ক্যাটেগরিঃ শিল্প-সংস্কৃতি

উৎসবপ্রিয় বাঙালি জাতির যে কোনো উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো খাবার। পহেলা বৈশাখ কেন্দ্রিক নানান রকমের খাবারের প্রচলন চিরায়ত বাঙালি সমাজে আবহমান কাল থেকে প্রচলিত। কিন্তু আশির দশকে এদেশের তথাকথিত এলিট শ্রেণির কিছু মানুষ গ্রাম-বাংলার সুপরিচিত খাবার পান্তা ভাতের সাথে ইলিশ মাছ খাওয়ার প্রচলন করে। পরবর্তীতে কিছু মুনাফালোভী ব্যবসায়ী বাঙালির উৎসবপ্রিয়তাকে পুঁজি করে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার এই নতুন ধারণাকেই বর্ষবরণের প্রধান অনুষঙ্গে পরিণত করে! ফলে নববর্ষের সময় ইলিশ হয়ে যায় দুর্মূল্য।

 

 

সেপ্টেম্বর-অক্টোবর সময়টা ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম হলেও ফেব্রুয়ারি-মার্চ সময়টাতেও ইলিশ মাছ প্রচুর ডিম ছাড়ে। ফলে এ সময় যে মাছগুলো ধরা পড়ে সেগুলো পরিণত মা মাছ। আর মধ্য এপ্রিলে তথা পহেলা বৈশাখের সময়কালে যে মাছগুলো ধরা পড়ে তা মূলত সমুদ্রগামী শিশু ইলিশ বা জাটকা ইলিশ। দু-মাস সাগরে থেকে বর্ষা মৌসুমে এ মাছগুলোই আবার নদীতে ফিরে আসবে। আর সেটাই হলো ইলিশ মাছ খাওয়ার উপযুক্ত সময়। কিন্তু আমরা যদি উৎসবের উন্মাদনায় মা ও শিশু ইলিশকে নির্বিচারে নিধণ করে খেয়ে ফেলি তাহলে প্রকৃতির প্রতিদান হিসেবে ইলিশের মৌসুমে আমরা আর ইলিশ মাছ পাবো না।

নববর্ষ উদযাপনের সাথে পান্তা-ইলিশের কোনো সম্পর্ক নেই, কখনো ছিলও না। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন “বাঙালির পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপনের সঙ্গে পান্তা ও ইলিশের কোনো সম্পর্ক নেই। এর মধ্যে এক ধরনের নব্য-বাঙালিয়ানা চল তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।”

ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। দেশের সম্পদ ভোগের অধিকার যেমন আমাদের রয়েছে, ঠিক তেমনি রয়েছে কিছু দায়িত্বও। কখনো কখনো দায়িত্বের কারণে অধিকার ছেড়ে দিতে হয়। এটাকে বলে দেশপ্রেম, দেশের প্রতি ভালবাসা। ইলিশ মাছ খাওয়ার বিষয়েও যদি আমরা দায়িত্বশীল হই, বিধি-নিষেধ এবং ন্যায্য-অন্যায্য বিষয়গুলো বিবেচনা করি তবে তা আমাদের অধিকারকেই প্রতিষ্ঠিত করবে।

আমরা আমাদের দেশকে ভালোবাসি, ভালোবাসি দেশের সম্পদও। তাই আসুন বৈশাখের এই সময়ে মা ও শিশু ইলিশ খাওয়া থেকে বিরত থাকি। লালসাকে নয়, মমতাকে প্রশ্রয় দেই, ভালবাসাকে প্রশ্রয় দেই এবং জাতীয় সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণে দায়িত্বশীল হই।