ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

স্কুল ফাঁকি দেওয়ার মজাটা আলাদা। এখন টের পাচ্ছি। আজ পেটে বুডুর-বাডুর, কাল বোমি, পরশু মাথার ভিতরে পেট ব্যাদনা কত যে কি! বাহানা ধরতাম স্কুল ফাঁকি দেওয়ার জন্য। বাড়ি হতে চাচাতো জেটাতো ভাই, পথি মধ্যি অন্যরা মিল দল ফাঁকিয়ে কাঁচা মেঠো পথে খালি পা সুপারি গাছের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা আঁকা বাঁকা রাস্তা হেটে ছুটতাম স্কুলে। থমকে দাঁড়াতাম বারবার। পায়ের গতি ধীর হতো, পেট হতে শুরু করে বুক পর্যন্ত এক অবর্ননীয় ব্যাথা বয়ে যেত যদি দেখতাম একটি বা বিজোড় শালিক পাখি। তখন বুঝা শেষ হয়ে যেত আজ হয়তো স্কুলে খবর আছে আমার। বেতাঘাত বা কুমড়া চেঙ্গিতে মনে হয় শেষ হয়ে যাবো।

আবার এক দুই বা জোড়া শালিক দেখলে তিনাধিন নাচতে নাচতে স্কুলে গিয়ে পৌঁছতাম। ভাবতাম জোড়া শালিক দেখো আর স্কুলে আনন্দে হাঁটো। এই সময়টা এসে এখন ঠিকি বুঝি ওসব কুসংস্কারে ভরা ছিল।

দেখা যেত যেদিন এক বা বিজোড় শালিক দেখলাম তো সেদিনই স্কুলে বিনা মাইরে ভালোই কাটতো। আর যেদিন জোড়া শালিক দেখতাম সেদিন প্রথম ক্লাশে নাম ডাকার পরেই স্যার আমাকে পড়া জিজ্ঞেস করতেন। আর আমার বোঝা শেষ হতো যে আজ জমের বাড়ি আমার যেতেই হবে। যাই হোক স্কুলের সে দিনগুলো আমার এখনো ভীষণ মনে পড়ে, মনে পড়ে রুবু, রুমা বন্ধুদের কথা। মনে পড়ে কি আমাকেও তোদের?

একটা কথা কি জানেন? বাস্তব জীবনে এসে এখনো যদি একটি বা বিজোড় শালিক দেখি তখন আমার প্রাণ কাঁদে, মন কাঁদে। কষ্ট লাগে শালিকটির জন্য যাকে রেখে তার সঙ্গীটি চলে গেছে!

আচ্ছা, চলে যাওয়া সঙ্গীটি কি ছেলে না মেয়ে ছিল? তার কোন কষ্ট হয়নি? সে কি তার ভুল বুঝতে পেরে খুঁজে ফিরে তার রেখে যাওয়া সঙ্গীটিকে?

সে প্রশ্নের উত্তর আজো খুঁজি!