাণ করা হয়। হোসেনপুর গ্রামের কয়েকশ মানুষের যাতায়াত এই সেতুকে কেন্দ্র করে।

বিকল্প হিসেবে বছরের অন্য সময়ে ব্রীজের নিচ দিয়ে যাতায়াত করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে সে সুযোগ আর থাকে না। এছাড়া ব্যবহার না করায় সেতুটি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়। বর্ষার আগেই সেতুর উভয় পাশের রাস্তায় মাটি ভরাট করে উঁচু না করা গেলে নির্মাণের ৬৫ লাখ টাকার পুরোটাই জলে যাবে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর নির্বাচনী এলাকা এবং নিজ ইউনিয়নের এই করুণ অবস্থা স্থানীয়দের মাঝে হতাশাই বাড়াচ্ছে দিন দিন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেতুর উভয় পাশেই রাস্তা নেই। সেতুর নিচ দিয়ে মানুষ চলাচলের পথ বানিয়েছে। ফলে সেতুটি এক প্রকার অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে।

 

.

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সুরত আলী বলেন, “আমাদের মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে দাবি ছিল এই সেতুটির। দুই বছর আগে সেতুটি হলেও এখনো আমরা তা ব্যবহার করতে পারছি না। রাস্তা না থাকার কারণে সেতুর ওপর দিয়ে আমরা যাতায়াত করি না।”

স্থানীয় আকছেদ আলী, আমিনুল ইসলাম, কেতাবজুল ইসলামেরও একই অভিযোগ।

তারা বলেন, আমরা সেতু পেয়েছি, কিন্তু রাস্তা পাইনি। ফলে সেতুটি আমাদের কোনো কাজে আসছে না। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত রাস্তা মেরামত করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করলে আমরা এর সুবিধা পাব।

“আমাদের মন্ত্রী উন্নয়নমূলক কাজ করছেন কিন্তু এগুলোর সঠিক তদারকি হচ্ছে না। ফলে উন্নয়নের অনেকাংশই নষ্ট হচ্ছে।”

রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্বের মধ্যে থাকলেও এতদিনেও কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে সেতুর বিষয়ে ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য শিল্পী বেগম বলেন, আমি সেতুর বিষয়টি চেয়ারম্যান মহোদয়কে অনেক আগেই জানিয়েছিলাম। তিনি আমাকে বলেছিলেন হবে। কিন্তু এখানো হয়নি। আমি বিষয়টি আবার পরিষদের মিটিংয়ে উপস্থাপন করব।

যথাযথ কর্তৃপক্ষ ভুল্লি নদীর এই জোড়া সেতুর রাস্তাটি দ্রুত নির্মাণ করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করবে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।