ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

ঘটনা ১:  কুমিল্লার দেবিদ্বারের মেডিকেয়ার হাসপাতাল। সেখানে আমার এক আত্মীয়ের বাচ্চা প্রসব হয়েছিল। আত্মীয়ের নাম দেয়া যাক নুসরাত  । নুসরাত ও তার আপনজনেরা জানিয়েছে, হাসপাতালে বাচ্চা ঠিকঠাক ভাবেই প্রসব হচ্ছিল। তখন ওই হাসপাতালের এক সেবিকা প্রসব কাজে সহযোগীতা করার ছলে সে আরো ক্ষতি করেছে। নুসরাত জানিয়েছে, যোনি পথে হাত দিয়ে যখন বাচ্চাটাকে টান দিয়ে বের করবে তখন তা না করে ওই সেবিকা বাচ্চাটার মাথা যোনি পথ থেকে এক পাশে সরিয়ে দিয়েছে। বের হওয়ার সঠিক পজিশন থেকে বাচ্চাটিকে সরিয়ে দেওয়ায় এক পর্যায়ে বাচ্চার পজিশন সর্ম্পূণ উল্টে গিয়ে মাথা উপরের দিকে ও পা নিচের দিকে হয়ে যায়। এর ফলে বাচ্চা এখন যে দিক দিয়ে বের হওয়ার কথা সেদিক দিয়ে বের না হয়ে উল্টো দিক দিয়ে বের হওয়ার জন্য ঠেলছে অর্থ্যাৎ মুখ দিয়ে। এই অবস্থায় ডাক্তার এসে বললো, এখন সিজার অপারেশন না করে মা-সন্তান কাউকেই বাঁচানো যাবেনা। পরে বাধ্য হয়েই নুসরাতের পরিবার সিজার করাতে রাজি হয়েছে।

 

ঘটনা ২:  অপারেশনের ৩ দিন পর নুসরাত যখন কিছুটা সুস্থ, তখন ডাক্তার বলেছে সে যেনো একটু হাঁটার চেষ্টা করে, এতে শরীর ভালো থাকবে। কথামতো নুসরাত আস্তে আস্তে হাঁটাহাঁটি শুরু করেছে। হাঁটতে হাঁটতে যখন হাসপাতালের বারান্দায় গেলো তখন দেখলো,তার মতোই আরেক রোগিএসেছে। ডাক্তাররা তাকে নিয়ে খুব ব্যস্ত। ডাক্তার তাকেও বলছে অপারেশন না করলে মা-সন্তান কাউকেই বাঁচানো যাবেনা। অপারেশনের সম্মতি নেওয়ার পর তারা যথারীতি ব্যস্ত ওটি সাজাতে। ওইদিকে ওটি সাজাতে সাজাতে এদিকে ঘটে গেলো এক লঙ্কাকাণ্ড, যা দেখে ডাক্তারদের মুখ মলিন হয়ে গেলো। নুসরাত বলছিল, ডাক্তাররা ওটি গুছিয়ে আসতে আসতে এদিকে বারান্দাতেই ওই মহিলার বাচ্চা প্রসব হয়ে গিয়েছিল এবং কারো সাহায্য ছাড়াই। ডাক্তাররা যখন তরিঘড়ি করে রোগিকে ওটিতে ঢুকাবে ঠিক তখন দেখে যে বাচ্চা প্রসব হয়ে গেছে। পরে ডাক্তাররা রাগে-ক্ষোভে কিছু না বলেই সেখান থেকে চলে যায়। এখন প্রশ্ন হলো, ডাক্তারদের কথা অনুযায়ী যেখানে সিজার না করালে মা-সন্তান দুজনই মারা যাবে সেখানে সিজার ছাড়াই ৫ মিনিটের মধ্যে বাচ্চা প্রসব হলো কী করে? তাও আবার দুজনই সুস্থ? এই প্রশ্নের উত্তর হয়ত আমরা সবাই জানি।

উপরের উদাহরণ দুটি ওই হাসপাতালের হলেও এরকম পৈশাচিকতা কিন্তু চলছে দেশের প্রায় সব হাসপাতালেই। হাসপাতালগুলোতে এখন সেবার বদলে বাণিজ্যটাই প্রাধান্য পায় বেশি।