ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

সে অনেক আগের কথা। সংবাদপত্রে প্রথম পদার্পণ মাসিক বহতা সময় ম্যাগাজিনের সহকারী সম্পাদক হিসেবে। তখন জৈনক সম্পাদক সাহেব, জিনি আমার লেখা লেখি ও সাংবাদিকতা জিবনের গুরু যার সংস্পর্শ না পেলে কলমের এই যাদুকরী শক্তি আমি পেতাম না। সে শ্রদ্ধাভাজন রওনক জাহেদ চৌধুরী আমাকে তার পত্রিকায় সহাকারি সম্পাদক করে তার পাশে রেখে দিন রাত অনেক অলোচনা পর্যালোচনা ও শিক্ষকের ন্যায় হাতে কলমে শিখিয়েছেন। এই অফিসের মহা দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তখনকার তোলা এই ছবিটা। আজ আমারা দুজন পৃথিবীর দুই প্রান্তের বাসিন্দা। তিনি আমেরিকা আর আমি সাউথ আফ্রিকার ইজ লন্ডন।

স্যার, আপনাকে খুব মনে পরে খুব। জানি না আমি দেশে থাকলে আপনাকে আমেরিকা যাওয়ার পথে কী বলে বিদায় দিতাম আর আপনি নিতেন? কত সময় কাটিয়েছি পাশাপাশি কত পরামর্শ করেছি। অনেক কিছু শিখেছি আপনার কাছ থেকে। অনেক অলেখা ইতিহাসের সাক্ষি আপনি অনেক তথ্য সমৃদ্ধ ভাণ্ডার আপনার যা আমাকে মন্ত্রমুগ্ধ করেছে চিরকৃতজ্ঞ গুরু আপনার কাছে। আপনার পরিবারের কাছে। আংকেল ডাকটা এতটুকু বয়সে নাবির এর কাছ থেকে শুনেছি, যদিও আমার কোনো ভাতিজা নেই। ভাবির কথা কি আর বলবো মাতৃতুল্য ভালোবাসা পেয়েছি তার কাছ থেকে। ভাবি খুব ভালো রাধে। মাঝে নিজে রান্না করলে আর আমি ওনাদের বাসায় গেলে না খেয়ে আসতেই দিতেন না।

হয়তোবা দেশে ফিরে যাবো অচিরেই। কিন্তু আপনাকে ফিরে পাবো না। মোহাম্মদপুর, ধানমণ্ডি আর এলিফ্যান্ড রোডের সেই সমর দা এর অফিসে। মনে আছে স্যার শেষ যেদিন আপনার সাথে দেখা হয় সেদিন বেশ করে ডেকেছিলেন দেখা করতে আপনার অফিসে গিয়েছিলাম। সেদিন কথা বলার প্রয়োজনে আপনি আমাকে নিয়ে হেঁটে অফিস থেকে বাড়ি পর্যন্ত এসেছিলেন। তার পরও কথা সেদিন ফুরোইনি আবার দেখা করার নিমিত্তে বিদায় নিয়েছিলাম কিন্তু আর দেখা হয়নি। ভালো থাকবেন গুরু, খুব ভালো থাকবেন।

সাংবাদিক ও কলামিস্ট
খোরশেদ মাহমুদ
ইউনিট প, হেমার্স্কাল, সাউথ আফ্রিকা