ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

 

জীবন যেখানে যেমনএকটা বাইক কেনার সখ ছিলো। পারিনি! চেয়ে দেখেছি খুব কাছের অনেককে। চিলের মত ডানা মেলতে বাইকে বসে। কখনো আমাকে ছুঁ মেরে নেয়নি। তাতে আফসোস ছিলো না। বেজার মুখো বাবার দিকে চেয়ে কখনো সহসা বলতে পারিনি।”বাবা একটা বাইক চাই” কারণ, আমি বুঝতাম তার কাছে এটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। সে হেরে যাবে, দিতে পারবেনা বা পারতেন। কখনো কোন চাওয়া যে বাবা অপূর্ণ রাখেনি। সব সময় যে আমার মুখে হাসিটুকু দেখতে চেয়েছে। তার কাছে কিভাবে এত বড় বোঝা চাপিয়ে দেবো। তাই কখনো বাবাকে বলিনি। কিন্তু তিনি অনুভব করতেন, আমাকে বুঝতে পাড়তেন।

বাবার অনেক গুণ ছিলো। বাবার বানিয়ে দেওয়া অনেক জিনিস আমাকে মুগ্ধ করেছে। আর আমার চাহিদা বাবাকে ঘিরেই তিনি যা পারতেন তাই। এর বেশি কিছু না। খুব ছোট বেলায় দুলনা বানিয়ে দিয়েছিলেন আমার জন্য। কিছুটা বড় হওয়ার পড়। বাবা আমাকে কাগজ কেঁটে ঘড়ি বানিয়ে দিয়ে ছিলেন। ঘুড়ি উড়ানো লাটাই আর ঘুড়ি বানানো তার থেকেই শিখে ছিলাম।

তখন আমি ক্লাশ থ্রিতে সবে মাত্র উঠেছি। সে বার খুব করে বন্যা হয়েছিলো। বাবা আমাকে নিয়ে চিন্তিত। তাই সব ভেবে চিনতে আমাকে সাঁতার শেখাবেন। যেই কথা সেই কাজ। সাঁতার শিখতে গিয়ে খুব করে পানি খেয়ে ফেলেছিলাম। তলিয়ে যেতে লাগছিলাম পানিতে। তখন বাবা আমাকে তড়িঘড়ি করে টেনে তুললেন। তার মুখের সে দিনকার হতাশা আজো আমাকে ভাবায়। খুব কষ্ট পেয়েছিলেন সেদিন বাবা।

আমি বাবার খুব ভালো বন্ধু ছিলাম। অনেক জিনিস সে আমাকে দিয়েছে। যা ভুলতে পারবো না। মাঝে মাঝে খুব করে মনে পড়ে বাবাকে। বাবা ভালো বাঁশি বাজাতেন তাই তার সব চেয়ে বড় ভক্ত ছিলাম আমি।বাবা বাঁশি বাজাতেন বন্ধুর মত পাশে বসে সে বাঁশি শুনতাম আমি তাতে আমার কম কিসে। আমি তাতেই তৃপ্তির ডেকোর তুলতাম।তবে কোনো ইচ্ছা তিনি অপূরণ রাখেন নি। শুধু এই বাইকটা ছাড়া। বাবা আমাকে বড্ড ভালোবাসতো। আজ বাবার কথা মনে পড়ে খুব খুব। কাল মা মোবাইলে কেঁদেই ফেলেছেন। আমার বাইকের কথা মনে করে। মা খুব নিবির ভাবে উপলব্ধি করেছিলো। চেয়ে থাকতে দেখেছে বাসার পাশ দিয়ে কেউ বাইক চড়ে গেলে আমি যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে চেয়ে থাকতাম। আর বাইক নই আজ চাইলে চার চাকার গাড়িও কেনা যায়। কিন্তু যে বয়সে পাবার কথা ছিলো, সে আনন্দ কি আর পাবো? জানি না। দু চাকার বদলে চার চাকা হয়েছে। সে সময়টা পেড়িয়ে অনেক দূর গড়িয়েছে। কিন্তু তবুও কেনো যেনো। সেই দিনকার কথা মনে পড়ে।

খোরশেদ মাহমুদ
সাংবাদিক ও কলামিস্ট