ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

আমি গ্রামের ছেলে। বাপ-দাদার সামান্য জমি-জিরাত ছিল বিধায় চাল সাধারণত কিনে খেতে হয়নি। সবদিন পেটপুরে খেয়েছি। তাছাড়া যে অঞ্চলে বাড়ি আমার সে অঞ্চলের লোকজন ভাত তুলনামূলক একটু বেশিই খায়। ঢাকায় বসবাস ২০০০ সাল থেকে। ঢাকায় এসে চিকন চাল খাবার অভ্যাস হলো কেমন করে জানি না। মোটা চাল খাওয়ার চেষ্টা করিনি কখনো।

চালের দাম অস্বাভাবিকহারে বাড়ে গত এক মাসে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানির পাইকারি বাজারে মোটা চালের দাম কেজি প্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মিনিকেট চাল এখন ৭০ টাকা কেজি। বউয়ের সাথে আলাপ করলাম, মিনিকেট চাল আসলে কোথা থেকে আসে কারণ শুনেছি মিনিকেট নামে তো কোন ধান নাই। সাংবাদিকের বউ বলে কথা! তিনি বললেন, চালের দাম বাড়ছে বলে তুমি এখন মিনিকেটের বদনাম করছ?

যা হোক, বউকে রাজি করিয়ে ১৭ বছরের অভ্যাস বদলে নাজিরশাইল চাল খেতে শুরু করেছি ২ দিন হল। নাজিরশাইল এখন ৬৫ টাকা। হয়তো আরো বাড়বে। চাল পরিবর্তনের পাশাপাশি বউকে বলেছি এক মুঠো করে চাল কম দিও রান্নার সময়।

23_Rice+Market_150917_0003

দেশের ১৬ কোটি মানুষকে জিম্মি করে রেখেছেন কিছু অসাধু চাল ব্যবসায়ী। মৌসুমের শুরুতেই কম দামে ধান ও চাল কিনে গোডাউন ভর্তি করেন আড়তদার ও মজুদদাররা। পরে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করে ‘লালে লাল’ হচ্ছেন তারা। এভাবে বাড়ছে চালের দাম এবং এতে বেকায়দায় পড়ছেন নিম্ন আয়ের মানুষরা। সারাদেশের কয়েক হাজার চাতাল ব্যবসায়ীর কাছে সাধারণ মানুষ জিম্মি। প্রচুর চাল মজুদ আছে। কিছু ব্যবসায়ী আছেন, যাদের কাছে হাজার টন চালও রয়েছে। কিন্তু ছাড়ছেন না, আরও চড়া দামের আশায়।

দলীয় ব্যক্তি বা প্রভাবশালী বিবেচনা না করে শক্তভাবে অভিযান পরিচালনা করলে চালের দাম দু’দিনেই কমে যাবে বলে অনেকে মনে করলেও আমার মনে হয় একবার যেহেতু বেড়েছে আর চালের দাম কখনো কমবে না। দাম বাড়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের। তবে বাজার নিয়ন্ত্রণে দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরে খোলাবাজারে চাল বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। কিন্তু সেখানেও বিপত্তি। দাম দ্বিগুণ করা হয়েছে ওএমএসের। তার উপর আবার আতপ চাল।

আমরা জানি সমাজের দরিদ্র শ্রেণির মানুষের আয়ের ৬০ শতাংশ চলে যায় খাবার সংগ্রহে। পণ্যের দাম বাড়লে বিপুলসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে আসবে। এ অবস্থায় খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লে দরিদ্র মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।