ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

 
কবরের ভিতরে শুয়ে থেকে ছবি তোলাকবরের ভিতরে শুয়ে থাকা ছবি কমেন্ট

আমার কাছে ফেসবুক কোন চলচাতুরীর মাধ্যম নয়, নয় নিজকে বিকারগ্রস্ত প্রকাশ করা। এটা আমার কাছে একটা সোশ্যাল মাধ্যম ছাড়াও বেশি কিছু। আমার ভালো লাগেনা তো আমি ফেসবুক খুলি, আমার ভালো লাগে তো ফেসবুক খুলি, আমার বিরক্ত লাগে তো ফেসবুক খুলি। মানে আমার সময়গুলো পরিচিতদের সাথে ভাগাভাগি করে নেই, যেমন করা দরকার। তারমানে এ নয় যে আমি আমার মাতলামিটাকেও সেখানে ফুটিয়ে তুলবো। গাছের চিকন ডালে বসে সেলফি তুলবো আর সেলফি লোড হওয়ার পর গাছের ডাল ভেঙ্গে মাটিতে পড়ে হাত ভেঙ্গে হাসপাতালে গিয়ে জ্ঞান ফিরে পেয়ে আরেকখান সেলফি দিবে! দোস্ত আগের সেলফিখান তুলে লোড দিয়ে নিচে পড়ে গেছি, আমার জন্য দোয়া করিও। আর চিকিৎসা রেখে কতক্ষণ পরপর দেখবে আগের না পরের সেলফিতে লাইক বা কমেন্ট বেশি পড়েছে।

আর গতরাত প্রায় ১২টা। একজনের স্ট্যাটাস দেখে তো আমি পুরা থ! এলাকার লোক। ভাবলাম কি ব্যাপার ওরে কবরে শুয়িয়ে আবার কে ছবি তুললো? তো ওর গায়ে সাদা কাপড় কই? পরে ছবির সাথে ক্যাপশন পড়ে তার ছবিটা বড় করে দেখে আমি তাজ্জাব বনে গেলাম। একি চোখও খোলা! তাজ্জব বন হতে ফিরে এলাম কিন্তু ততক্ষণে আমার শরীরের লোমগুলো ভয়ে শিহরে উঠলো। ও আল্লাহ একি? এরা মৃত্যুকে নিয়েও দুষ্টামি করে? কবরে জীবিত শুয়ে বেহেস্ত চায়, তাও আবার ফেসবুকে?

অথচ আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (স.) এর রুহ নেওয়ার আগে আজরাইল (আ.) অনুমতি নিয়ে এরপর নবীজির রুহ নেওয়া শুরু করেছিলেন। আমাদের নবীকে তখন অনেক ঘামাচ্ছিলো। আজরাইল (আ.) বলেছেন হে আল্লাহ ফেয়ারী বন্ধু, পৃথিবীর সবচেয়ে কম মৃত্যু যন্ত্রনা একমাত্র আপনাকে দেওয়া হচ্ছে। নবী (স.) বললেন হে আজরাইল এর চেয়ে কষ্ট আর পৃথিবীতে কিছু নেই বলে আমার মনে হয়। আজরাইল তুমি মৃত্যুর সকল যন্ত্রনা আমাকে দাও তবুও আমার উম্মুতকে মৃত্যুর সময় এ কষ্ট দিওনা।

যা বলতে চাচ্ছি সে রকম একটা মৃত্যুকে নিয়ে ফেসবুকে অন্যের জন্য খোড়া কবরে নিজে শুয়ে ছবি তুলে আপলোড দিয়ে কি লাভ কেউ কি বলতে পারবেন? যদি এমন হতো যে সে ছবি তোলার জন্য শুয়ে কবর হতে আর উঠতে পারলোনা তবে কেমন হতো? এমন জীবনে বহু শুনেছি যে যারা মৃত্যুকে নিয়ে মজা করেছে তারা ঐ মুহূর্তেই মৃত্যুর থাবায় আবদ্ধ হয়েছে। কী করে মানুষ নিঃশ্বাসকে বিশ্বাস করে? কী করে মানুষ এমন পাগলামি করে? দাদার জন্য কবর খুঁড়ে নিজে সে কবরে শুয়ে ছবি তোলে শুধু ফেসবুকে আপলোড করার জন্য!

আমরা কাছে ফেসবুক একটা সম্পদ যা আমার রুচি, ধর্ম, দর্শন ও আদর্শ বহন করে এবং সামাজিক, মানবিক ও প্রতিবাদ করার একটা উত্তম মাধ্যম ফেসবুক।