ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

শিং মাছ আমার খুবই পছন্দ। খেতে সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর শুধুমাত্র একারণেই যদি শিং মাছ আমার পছন্দের হত তাহলে তা আর লেখায় আনতাম না। আমার কি খেতে পছন্দ তা লোকজনকে জানানো যৌক্তিক বলে আমার মনে হয় না।

রক্ষনশীল ধার্মিক পরিবারে জন্ম হওয়ায় কিছু বাধা নিষেধ এর মধ্যে বেড়ে উঠেছি আমরা। আমার বাবার নাক উচু থাকায় কার সাথে মেশা যাবে, কার সাথে কথা বলা যাবে , কার সাথে সালাম বিনিময় হবে, কোথায় দাড়িয়ে কথা বলা যাবে অথবা যাবে না এগুলো মাথায় রাখতে হত। অন্যদিকে আমার মা এগুলো নিয়ে অতটা ভাবতেন না। উনি প্রায়ই বলতেন শিং মাছ তো শুধু খাও কিন্তু শিং মাছের কাছ থেকে কেন শিক্ষা নেওনা?

মা যখন এ কথা বলেছিলেন তখন তো আমি অনেক ছোট। মার কাছ তাই বার বার প্রশ্ন করেছিলাম, আম্মা মানুষ তো স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষা নেয়। মাছ থেকে কিভাবে শিক্ষা নেব। মা তখন সুনির্মল বসুর কবিতা সবার আমি ছাত্র পড়ে শোনালেন।

সবার আমি ছাত্র
আকাশ আমায় শিক্ষা দিল
উদার হতে ভাই রে,
কর্মী হবার মন্ত্র আমি
বায়ুর কাছে পাই রে।
পাহাড় শিখায় তাহার সমান-
হই যেন ভাই মৌন-মহান,
খোলা মাঠের উপদেশে-
দিল-খোলা হই তাই রে।
সূর্য আমায় মন্ত্রণা দেয়
আপন তেজে জ্বলতে,
চাঁদ শিখাল হাসতে মোরে,
মধুর কথা বলতে।
ইঙ্গিতে তার শিখায় সাগর-
অন্তর হোক রত্ন-আকর;
নদীর কাছে শিক্ষা পেলাম
আপন বেগে চলতে।
মাটির কাছে সহিষ্ণুতা
পেলাম আমি শিক্ষা,
আপন কাজে কঠোর হতে
পাষান দিল দীক্ষা।
ঝরনা তাহার সহজ গানে,
গান জাগাল আমার প্রাণে;
শ্যাম বনানী সরসতা
আমায় দিল ভিক্ষা।
বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর,
সবার আমি ছাত্র,
নানান ভাবে নতুন জিনিস
শিখছি দিবারাত্র।
এই পৃথিবীর বিরাট খাতায়,
পাঠ্য যেসব পাতায় পাতায়
শিখছি সে সব কৌতূহলে,
নেই দ্বিধা লেশমাত্র।

 

কবিতা শেষ করে তিনি বললেন
শিং মাছ তো কাদার মধ্যে থাকে কিন্তু তার গায়ে তো কাদা লাগে না। সুতরাং সমাজে চলাফেরা এমন ভাবে করবে যাতে তোমার গায় যেন কাদা না লাগে

slide